কোরবানি : ত্যাগের মহিমার স্বরূপ
ক রব ন – ইতিহাসে মানুষের মধ্যে সামাজিক কর্মের মধ্যে একটি প্রধান বিষয় হলো ত্যাগের প্রকাশ। কোরবানি কেবল পশু জবাইয়ের ব্যবস্থা নয়; বরং ইসলাম মুসলমানদের কাছে আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রতি বিনিয়োগ করা হওয়া একটি নির্মল ইবাদত। এ নিয়ে ঈদুল আজহার উৎসবে বিশেষ মর্যাদা রয়েছে কারণ এর মধ্যে হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর নিষ্ঠার ও হজরত ইসমাইল (আ.)-এর আত্মসম্মানের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়।
পবিত্র কোরআনের উপদেশ
সুরা কাউসার হতে ইরশাদ হয়েছে, ‘তুমি প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করো এবং কোরবানি করো।’ (২: সুরা কাউসার) এ আয়াত দেখায় যে কোরবানি কেবল আনুষ্ঠানিক কর্ম নয়; বরং এটি সত্য ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পশু কোরবানি মাধ্যমে মানুষের আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করে কোরবানি কেবল সামাজিক প্রথার মধ্যে রয়েছে না; বরং আল্লাহর দরবারে মর্যাদার প্রতি প্রকাশ করে।
‘যার সামর্থ্য আছে অথচ সে কোরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটবর্তী না হয়।’ (ইবনে মাজাহ)
রসুলুল্লাহ (সা.) এর হাদিস কোরবানির গুরুত্ব বৃদ্ধি করে। আল্লাহ সর্বপ্রথম হতে হবে তাঁর কাছে প্রিয় হওয়া পশু জবাই করা। এখানে নিহিত রয়েছে আত্মত্যাগ ও ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা। আয়াত সুরা হজ্জ হতে উপস্থিত হয়েছে, ‘তোমাদের তাকওয়া পৌঁছে গেছে তাদের গোশত ও রক্ত।’ (৩৭: সুরা হজ্জ) এ দুটি তথ্য কোরবানির মূল মূল্যবোধ স্পষ্ট করে তুলে ধরে।
শর্তগুলি কোরবানি কবুল হওয়ার জন্য
কোরবানি গ্রহণ করার জন্য শর্ত রয়েছে চারটি মৌলিক বিষয়। প্রথমত একনিষ্ঠতা করতে হবে বিনা দ্বিধার কোরবানি করার জন্য। যদি মানুষ অহংকার ও সামাজিক মর্যাদা দেখানোর জন্য কোরবানি করে, তবে তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। দ্বিতীয়ত কোরবানি হালাল উপার্জন দ্বারা হয়। হারাম সম্পদের ব্যবহার করলে ইবাদত গৃহীত হবে না। তৃতীয়ত পশু নির্দিষ্ট বয়সে ও ত্রুটির অভাবে হতে হবে। অসুস্থ বা অপ্রাণ পশু কোরবানির জন্য বিশেষ করে উপযুক্ত নয়। চতুর্থত শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে কোরবানি করতে হবে।
কোরবানির মাধ্যমে মানুষ নিজের প্রিয় বস্তু হতে বিদায়
