Bangladesh

ধানুড়া বালিকা বিদ্যালয়: দুটি ভবন ভেঙে বিক্রি জানে না প্রশাসন

khrisna-edit-1788220888-7991a57515

নাটোরের গুরুদাসপুরে বিদ্যালয়ের ভবন ভেঙে বিক্রি: প্রশাসন জড়ো হয়েছে, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে চিঠির প্রক্রিয়া চলছে

Patrikajournal.com – ধ ন ড় ব ল ক ব – নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলায় একটি সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের দুটি ভবন ভেঙে ইট-রডসহ সব উপকরণ বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে প্রশাসন এখন সরব। চাপিলা ইউনিয়নের ধানুয়া বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীরের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের ঢেউ ছড়িয়ে পড়লেও দীর্ঘদিন কেউ মুখ খোলেননি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনিক কর্তারা বিষয়টি নিয়ে জড়ো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রধান শিক্ষককে জবাবদিহি চিঠি পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

দুই মাস ধরে প্রকাশ্যে ভাঙা ভবন, হাতিয়ে নেওয়া লাখ লাখ টাকা

স্থানীয়দের দাবি, প্রায় দুই মাস ধরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নতুন ও পুরোনো দুটি ভবন ধাপে ধাপে ভাঙা হয়েছে। ভাঙা ইট, রড এবং অন্যান্য নির্মাণ উপকরণ বিক্রি করে প্রধান শিক্ষক ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ। স্থানীয়রা আরও বলেন, প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি উভয়েই সরকারি রাজনৈতিক দলের সমর্থনপ্রাপ্ত হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাননি। গ্রুপিং রাজনীতির এই প্রভাবই ছিল প্রতিবাদের প্রধান বাধা বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

জাকাত অর্থের নির্মিত ভবন, চারতলা ভিতের অনুমোদন

বিষয়টির পেছনের প্রেক্ষাপট জানতে গেলে ২০২৩ সালের দিকে ফিরতে হয়। ওই বছর গুরুদাসপুর উপজেলা পরিষদের সুপারিশে জাকাত তহবিলের অর্থ থেকে ২২ লাখ টাকা খরচ করে চাপিলা ইউনিয়নের ধানুয়া বালিকা বিদ্যালয়ে একটি একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। নারীশিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে এই ভবন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে চারতলা ভিতবিশিষ্ট একতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের অনুমোদন আসে। এই অনুমোদন পাওয়ার পরই প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর নতুন জাকাত-নির্মিত ভবনসহ আরেকটি আধা পাকা পুরোনো ভবন ভেঙে বিক্রি করে দেন। সরকারি নীতিমালায় এই ধরনের কাজের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন আবশ্যক, কিন্তু সেটি পাওয়া যায়নি বলেই অভিযোগ।

সরেজমিনে যা দেখা গেল

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, জাকাত অর্থের নির্মিত একতলা ভবনের কোনো অস্তিত্ব আর নেই। ভবনের পিলারের জন্য খনন করা গর্তগুলো এখনও মাটিতে খোলা অবস্থায় পড়ে আছে। পুরোনো আধা পাকা ভবনটিরও কোনো চিহ্ন নেই। অর্থাৎ দুটি ভবনই সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং তাদের উপকরণ বাজারে বিক্রি হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের ও সাবেক নেতাদের মন্তব্য

স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সামসুল হক বলেন, প্রকাশ্যে প্রায় দুই মাস ধরে এই বিদ্যালয়ের ভবন ভাঙা হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন যে গ্রুপিং রাজনীতির কারণে তিনি প্রতিবাদ করেননি। তবে কাজটি ঠিক ছিল না বলে মনে করেন তিনি।

প্রকাশ্যে প্রায় দুই মাস ধরে বিদ্যালয়ের ভবন ভাঙা হয়েছে। গ্রুপিং রাজনীতির কারণে প্রতিবাদ করেননি। কাজটি ঠিক ছিল না বলে মনে করি। — সামসুল হক, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান

প্রধান শিক্ষকের জবাব

অভিযোগ স্বীকার করে প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজের সহায়তায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে চারতলা ভিতবিশিষ্ট একতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। নতুন ভবনটির অনুমোদন পাওয়ার পর আগের একতলা ভবনসহ পুরোনো ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, বিদ্যালয়ের জমি সংকটের কারণে এই পদক্ষেপে বাধ্য হয়েছেন। সময়সীমার কারণে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে পারেননি বলে জানান তিনি।

স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহায়তায় নতুন একতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। নতুন ভবনের অনুমোদন পাওয়ার পর আগের ভবনসহ পুরোনো ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। জমি সংকটের কারণে এটি করতে বাধ্য হয়েছি। — মো. আলমগীর, প্রধান শিক্ষক

প্রধান শিক্ষক দাবি করেন, মাইকিং করে একজন দরদাতার কাছে প্রায় ১ লাখ টাকায় নতুন ও পুরোনো ভবন দুটি বিক্রি হয়েছে। তবে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির রেজল্যুশন দেখাতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।

পরিচালনা কমিটির অবস্থান

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির (অ্যাডহক) বর্তমান সভাপতি রনি আহম্মেদ মোবাইল ফোনে জানান, দেড়-দুই মাস ধরে দায়িত্বে আছেন তিনি। ভবন ভেঙে বিক্রির বিষয়টি তাঁর জানা নেই। দায়িত্ব প্রধান শিক্ষকের বলে জানান তিনি। সাবেক সভাপতি মোতালেব হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ে নতুন ভবন হবে—এ কারণে জমির মাপজোখ নিয়ে মিটিং হয়েছিল। তবে ভবন ভাঙা হয়েছে কি না, নীতিমালা প্রণয়ন হয়েছে কি না, কত টাকায় বিক্রি হয়েছে এবং সেই অর্থ কোথায় কীভাবে ব্যয় হয়েছে—এসব বিষয়ে প্রধান শিক্ষককেই জিজ্ঞাসা করতে হবে।

প্রশাসনিক ও প্রকৌশল কর্তাদের প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী মিলন মিয়া বলেন, নারীশিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে উপজেলা পরিষদের সুপারিশে জাকাত অর্থের ২২ লাখ টাকায় ভবনটি তৈরি করা হয়েছিল। সম্প্রতি জানতে পেরেছেন ওই ভবনটি ভেঙে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়নি।

নারীশিক্ষা প্রসারের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে উপজেলা পরিষদের সুপারিশে জাকাত অর্থের ২২ লাখ টাকায় ভবনটি তৈরি করা হয়েছিল। সম্প্রতি জানতে পারি ওই ভবনটি ভেঙে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়নি। — মিলন মিয়া, উপজেলা প্রকৌশলী, এলজিইডি

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, নিয়মনীতি উপেক্ষা করেই প্রধান শিক্ষক নতুন একতলা ভবনটি ভেঙে বিক্রি করে দিয়েছেন। অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজন তিনি বোধ করেননি। প্রধান শিক্ষককে কৈফিয়ত তলব করে চিঠি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।

নীতিগত ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন, জমি বা সম্পত্তি কোনো পর্যায়েই ব্যক্তি বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের স্বাধীন সিদ্ধান্তে বিক্রি বা ভাঙা যায় না। এজন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল অধিদপ্তরের সমন্বিত অনুমোদন আবশ্যক। জাকাত তহবিলের অর্থ দিয়ে নির্মিত ভবন বিশেষভাবে সংরক্ষিত সম্পদ হিসেবে গণ্য হয়, কারণ এটি জনগণের কর বা তহবিল থেকে আসে। তাই এই ধরনের ভবন ভাঙা বা বিক্রি করা মানে হলো জনসম্পদে হস্তক্ষেপ—যা আইনত গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এছাড়া, নতুন ভবন নির্মাণের অনুমোদন পাওয়া মানেই পুরোনো বা বিদ্যমান ভবন ভাঙার স্বয়ংক্রিয় অনুমোদন নয়। প্রতিটি ধাপে আলাদা করে অনুমোদন, নীতিমালা প্রণয়ন এবং পরিচালনা কমিটির রেজল্যুশন প্রয়োজন। এই প্রক্রিয়াটি এড়িয়ে যাওয়া হলে কাজটি অবৈধ বলে ধ

Frequently Asked Questions

What is ধ ন ড় ব ল ক ব?

ধ ন ড় ব ল ক ব is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ধ ন ড় ব ল ক ব matter?

ধ ন ড় ব ল ক ব matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *