ঝিনাইদহে চাচাতো ভাইয়ের কুপীতে কৃষকের এক পা বিচ্ছিন্ন
Patrikajournal.com – ঝ ন ইদহ ক ষকক ক প – সন্ধ্যার আলো ম্লান হতে থাকার মুহূর্তে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার একটি গ্রামীণ এলাকায় ঘটে গেল এক ভয়ংকর ঘটনা। ছেলেকে স্কুল থেকে ফেরাতে যাওয়ার পথে এক কৃষকের ওপর চাচাতো ভাইয়ের হামলা। ধারালো কুপীর এক কোপেই তাঁর ডান পা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, আর বাম পাতেও গভীর আঘাত লাগে। ঘটনার পর আহতকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাঁর শারীরিক অবস্থা এতটাইয়া আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠে যে তাকে ঢাকায় রেফার করতে বাধ্য হয় চিকিৎসকরা।
আহত কৃষকের পরিচয় ও পরিবারের প্রেক্ষাপট
আহতের নাম আবু সোমা, বয়স ৩৬ বছর। তিনি গোৱালপাড়া গ্রামের আবু কাশেম মোল্লার ছেলে এবং পেশায় একজন কৃষক। তাঁর স্ত্রীর নাম বিউটি খাতুন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আবু সোমার ছেলে সন্ধ্যার আগে বাসার পাশেই অবস্থিত গোৱালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে খেলছিল। স্কুলের মাঠে সন্ধ্যার কাজ শেষ হওয়ার পর ছেলেকে ডাকতে স্কুলের দিকে হাঁটছিলেন আবু সোমা। ঠিক সন্ধ্যা ছয়টার দিকে স্কুলের কাছাকাছি পৌঁছানোর সময়ই তাঁর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
পরিবারের বর্ণনা অনুযায়ী, এই হামলার পেছনে দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও নেশার প্রশ্ন জড়িত। আবু সোমার চাচাতো ভাই মামুন মোল্লা প্রাথমিকভাবেই নেশায় আসক্ত ছিলেন। তিনি স্ত্রীকে মারধর করতেন এবং পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়তেন। এসব কাজে আবু সোমা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বাধা দিতেন। এই বাধার প্রতিশোধমূলক উদ্দেশ্যেই মামুন ধারালো অস্ত্র হাতে অপেক্ষা করে ছিলেন বলে স্থানীয়দের বক্তব্য।
হামলার মুহূর্ত ও পরবর্তী ঘটনা
স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যমতে, আবু সোমা স্কুলের নিকটবর্তী স্থানে পৌঁছানোর আগে থেকেই মামুন মোল্লা ওৎ পেতে ছিলেন। আবু সোমাকে দেখেই তিনি ধারালো কুপী দিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালালেন। প্রথম কোপেই আবু সোমার ডান পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, আর পরবর্তী আঘাতে বাম পাতেও গুরুতর ক্ষতি হয়। আশপাশের স্থানীয়রা দৌড়ে এলে মামুন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
আহতের স্ত্রী বিউটি খাতুন অভিযোগে বলেন,
“মামুন আমার স্বামীর চাচাতো ভাই। তিনি প্রাথমিকভাবেই নেশা করতেন এবং স্ত্রীকে মারধরসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়াতেন। এসব কাজে আমার স্বামীসহ পরিবারের অন্যরা বাধা দিতেন। এই নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়েই মামুন আমার স্বামীকে কুপী দিয়ে গুরুতর আহত করেছেন।”
চিকিৎসার পরিস্থিতি ও রেফার
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা আবু সোমাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পৌঁছে দেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ফারিহা তাহসিন জানান,
“আহত আবু সোমার শরীর থেকে ডান পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বাম পাতেও ধারালো অস্ত্রের কয়েকটি আঘাত রয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল একটি উপজেলা পর্যায়ে অবস্থিত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান। এ ধরনের হাসপাতালে পা-বিচ্ছিন্ন আঘাতের পরবর্তী পুনরুদ্ধার বা প্রোস্থেটিক চিকিৎসার সুবিধা সীমিত। তাই গুরুতর অঙ্গ-বিচ্ছিন্ন আঘাতে আক্রান্ত রোগীদের ঢাকার বিশেষায়িত হাসপাতালে রেফার করা হয়। পঙ্গু হাসপাতাল বাংলাদেশে অঙ্গ-বিচ্ছিন্ন আঘাত ও পুনরুদ্ধার চিকিৎসার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।
পুলিশের তদন্ত ও অভিযুক্তের পলাতক অবস্থা
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, প্রাথমিক তদন্তে বোঝা গেছে পারিবারিক বিরোধের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত মামুন মোল্লা নেশায় আসক্ত ছিলেন এবং এর আগে স্থানীয় বাজারের একটি দোকানে চুরির মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। হামলার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। তাঁকে ধরতে পুলিশের অভিযান চলমান।
গ্রামীণ বাংলাদেশে পারিবারিক সম্পর্কের ভেতর থেকেই এমন তীব্র সহিংসতা ঘটার ঘটনা বিরল নয়। নেশার প্রভাব, সম্পত্তি-সম্পর্কিত বিরোধ, এবং পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভ — এসব মিলে এক মুহূর্তের প্রতিক্রিয়ায় রূপ নেয়। এই ঘটনায় আবু সোমার পরিবার এখন দুটি প্রশ্নের মুখোমুখি: একদিকে চিকিৎসার অর্থনৈতিক বোঝা, অন্যদিকে অপরাধীর গ্রেপ্তার ও ন্যায়বিচারের অপেক্ষা। স্থানীয় সমাজে এই ঘটনার পর পরিবারের মধ্যে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কী রূপ নেবে, তাও এখন প্রশ্নবিদ্ধ।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ঝ ন ইদহ ক ষকক ক প?
ঝ ন ইদহ ক ষকক ক প is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ঝ ন ইদহ ক ষকক ক প matter?
ঝ ন ইদহ ক ষকক ক প matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

