Bangladesh

গ্রাহকের প্রায় অর্ধকোটি টাকা নিয়ে পিডিবিএফ কর্মী উধাও, অফিস ঘেরাও

kmllr-dbdbr

দেবিদ্বারের পিডিবিএফ কার্যালয় ঘেরাও: মাঠকর্মীর হাত থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ফেরতের দাবিতে শতাধিক গ্রাহকের প্রতিবাদ

Patrikajournal.com – গ র হক র প র য় – কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের একটি শাখা কার্যালয়ের সামনে বুধবার দুপুরে জড়ো হয়েছিলেন শতাধিক গ্রাহক। তাঁদের হাতে ছিল একটাই দাবি — বছরের পর বছর কষ্টার্জিত টাকা জমা দেওয়ার পর মাঠকর্মীর হাত থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ফেরত পাওয়া। দেবিদ্বার-চান্দিনা সেক্টরের এএসপি সার্কেল দেবিদ্বার কার্যালয়ের পাশেই পিডিবিএফের দেবিদ্বার শাখা অবস্থিত। ২ সেপ্টেম্বর দুপুরে এই স্থানেই অবস্থান নেন ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা, সংস্থার কাছ থেকে টাকা ফেরতের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা চাইতে।

পিডিবিএফ কীভাবে কাজ করে এবং গ্রাহকেরা কীভাবে জড়িত

পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের একটি সরকারি আধা-রাজস্বায়িত সংস্থা, যার মূল উদ্দেশ্য গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচন। দেশের বিভিন্ন গ্রামে সমিতি গড়ে এই সংস্থা সদস্যদের থেকে সঞ্চয় সংগ্রহ করে এবং সেই সঞ্চয়ের ভিত্তিতে ছোট ঋণ প্রদান করে। দেবিদ্বারের ক্ষেত্রে অধিকাংশ গ্রাহক গত ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে এই চক্রের ভেতরে আছেন — সঞ্চয় জমা দিচ্ছেন, ঋণ নিচ্ছেন, পরিশোধ করছেন। অনেকেই এফডিআর (ফিক্সড ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট) পথেও সঞ্চয় জমা করেছেন। এই দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ফলে গ্রাহকদের মাঠকর্মীর সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ গভীর হয়ে যায়, যা পরবর্তীতে বিশ্বাসের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

অভিযোগের মূল বিন্দু: ঋণের নামে জমা সংগ্রহ

গ্রাহকদের মূল অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিভিন্ন গ্রামের শতাধিক গ্রাহককে এক থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। সেই প্রস্তাবের সঙ্গে যুক্ত ছিল ১০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয় বা জামানত জমার শর্ত। টাকা হাতে নেওয়ার পর ঋণ প্রদানের কথা বলে গ্রাহকদের দিনের পর দিন অপেক্ষায় রাখা হয়। অভিযুক্ত মাঠকর্মী মো. শাহজাহান আলী প্রায় আট বছর ধরে এই অঞ্চলের গ্রাহকদের সঙ্গে লেনদেনের সরাসরি যোগাযোগে ছিলেন, তাই তাঁর সঙ্গেই গ্রাহকদের সবচেয়ে বেশি সম্পর্ক গড়েছিল।

একজন গ্রাহকের বক্তব্য

শিরিন আক্তার নামে এক গ্রাহক ঘটনার বিস্তারিত জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য:

পিডিবিএফের মাঠকর্মী শাহজাহান আমাকে তিন লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার কথা বলে জামানত হিসেবে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা নেন। আমার পুরোনো বইয়ে ওই টাকার হিসাবও লিখে দেন। পরে বিষয়টি নিশ্চিত হতে ফিল্ড অফিসার হৃদয় দাসকে বইটি দেখালে তিনিও হিসাব ঠিক আছে বলে জানান।

গতকাল ম্যানেজারকে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, পুরোনো বইয়ে হিসাব থাকবে না, বর্তমান বই দেখাতে হবে। ওই টাকা তাঁদের দপ্তরে জমা হয়নি বলেও জানান তিনি। এরপর শাহজাহান আলীর বিরুদ্ধে দেবিদ্বার থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।

শিরিন আক্তার জানান, অভিযোগ দায়েরের পর শাহজাহান আলী পালিয়ে যান। তিনি ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ডু উপজেলার সরাতো গ্রামের মো. লিটাকত আলীর ছেলে।

ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পরিস্থিতি

প্রাথমিক অভিযোগের পর ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়লে আরও প্রায় অর্ধশত গ্রাহক পিডিবিএফ কার্যালয়ে এসে নিজ নিজ টাকা ফেরতের দাবি জানান। একাধিক ভুক্তভোগী গ্রাহকের সমন্বিত অভিযোগে দেখা যায়, ঋণের জমা টাকা, ব্যক্তিগত সঞ্চয় এবং এফডিআরের টাকা মিলিয়ে শতাধিক গ্রাহক সংস্থাটিতে অর্ধকোটি টাকার বেশি জমা দিয়েছেন। গ্রাহকদের দাবি, মাঠকর্মী শাহজাহান এসব টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন।

গ্রাহকদের আরও অভিযোগ, টাকা ফেরতের বিষয়ে পিডিবিএফ কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে শাখা ব্যবস্থাপক উম্মে সুবাইদা তাঁদের অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে শুনছেন না। বরং যাঁকে টাকা দিয়েছেন, তাঁর কাছে গিয়ে টাকা চাইতে এবং প্রয়োজনে মামলা করতে বলা হচ্ছে। এই অবস্থানে ক্ষোভ প্রকাশ করে গ্রাহকেরা কষ্টার্জিত টাকা ফেরত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরেন।

অভিযুক্ত কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি

অভিযুক্ত মাঠকর্মী শাহজাহান আলীর ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।

সংস্থার প্রতিক্রিয়া

পিডিবিএফের দেবিদ্বার কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক পারভিন আক্তারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কিছুই জানি না। অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য সপ্তাহে দুই দিন এখানে অফিস করি। আপনারা আমাদের জেলার ডিডি স্যারের সঙ্গে কথা বলুন।’

দেবিদ্বার শাখার ব্যবস্থাপক উম্মে সুবাইদা মুঠোফোনে জানান, ‘ঘটনার বিষয়ে আমরা তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছি। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রতিবেদন হেড অফিসে পাঠানো হবে।’

পিডিবিএফের কুমিল্লা রিজিওনের উপপরিচালক (ডেপুটি ডিরেক্টর) মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘একাধিক ভুক্তভোগী গ্রাহকের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

গ্রামীণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিশ্বাসের সংকট

পিডিবিএফ-সহ বিভিন্ন সরকারি আধা-রাজস্বায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ অর্থনীতির মূল স্তম্ভ হিসেবে কাজ করে, যেখানে ব্যাংকিং সেবা না পাবার কারণে গ্রামের মানুষ সরাসরি মাঠকর্মীর হাতেই টাকা জমা দেয়। এই সরাসরি সম্পর্ক সুবিধা দেয়, কিন্তু একই সঙ্গে ঝুঁকিও তৈরি করে — কারণ কর্মীর ব্যক্তিগত আচরণই প্রতিষ্ঠানের মুখ হয়ে যায়। দেবিদ্বারের ঘটনা এই ধরনের বিশ্বাস-ঝুঁকির একটি তীব্র উদাহরণ। তদন্ত কমিটির কাজ কত দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়, তাই এবার গ্রাহকদের দৃষ্টিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

Frequently Asked Questions

What is গ র হক র প র য়?

গ র হক র প র য় is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does গ র হক র প র য় matter?

গ র হক র প র য় matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *