Bangladesh

ঢাবিতে গ্যাস-সংকট: খাবারের মান কমেছে, উল্টো বেড়েছে দাম

du-canteen

গ্যাসের ঘাটতিতে ঢাবির ক্যানটিনে চাপ, লাকড়ির রান্নায় বাড়ছে খরচ

Patrikajournal.com – ঢ ব ত গ য স স – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল, টিএসসি এবং ডাকসু ভবনসংলগ্ন কয়েকটি খাবারের প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় দৈনন্দিন কার্যক্রমে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। রান্নাঘরে গ্যাসের বদলে লাকড়ির চুলা ব্যবহার করতে হচ্ছে, ফলে খাবার প্রস্তুতে সময় বাড়ছে এবং জ্বালানি খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের খাবারের মূল্য, পদের বৈচিত্র্য, পরিমাণ ও মানের ওপর।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ক্যানটিন ও ক্যাফেটেরিয়াগুলো শুধু খাবার বিক্রির স্থান নয়; সীমিত বাজেটে থাকা বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর নিয়মিত খাবারের প্রধান ভরসা। তাই রান্না দেরিতে শুরু বা শেষ হলে ক্লাস, পরীক্ষা, লাইব্রেরির কাজ কিংবা অন্যান্য জরুরি ব্যস্ততার মধ্যে থাকা শিক্ষার্থীদের সময়সূচিও বিঘ্নিত হচ্ছে। অনেকের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়েও সব খাবার পাওয়া যাচ্ছে না।

লাকড়ির চুলায় সময় ও ব্যয় দুটোই বেশি

গ্যাসের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে হল ক্যানটিনগুলোর রান্নাঘরে লাকড়ির ব্যবহার বেড়েছে। এই পদ্ধতিতে আগুন জ্বালানো, তাপ নিয়ন্ত্রণ এবং বড় পরিসরে রান্না—সবই তুলনামূলক বেশি সময়সাপেক্ষ। একই সঙ্গে প্রতিদিনের বাড়তি জ্বালানি কিনতে গিয়ে পরিচালকদের ওপর আর্থিক চাপ পড়ছে।

সূর্যসেন হল ক্যানটিনের পরিচালক মোহাম্মদ আলী রাজু জানান, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার টাকার লাকড়ি দরকার হচ্ছে। সাধারণ সময়ে গ্যাসের ব্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয় বা হল প্রশাসনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হলেও লাকড়ির এই অতিরিক্ত ব্যয় ক্যানটিন কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হচ্ছে।

“প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার টাকার লাকড়ি প্রয়োজন হচ্ছে।”

একই ক্যানটিনের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মামুন বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে কয়েকটি খাবারের দাম প্রতিটিতে পাঁচ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। তবে সব খাবারের মূল্য একসঙ্গে না বাড়িয়ে সীমিত পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্যয় নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। সংকট চলমান থাকলে জ্বালানি খাতে হল প্রশাসনের ভর্তুকি প্রয়োজন বলেও তিনি মনে করেন।

“লাকড়ির বাড়তি খরচ সামাল দিতে এক-দুটি খাবারের দাম পাঁচ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে।”

মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের ক্যানটিনের পরিচালক তৌহিদের ভাষ্য, প্রায় এক মাস ধরে গ্যাসের সমস্যার কারণে প্রতিদিন দুই থেকে তিন মণ লাকড়ি ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে মাসিক ব্যয় বাড়ছে প্রায় ৭০ হাজার টাকা। এমন অতিরিক্ত খরচ দীর্ঘদিন ধরে বহন করা ছোট পরিসরের ক্যানটিন পরিচালনার জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

খাবারের তালিকা ও সময়সূচিতে প্রভাব

গ্যাস-সংকটের চাপ শুধু আবাসিক হলেই সীমাবদ্ধ নেই। ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের টিএসসি ক্যাফেটেরিয়াতেও এর প্রভাব দেখা গেছে। কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি এ বিষয়ে নোটিশ দিয়েছে। ডাকসু ভবনের নিচতলায় থাকা কলাভবন ক্যাফেটেরিয়াতেও একই ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে।

রান্না শেষ করতে বেশি সময় লাগায় কোথাও কোথাও সকাল বা দুপুরের নির্ধারিত সময়ে খাবার পরিবেশন সম্ভব হচ্ছে না। আবার আগে নিয়মিত পাওয়া যেত এমন সব পদ প্রতিদিন রাখা যাচ্ছে না। খাবারের পরিমাণ কমে যাওয়া বা মানে পরিবর্তনের আশঙ্কাও শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ প্রতিদিনের খাবারের জন্য হল ক্যানটিন ও সাশ্রয়ী ক্যাফেটেরিয়ার ওপর নির্ভরশীল। ফলে সামান্য মূল্যবৃদ্ধিও তাদের মাসিক ব্যয়ের হিসাবকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে যাদের ক্লাসের ফাঁকে অল্প সময়ের মধ্যে খাবার খেয়ে ফিরতে হয়, তাদের জন্য প্রস্তুতিতে বিলম্ব বাড়তি দুর্ভোগ ডেকে আনছে।

ভর্তুকির দাবি ও প্রশাসনের উদ্যোগ

ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ বলেন, গ্যাস না থাকায় লাকড়ি দিয়ে রান্না করায় ক্যানটিনগুলোর ব্যয় বেড়েছে। এর ফল বিভিন্ন স্থানে ভিন্নভাবে দৃশ্যমান হতে পারে—কোথাও দামে, আবার কোথাও খাবারের পরিমাণ বা গুণগত মানে। ক্যানটিনগুলোকে সহায়তা দিতে প্রশাসনের কাছে ভর্তুকির কথা বলা হয়েছে।

“গ্যাস সংকটের কারণে লাকড়ি দিয়ে রান্নার ফলে ক্যানটিনগুলোতে রান্নার খরচ বেড়েছে। এর প্রভাব কোথাও খাবারের দামে, কোথাও পরিমাণ ও মানে পড়তে পারে।”

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার বিষয়ে তিতাস কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী কাজী আকরাম হোসেন। তিনি বলেন, সমস্যাটি আগেও একাধিকবার জানানো হয়েছে। তবে এটি জাতীয় পর্যায়ের সংকট হওয়ায় কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে পুরো পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

“এটি জাতীয় সমস্যা হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একক উদ্যোগে এর পূর্ণাঙ্গ সমাধান সম্ভব নয়।”

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে হল ক্যানটিনে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি প্রকৌশল দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। সংকট আরও তীব্র হলে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়াই ক্যানটিন ও ক্যাফেটেরিয়াগুলোর জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয়। ততদিন পর্যন্ত জ্বালানি ব্যয়ের চাপ কমাতে প্রশাসনিক সহায়তা এবং রান্নার সময়সূচি নিয়ে কার্যকর সমন্বয় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কিছুটা কমাতে পারে।

Frequently Asked Questions

What is ঢ ব ত গ য স স?

ঢ ব ত গ য স স is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ঢ ব ত গ য স স matter?

ঢ ব ত গ য স স matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *