গাংনীর কামারখালী সড়কে গাছ ফেলে মাইক্রোবাসে ডাকাতির অভিযোগ
Patrikajournal.com – গ ন ত গ ছ ফ ল – মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কামারখালী সড়কে গভীর রাতে গাছ ফেলে একটি মাইক্রোবাস থামিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীদের ভাষ্য, দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে গাড়িতে থাকা নারী, শিশু ও পুরুষদের জিম্মি করে রাখে ডাকাতেরা।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে মটমুড়া ইউনিয়নের কামারখালী সড়কে ঘটনাটি ঘটে। কুষ্টিয়া থেকে রোগী দেখে ফেরার সময় মাইক্রোবাসটি ওই পথে পৌঁছালে বাধার মুখে পড়ে। গাড়িটিতে ১২ থেকে ১৩ জন যাত্রী ছিলেন বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
রাস্তা আটকে মাইক্রোবাস ঘিরে ফেলে দুর্বৃত্তরা
যাত্রীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে, সড়কের ওপর গাছ ফেলে যানবাহনের পথ বন্ধ করা হয়। মাইক্রোবাসটি থামার পর মুখ বাঁধা কয়েকজন ব্যক্তি চারপাশ থেকে সেটি ঘিরে ফেলে। তাদের হাতে হাঁসুয়া, রামদা ও তলোয়ার ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী কামরুল ইসলাম জানান, রোগী দেখে বাড়ি ফেরার সময় হঠাৎ সড়কে গাছ পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। গাড়ি থামাতেই ডাকাতেরা নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং কথা বললে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। শিশুদেরও ভয় দেখানো হয় বলে তাঁর অভিযোগ।
“আমরা কুষ্টিয়া থেকে রোগী দেখে মাইক্রোবাসে কামারখালী সড়ক দিয়ে বাড়ি ফিরছিলাম। এ সময় ডাকাতেরা রাস্তায় গাছ ফেলে আমাদের গতিরোধ করে। তারা প্রথমে আমাদের ও শিশুদের গলায় হাঁসুয়া ধরে। কথা বললে জবাই করে দেওয়ার হুমকি দেয়। এরপর আমাদের কাছে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে নেয়। তবে মোবাইল ফোনগুলো ফেরত দেয়।”
কামরুল ইসলাম আরও বলেন, তাঁর কাছ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। টাকা ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করেও কোনো ফল হয়নি। তবে যাত্রীদের মোবাইল ফোন ডাকাতেরা নিয়ে যায়নি বলে তিনি জানান।
“ডাকাতদের কাছে হাঁসুয়া, রামদা ও তলোয়ার ছিল। তাদের মুখও বাঁধা ছিল। আমার কাছে ২ হাজার ৫০০ টাকা ছিল। অনুরোধ করেও টাকা ফেরত পাইনি।”
বোমা মারার হুমকির অভিযোগ
মাইক্রোবাসে থাকা আরেক যাত্রী মো. ইদ্রিস আলী বলেন, গাড়িটি কামারখালী সড়কে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে দুর্বৃত্তরা তাদের আটকে দেয়। এরপর গাড়ির আলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। যাত্রীরা বেশি নড়াচড়া করলে ভেতরে বোমা মারার ভয় দেখানো হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
“আমরা কুষ্টিয়া থেকে রোগী দেখে বাড়ি ফেরার পথে কামারখালী সড়কে পৌঁছালে ডাকাতেরা আমাদের গতিরোধ করে ঘিরে ফেলে। পরে গাড়ির লাইট বন্ধ করে দেয়। বেশি নড়াচড়া করলে গাড়ির ভেতরে বোমা মেরে দেওয়ার হুমকি দেয়। আমার কাছে ১০ হাজার টাকা ছিল, সেটি নিয়ে নেয়। পরে নারীদের কাছে থাকা স্বর্ণালংকারও নিয়ে যায়।”
ইদ্রিস আলীর দাবি, তাঁর কাছে থাকা ১০ হাজার টাকা নেওয়ার পাশাপাশি গাড়িতে থাকা নারীদের স্বর্ণালংকারও লুট করা হয়। ঘটনার শেষ দিকে গাড়ির চাবি ফিরিয়ে দিয়ে আলো বন্ধ রেখেই চলে যেতে বলা হয় যাত্রীদের। আতঙ্কের মধ্যে সবাই নিরাপদে সেখান থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন।
“পরে গাড়ির চাবি ফেরত দিয়ে লাইট বন্ধ করে চলে যেতে বলে। গাড়িতে আমরা ১২ থেকে ১৩ জন ছিলাম।”
সড়কে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি
স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনার পর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, কামারখালী সড়কে এর আগেও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। রাতের সময় এই পথে চলাচলকারী মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয় বলেও তাঁরা মনে করছেন।
বাসিন্দাদের দাবি, এমন অপরাধ ঠেকাতে রাতের টহল বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে তুলনামূলক নিরিবিলি সড়কগুলোতে নিয়মিত পুলিশি উপস্থিতি থাকলে যাত্রীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরি হতে পারে। গাছ বা অন্য কোনো বস্তু ফেলে সড়ক অবরোধের মতো কৌশল দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও উঠেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মটমুড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. ফারুক হোসেন। তিনি বলেন, রাত ১২টার দিকে কামারখালী সড়কে ডাকাতির খবর পাওয়া যায় এবং খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়।
“গতকাল রাত আনুমানিক ১২টার দিকে কামারখালী সড়কে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। লোকজনের কাছ থেকে টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে।”
পাঁচ থেকে ছয়জনের দল ছিল
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী জানান, জড়িতদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে পাঁচ থেকে ছয়জন ডাকাত সদস্য ওই ঘটনায় অংশ নিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
“ছিনতাই চক্রের সদস্যদের আটকের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। সেখানে পাঁচ থেকে ছয়জন ডাকাত সদস্য ছিল বলে জানা গেছে।”
ঘটনাটি রাতের সড়কযাত্রার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। রোগী দেখে ফেরার মতো জরুরি প্রয়োজনে যাত্রা করা মানুষও যদি পথেই সশস্ত্র ডাকাতির মুখে পড়েন, তবে দূরবর্তী ও কম ব্যস্ত সড়কগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। অভিযানে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং ওই সড়কে নিরাপত্তা বাড়ানোর প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is গ ন ত গ ছ ফ ল?
গ ন ত গ ছ ফ ল is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does গ ন ত গ ছ ফ ল matter?
গ ন ত গ ছ ফ ল matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

