ইসলামের দৃষ্টিতে আকিকা
ইসল ম র দ ষ ট ত – যখন একটি শিশু জন্মগ্রহণ করে তখন পরিবারে সাধারণত খুব উল্লাস প্রকাশ পায়। শিশু কোলে আনার সময় আল্লাহর নামে ছাগল, ভেড়া, দুম্বা, গরু, মহিষ বা উট ইত্যাদি পশু জবেহ করা ইসলামী সুন্নত বলে গণ্য। একে আকিকা নামে পরিচিত।
শরিয়তের আদর্শ অনুযায়ী সন্তানের মাথার চুল কেটে দেওয়া এবং আল্লাহর নাম দেওয়া সুন্নত। আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া কিতাবে দ্বিতীয় খণ্ডে বর্ণিত আছে যে আকিকা ব্যবস্থা ইসলাম পূর্ব যুগেও প্রচলিত ছিল।
রসুল (সা.) ও আকিকার মূল নীতি
হজরত আলী (রা.) বলেন, ‘রসুল (সা.) ইমাম হাসান (রা.)-এর আকিকায় একটি বকরি জবেহ করেন এবং বলেন, হে ফাতিমা। তার মাথা মুণ্ডন করে দাও এবং চুলের সমপরিমাণ রৌপ্য আল্লাহর রাস্তায় সদকা করে দাও।’
হজরত সালমান ইবনে আমের (রা.) বলেন, ‘আমি আল্লাহর রসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘শিশুর জন্মের সঙ্গে আকিকা জড়িত। সুতরাং তার পক্ষ থেকে তোমরা রক্ত প্রবাহিত করো। আর তার শরীর থেকে কষ্ট দূর করে দাও।’
অনুষ্ঠানের পশু কোরবানির নিয়মাবলী অনুসরণ করে। কোরবানির জন্য জায়েজ পশু আকিকার জন্যও প্রযোজ্য। সামর্থ্যবানদের জন্য ছেলেশিশুর আকিকায় দুটি বকরি বা দুটি ভেড়া জবেহ করতে হয়। মেয়েশিশুর ক্ষেত্রে একটি পশু যথেষ্ট। গরু, মহিষ ও উট দ্বারা একাধিক সন্তানের আকিকা করা সম্ভব।
আকিকা করার সময়
সন্তান ভূমিষ্ঠের সপ্তম দিন আকিকা করা উত্তম। যদি সেই সময়ে আকিকা করা সম্ভব না হয়, তবে ১৪ বা ২১ তারিখে জবেহ করা জায়েজ। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন, ‘আকিকার পশু সপ্তম দিবসে বা ১৪ অথবা ২১ তারিখে জবেহ করবে।’
আকিকার মাংসের বিধান
আকিকার মাংসের বিধান কোরবানির মতো। মাংসের এক তৃতীয়াংশ গরিবদের জন্য সদকা হিসেবে দেওয়া উত্তম। অবশিষ্ট দুই তৃতীয়াংশ নিজে এবং পরিবারের জন্য রাখা সুন্নত। কেউ যদি মাংস সম্পূর্ণ নিজে খায় বা মেহমানদারির জন্য রাখে, তাতেও আকিকা হবে।
আকিকার সময় আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী এবং ধনী-গরিব সবাইকে দাওয়াত দেওয়া ও মিলাদ পাঠ করা উত্তম। ইমাম প্রফেসর ড. আরসাম কুদরতের বই ‘মোহাম্মদী ইসলামের তালিম’ এ আকিকার বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।
সন্তানের হাদিয়া আকিকা অনুষ্ঠানে দেওয়া হয়। পিতা-মাতা সেগুলো সংরক্ষণ করে যথাসময়ে ফিরিয়ে দিতে পারেন। আকিকা ও কোরবানির মাংস কাঁচা অথবা পাক করে বণ্টন করা সম্ভব।
