Bangladesh

আশুলিয়ায় কাভার্ড ভ্যানে বিস্ফোরণ, নিহত বেড়ে ৭

Untitled-5_Xhqrh5i

আশুলিয়ার জামগড়ায় কারখানার সিলিন্ডারবাহী কাভার্ড ভ্যানে বিস্ফোরণ, নিহত ৭

Patrikajournal.com – আশ ল য য ক ভ র – ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় একটি পোশাক কারখানার ভেতরে সিলিন্ডার বহনকারী কাভার্ড ভ্যানে বিস্ফোরণ ও আগুনের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ জনে। ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরও একজন। এ ঘটনায় অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনাটি ঘটে প্রীতি গ্রুপের এফ অ্যান্ড এফ কারখানায়। বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়লে আশপাশে আতঙ্ক তৈরি হয়। প্রচণ্ড বিস্ফোরণের ধাক্কায় কারখানা এলাকা ও এর সামনের সড়কে লোহার টুকরা, ইটের খণ্ড এবং কাচ ছিটকে পড়ে। এতে কারখানার আশপাশে অবস্থানরত কয়েকজনও আহত হন।

ঘটনাস্থলে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার

শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন নারী রয়েছেন। তাঁর নাম জয়নব বেগম, বয়স ৫৫ বছর। তিনি গাজীপুরের কাশিমপুরের ইসরকান্দি এলাকার মো. আলীর স্ত্রী।

উদ্ধার হওয়া বাকি পাঁচজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাঁদের পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চলবে বলে জানা গেছে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এবং আগুনের কারণে হতাহতদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে শুরুতে জটিলতা তৈরি হয়।

ঢামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নজরুলের মৃত্যু

গুরুতর দগ্ধ চারজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁদের একজন নজরুল ইসলাম, বয়স ৩০ বছর, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর এ ঘটনায় মোট প্রাণহানির সংখ্যা ৭ জনে পৌঁছায়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, আশুলিয়ার ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে নজরুল ইসলাম মারা গেছেন। বাকি তিনজনের মধ্যে দুজন ক্যাজুয়ালিটি বিভাগে এবং একজন বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

নিহত নজরুলের ছেলে সামিউল ইসলাম বলেন, তাঁদের বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার আবুডাঙ্গা গ্রামে। পরিবারটি বর্তমানে আশুলিয়ার শিমুলতলা এলাকায় বসবাস করে। নজরুল ইসলাম কারখানার সামনে পেঁয়াজ ও রসুন বিক্রি করতেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা প্রথমে স্থানীয় নারী ও শিশু হাসপাতালে তাঁকে দেখতে যান। পরে তাঁকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলেও কিছু সময় চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মারা যান।

“দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় নারী ও শিশু হাসপাতালে গিয়ে বাবাকে দেখি। পরে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসি। চিকিৎসার কিছুক্ষণ পর তিনি মারা যান।”

বাবা-ছেলে আহত, ছিটকে পড়া বস্তুতে আঘাত

আহতদের মধ্যে রয়েছেন কাঁচামাল বিক্রেতা সুজন মিয়া, বয়স ২৫ বছর, এবং তাঁর বাবা মুখলেস মিয়া, বয়স ৪৫ বছর। তাঁরা আশুলিয়ার জামগড়ায় প্রীতি গ্রুপের পোশাক কারখানার সামনের সড়কে কাঁচামাল বিক্রি করতেন। বিস্ফোরণের সময় তাঁরা কারখানার আশপাশেই ছিলেন।

মুখলেস মিয়া জানান, সন্ধ্যার দিকে কারখানার ভেতর থেকে হঠাৎ বিকট শব্দ শোনা যায়। মুহূর্তের মধ্যে বিভিন্ন ধাতব বস্তু, ইট-পাটকেল এবং ভাঙা কাচ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এসবের আঘাতে সুজনের মাথায় আঘাত লাগে। মুখলেস মিয়ার হাত ও পায়েও আঘাত রয়েছে।

“বিস্ফোরণের পর চারদিকে লোহা, ইট আর কাচ ছিটকে যায়। সেগুলো সুজনের মাথায় লাগে। আমারও হাত-পায়ে আঘাত লাগে।”

স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে নিকটবর্তী মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বাবা-ছেলেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

চালক নুর ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক

বিস্ফোরণে দগ্ধ নুর ইসলাম, বয়স ৩০ বছর, গ্যাস পরিবহনের গাড়িচালক হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর বাড়ি বাগেরহাট জেলায় হলেও তিনি ভোলায় থাকতেন। তাঁর ভাগিনা মো. মাসুদ জানান, বিস্ফোরণের ঘটনায় নুর ইসলামের শরীরের বড় অংশ পুড়ে গেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

কারখানা এলাকায় সিলিন্ডারবাহী একটি কাভার্ড ভ্যানে বিস্ফোরণের পর হতাহতদের উদ্ধার ও হাসপাতালে পাঠানোর কাজ চলে। এমন ঘটনায় কারখানার ভেতরে এবং আশপাশের সড়কে থাকা শ্রমিক, বিক্রেতা ও পথচারীদের ঝুঁকি কতটা দ্রুত বাড়তে পারে, তা আবারও সামনে এসেছে। বিস্ফোরণের পর কারখানা এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং হতাহতদের পরিচয় নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

আহতদের মধ্যে যাঁরা চিকিৎসাধীন, তাঁদের অবস্থার ওপর নজর রাখা হচ্ছে। স্বজনদের জন্য হাসপাতাল ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তথ্য সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তাও তৈরি হয়েছে, কারণ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া পাঁচটি মরদেহের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

Frequently Asked Questions

What is আশ ল য য ক ভ র?

আশ ল য য ক ভ র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does আশ ল য য ক ভ র matter?

আশ ল য য ক ভ র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *