ইবি শিক্ষার্থী সাজিদ হত্যার এক বছর পেরোলেও অমীমাংসিত প্রশ্ন
Patrikajournal.com – ইব র স জ দ হত য – কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর মৃত্যুর এক বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেছে। কিন্তু তাঁর মৃত্যু কেন ঘটল, কারা এতে জড়িত ছিল এবং কীভাবে ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তদন্তের দায়িত্ব একাধিকবার বদলালেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতির কথা জানানো হয়নি পরিবারের সদস্যদের।
আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন সাজিদ। গত বছরের ১৭ জুলাই বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলের সামনের পুকুর থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন, ১৮ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে সাজিদের মৃত্যুর সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয় ময়নাতদন্তের প্রায় ৩০ ঘণ্টা আগে। সে হিসাবে তাঁর মৃত্যু হয় ১৬ জুলাই রাত সাড়ে ৩টার দিকে। প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ হিসেবে শ্বাসরোধের কথা বলা হয়েছে। ফলে পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধারের আগের রাতের ঘটনাপ্রবাহ তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব পাওয়ার কথা হলেও সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা, বদলেছে তদন্ত কর্মকর্তা
সাজিদের বাবা আহসান হাবিবুল্লাহ ৪ আগস্ট অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় হত্যা মামলা করেন। শুরুতে মামলাটির তদন্তভার ছিল ইবি থানার পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুনের কাছে। পরিবারের দাবির পর তদন্তটি থানা থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে, কুষ্টিয়া সিআইডিতে, হস্তান্তর করা হয়।
সিআইডির পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম প্রথমে তদন্তের দায়িত্ব নেন। গত মে মাসে তাঁকে সরিয়ে একই সংস্থার আরেক পরিদর্শক মহব্বত হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কয়েক দফা দায়িত্ব বদলের পরও মামলায় কোনো সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার হয়নি। পরিবারের কাছে তদন্তের বর্তমান অবস্থানও স্পষ্ট নয়।
“আমার ছেলের হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতি নেই। সিআইডির সঙ্গে যোগাযোগ আছে। কিন্তু মামলার কোনো অগ্রগতির তথ্য পাই না। আমার কাছে সিআইডি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন—সবারই গাফিলতি মনে হচ্ছে।”
আহসান হাবিবুল্লাহর এই বক্তব্যে দীর্ঘ তদন্তপ্রক্রিয়া নিয়ে পরিবারের হতাশা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একটি হত্যা মামলায় তদন্তের নানা তথ্য জনসমক্ষে না আসা স্বাভাবিক হতে পারে, বিশেষত তদন্তের স্বার্থে। তবে নিহতের স্বজনেরা ন্যূনতম অগ্রগতি ও মামলার গতিপথ জানতে না পারলে তাদের উদ্বেগ আরও বাড়ে।
রাত সাড়ে ৩টার ভ্যান প্রবেশের রহস্য
সাজিদের মৃত্যুর সম্ভাব্য সময়ের সঙ্গে মিল রেখে ক্যাম্পাসে একটি ভ্যান প্রবেশের ঘটনা নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। ১৬ জুলাই রাত সাড়ে ৩টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দিয়ে একটি ভ্যান ভেতরে ঢুকতে দেখেন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই আনসার সদস্য। ভ্যানটিতে একজন শোয়া অবস্থায় ছিলেন এবং সঙ্গে আরও চারজন ছিলেন।
সেদিন রাতে প্রধান ফটকে দায়িত্ব পালন করছিলেন কুষ্টিয়া ব্রাঞ্চের আনসার সদস্য পঙ্কজ ও তারেক। পঙ্কজের ভাষ্য অনুযায়ী, ফজরের আগমুহূর্তে চারজন ব্যক্তি ভ্যান নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। তাঁদের মধ্যে একজন মধ্যবয়সী ভ্যানচালক ছিলেন। বাকি দুজন নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে পরিচয় দেন। ভ্যানে শুয়ে থাকা ব্যক্তির পরিচয় বা ওই ভ্যানের ক্যাম্পাসে প্রবেশের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো নিশ্চিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখিত সময় এবং ভ্যান প্রবেশের সময় একই হওয়ায় বিষয়টি তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সাজিদের পরিবার ও শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের বড় কারণ এখানেই—সেই রাতের ঘটনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থার তথ্য এবং সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে এখনো প্রকাশ্য কোনো সিদ্ধান্ত সামনে আসেনি।
ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটিতেও ওঠেনি ভ্যানের প্রসঙ্গ
মরদেহ উদ্ধারের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং শাহ আজিজুর রহমান হল কর্তৃপক্ষ পৃথক দুটি ঘটনা অনুসন্ধান কমিটি গঠন করে। অভিযোগ রয়েছে, গভীর রাতে ভ্যানটি ক্যাম্পাসে ঢোকার বিষয়টি ওই তদন্ত প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
হলের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির সদস্য অধ্যাপক আবদুল বারী এ বিষয়ে বলেন, ভ্যান প্রবেশের ঘটনাটি হলের বাইরের হওয়ায় সেটি প্রতিবেদনে আনা হয়নি। তবে আনসার সদস্য পঙ্কজের বক্তব্যে দ্বিচারিতার প্রমাণ পেয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, বিষয়টি এখন রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের তদন্তের আওতায়।
“বিষয়টি হলের বাইরের হওয়ায় প্রতিবেদনে আনা হয়নি। তবে আনসার সদস্য পঙ্কজের বক্তব্যে আমরা দ্বিচারিতার প্রমাণ পেয়েছি। বিষয়টি এখন রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের তদন্তের দায়িত্ব।”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির আহ্বায়ক ও সহ-উপাচার্য অধ্যাপক এমতাজ হোসেন এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। উপাচার্য অধ্যাপক এ কে এম মতিনুর রহমানের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানে কী কী তথ্য উঠে এসেছে এবং সেগুলো তদন্তকারী সংস্থাকে কতটা সহায়তা করেছে, তা স্পষ্ট নয়।
তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত জানাতে অনাগ্রহী সিআইডি
বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা কুষ্টিয়া সিআইডির পরিদর্শক মহব্বত হোসেন জানিয়েছেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি কয়েকবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গিয়েছেন এবং তদন্তে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে সেসব বিষয়ে বিস্তারিত বলতে অপারগ তিনি।
“ইবির শিক্ষার্থী সাজিদ হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর বেশ কয়েকবার ক্যাম্পাসে গিয়েছি। কিছু অগ্রগতিও হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এসব বিষয় বলা যাবে না।”
তবে এক বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো গ্রেপ্তার না হওয়া এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সীমিত তথ্য পাওয়া যাওয়ায় পরিবার ও শিক্ষার্থীদের উৎকণ্ঠা কাটেনি। সাজিদ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন শুধু একটি পরিবারের ন্যায়বিচারের প্রত্যাশার সঙ্গে যুক্ত নয়; এটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা, রাতের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং শিক্ষার্থীদের আস্থার প্রশ্নও সামনে এনেছে।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় এবং ক্যাম্পাসে ওই রাতের ঘটনাক্রম পরিষ্কার হওয়া জরুরি। দীর্ঘ সময় ধরে অমীমাংসিত থাকা এই মামলার কার্যকর অগ্রগতি সাজিদের পরিবারের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে পারে, পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ের বহু প্রশ্নেরও উত্তর দিতে পারে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ইব র স জ দ হত য?
ইব র স জ দ হত য is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ইব র স জ দ হত য matter?
ইব র স জ দ হত য matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

