হিমছড়ি সৈকতে আরও এক তরুণের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষার্থীর সন্ধান চলছে
Patrikajournal.com – কক সব জ র স গর ম – কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকায় সমুদ্রসৈকতে ভেসে আসা আরও এক তরুণের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে রামু উপজেলার প্যাঁচারদ্বীপ সৈকত থেকে মো. হারুনের (২০) মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। একই দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এখনো খোঁজ মেলেনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এসএম নাফিসুর রহমান নিবিড়ের (২৩)।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা দোলন আচার্য সকালে মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেন। বুধবার বিকেলে হিমছড়ি মেরিনা রিসোর্টের জাদুঘরসংলগ্ন সৈকতে গোসল করতে নেমে কয়েকজন পর্যটক স্রোতের মুখে পড়েন। ঘটনাস্থলটি কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে মেরিন ড্রাইভের পাশে অবস্থিত।
দুই দল পর্যটকের বিপদ
দুর্ঘটনায় ঢাকার উত্তরা থেকে ঘুরতে আসা সাত বন্ধুর একটি দল এবং চট্টগ্রাম থেকে বেড়াতে আসা পাঁচ বন্ধুর আরেকটি দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঢাকার দলের তিন বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষার্থী সাগরে তলিয়ে যান। তাঁদের মধ্যে আল মাহিবুর ইবনে মোকাররম (২৪) ও সাইবুল হক জিসানের (২৩) মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। ওই দলের সদস্য নিবিড় এখনো নিখোঁজ।
চট্টগ্রাম থেকে আসা বন্ধুদের দলের দুই সদস্য মোহাম্মদ আকাশ (২১) ও মো. হারুনের মৃত্যু হয়েছে। আকাশের মরদেহ আগেই উদ্ধার করা হয়েছিল; পরে প্যাঁচারদ্বীপ সৈকত থেকে হারুনের মরদেহ পাওয়া যায়। সাগর থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার হওয়া রাকিব হাসান (১৯) কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ঢাকার সাত বন্ধু গত ১৮ অক্টোবর বান্দরবান ভ্রমণের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। সেখানে দুই দিন কাটিয়ে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাঁরা কক্সবাজারে পৌঁছান। পরে হিমছড়ির প্যাঁচারদ্বীপ জাদুঘরের কাছের একটি রিসোর্টে ওঠেন। দুপুরের খাওয়া শেষ করে বিকেল ৪টার দিকে সবাই সমুদ্রে নামেন।
পর্যটকদের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করা বিচকর্মীদের সুপারভাইজার মাহবুব আলম বলেন, ওই সাত বন্ধুর কারও সাঁতার জানা ছিল না। পানিতে দুজনকে ডুবে যেতে দেখে অন্য বন্ধুরা তাঁদের বাঁচাতে এগিয়ে যান। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে তাঁরাও তীব্র স্রোতে ভেসে যেতে শুরু করেন। পরে স্থানীয় লোকজন উদ্ধারকাজে অংশ নেন।
“পানিতে দুজনকে ডুবে যেতে দেখে তাঁদের উদ্ধারে এগিয়ে যান বাকি বন্ধুরা। একপর্যায়ে তাঁরাও সমুদ্রের স্রোতের কবলে পড়ে ভেসে যেতে থাকেন।”
ঢাকার শিক্ষার্থীদের পরিচয়
নিহত সাইবুল হক জিসান ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। আল মাহিবুর ইবনে মোকাররম বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের বিবিএ বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকার মোকাররম হোসেনের ছেলে।
নিখোঁজ নিবিড় ঢাকার আজিমপুর এলাকার নাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষে পড়তেন। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর তাঁর পরিবারের সদস্যরা কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। নিবিড় ১৮ অক্টোবর বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে বন্ধুদের সঙ্গে বান্দরবান যান, এরপর বুধবার কক্সবাজারে পৌঁছান।
হাঁটুপানিতেও স্রোতের ঝুঁকি
নিহত আকাশের সহকর্মী ও বন্ধু মোহাম্মদ সানি জানান, তাঁরা চট্টগ্রামের একটি কারখানায় চাকরি করেন। পাঁচ বন্ধু মিলে বুধবার কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন। বিকেলে সমুদ্রে নামার সময় তাঁরা হাঁটুপানিতে ছিলেন। হঠাৎ একটি বড় ঢেউ আছড়ে পড়ার পর কয়েকজন স্রোতের টানে দূরে সরে যেতে থাকেন।
“তখন সবাই পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছিলেন। পায়ের নিচ থেকে বালু সরে যাচ্ছিল। কোনোভাবে কয়েকজন তীরে উঠে আসেন।”
সানি বলেন, আশপাশের মানুষের কাছে সাহায্য চাইলে কয়েকজন উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। তাঁদের মধ্যেও কেউ কেউ পানিতে ডুবে যাওয়ার পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন। স্থানীয়দের সহায়তায় কয়েকজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও কয়েকজন স্রোতে ভেসে যান।
সমুদ্রসৈকতে তুলনামূলক অগভীর পানিতেও হঠাৎ ঢেউ, নিচের বালু সরে যাওয়া এবং স্রোতের পরিবর্তনের কারণে বিপদ তৈরি হতে পারে। একাধিক মানুষ একসঙ্গে কাউকে উদ্ধার করতে গিয়ে পানিতে নেমে পড়লে ঝুঁকি আরও বাড়ে, বিশেষ করে তাঁদের সাঁতার জানা না থাকলে। এ ঘটনায় একই সঙ্গে বন্ধুদের উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে কয়েকজনের বিপদে পড়ার চিত্র সামনে এসেছে।
লাইফগার্ড সেবার সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ
চলতি বছরে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে এ পর্যন্ত নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একজন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। পর্যটকদের নিরাপত্তায় লাইফগার্ড সেবা রয়েছে কক্সবাজার শহরের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী এলাকার প্রায় তিন কিলোমিটারজুড়ে।
তবে সৈকতের বিস্তৃত অন্যান্য অংশে এমন সেবা না থাকায় হিমছড়ির মতো এলাকায় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। শহরের ব্যস্ত সৈকত এলাকা ছাড়িয়ে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে পর্যটকদের যাতায়াত বাড়লেও নিরাপত্তাব্যবস্থা সব জায়গায় সমান নয়।
হিমছড়ির ঘটনায় উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। নিখোঁজ নিবিড়ের সন্ধানে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন। চার তরুণের মৃত্যু এবং একজন শিক্ষার্থীর সন্ধান না মেলায় তাঁদের স্বজন ও বন্ধুদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is কক সব জ র স গর ম?
কক সব জ র স গর ম is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does কক সব জ র স গর ম matter?
কক সব জ র স গর ম matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

