News

বাঁচার তাগিদে সন্তান বিক্রি করছে আফগানরা? | | বাংলাদেশ প্রতিদিন

662bc64f-d5e0-430a-b70e-9309c7966087-0

বাঁচার তাগিদে সন্তান বিক্রি করছে আফগানরা?

Patrikajournal.com – ব চ র ত গ দ সন – তালেবান ক্ষমতা দখলের পর আফগানিস্তানে অর্থনৈতিক বিপর্যস্তি ও আন্তর্জাতিক সাহায্যের সমাপ্তি দেশটির নিচু মানুষের জীবন এখন খুব কঠিন হয়ে আসছে। স্থানীয় চারজন মানুষের মধ্যে তিনজন মৌলিক প্রয়োজনীয় সামগ্রী অর্জন করতে বাধ্য হচ্ছেন। অর্থনীতি ভেঙে পড়ায় বেকারত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ক্ষুধার জ্বালায় অনেক পরিবার ক্ষীণ সংকটে পড়েছে।

পরিবারগুলো একেবারে বিপর্যস্ত হয়ে আছে। কোনো দিনমজুরের কাজের আশায় রাস্তার পাশে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার জন্য তাদের হাজারো মানুষ জড়ো হয়েছে। এই কাজগুলো সেদিন তাদের খাবার কিছুটা কভার করে। কিন্তু সহায়তা ক্ষীণ হয়ে আসার ফলে দুর্ভিক্ষ থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে দাঁড়িয়ে আছে দেশের প্রায় ৪৭ লাখ মানুষ।

“আমার সন্তানরা টানা তিন রাত না খেয়ে ঘুমাতে গিয়েছে। ক্ষুধার জ্বালায় আমার স্ত্রী ও সন্তানরা কাঁদছিল। বাধ্য হয়ে প্রতিবেশীর কাছ থেকে ময়দা কেনার জন্য কিছু টাকা ধার চেয়েছি। আমি সবসময় এই আতঙ্কে থাকি যে আমার বাচ্চারা হয়তো না খেয়েই মারা যাবে।” – জুমা খান

প্রদেশের রাজধানী চাগচারানে একটি ধূলিময় জায়গায় বাস করেন আব্দুল রশিদ আজিমি। তার সাত বছর বয়সী যমজ কন্যাদুটি রোকিয়া ও রোহিলা জড়িয়ে ধরে তিনি বলেন, “আমি আমার মেয়েদের বিক্রি করে দিতে প্রস্তুত। আমি দরিদ্র, ঋণগ্রস্ত এবং সম্পূর্ণ অসহায়।” তিনি জানান, যখন তৃষ্ণার্ত ও বিভ্রান্ত হয়ে ঘরে ফিরেন, সন্তানরা বলে আসে, “বাবা, একটু রুটি দাও।” কিন্তু তিনি কোথা থেকে দেবেন তা কেউ জানে না।

অন্য একজন আফগান সাঈদ আহমদ বলেন, “মেয়েটির চিকিৎসার জন্য আমি তাকে এক আত্মীয়ের কাছে ২ লাখ আফগানি (প্রায় ৩,২০০ ডলার) বিক্রি করে দিয়েছি। অপারেশনের টাকাটুকু নিয়েছি। আগামী পাঁচ বছরে বাকি টাকা ফেরত দেওয়ার পর তাকে নিয়ে যাবে।” তিনি দাবি করেন যে তার মেয়েটি বিপর্যস্ত হয়ে ছিল অপারেশন না করলে।

তালেবান সরকার আন্তর্জাতিক সাহায্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর অর্থনৈতিক মহল বলছেন যে নারীদের ওপর নানা নিষেধাজ্ঞা ও কট্টর নীতির কারণে দাতা সংস্থাগুলো মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ বড় বড় দাতা দেশগুলো তহবিল বন্ধ করে দিয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরে প্রাপ্ত সহায়তার পরিমাণ ৭০ শতাংশ কমে গেছে।

বিপর্যস্ত ক্ষেত্রে শিশুরা আঘাত পেয়েছে বেশি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *