কুড়িগ্রামে ভারী বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি, ফসল ক্ষতির আশঙ্কা
ক ড় গ র ম ট ন – মঙ্গলবার রাত থেকে কুড়িগ্রাম জেলায় প্রবল বৃষ্টি হওয়ায় প্রচুর জল জমে জলাবদ্ধতা ঘটেছে। এতে গ্রাম পরিসর, সড়ক এবং রাস্তা জলে আবৃত হয়েছে। কার্যালয় ও আদালতের সামনে স্থানীয় মাঠ জলে ভিজে গেছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সহ বিভিন্ন এলাকাতে বিপর্যস্ত অবস্থা দেখা দিয়েছে।
গত এক সপ্তাহ ধরে জেলায় তুমুল গরমের কারণে মানুষের জীবন অস্বস্তি পেয়েছিল। তবে গত দুই দিন ধরে বৃষ্টি আসায় বাতাসে কিছুটা শান্তি ফিরে এসেছে। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত স্থানীয় আবহাওয়া অবস্থা স্থিতিশীল হয়েছে।
রাজারহাট উপজেলার কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, গত রাত থেকে বুধবার দিনভর প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টির পরিমাণ প্রায় ১৯০ মিলিমিটার রেকর্ড হয়েছে, যা অত্যন্ত ভারী বৃষ্টি হিসেবে গণ্য। এ কারণে জেলা সদর পৌরসভা সহ বিভিন্ন এলাকাতে মারাত্মক জলাবদ্ধতা ঘটেছে।
বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদী এবং জেলার সব নদীর পানি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, বন্যা পরিস্থিতির কোন আশঙ্কা নেই। তবে নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন খেত তলিয়ে গেছে। ধানখেত, পাটখেত এবং বেগুন, করলা, ঢেঁড়স, পটলসহ ফসলগুলি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।
মজিদা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের ছাত্র বোরহান উদ্দিন বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে কলেজের সামনে হাঁটুসমান পানি জমেছে। মাঠ পেরে ক্লাসে প্রবেশ করা কঠিন হয়েছে। জেলা প্রশাসনে সেবা নিতে আসা আবুল হোসেন জানান, সামান্য বৃষ্টি হলে ডিসি কার্যালয়ের সামনে পানি জমে যায়। কাপড় ভিজিয়ে অফিসে ঢুকতে হয়।
স্থানীয় আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এ ধরনের আবহাওয়া আরও দু-এক দিন ব্যাপ্ত থাকতে পারে। ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা হয়নি বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী।
অনেক কষ্টে অফিসে প্রবেশ করতে হয়েছে বলে বলেন আবুল হোসেন। প্রাথমিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণে মাঠে ময়দানে, নগর জীবনে, চট্টগ্রাম প্রতিদিনে বিভিন্ন স্থানে উপস্থিতির তারিখ দেখা যাচ্ছে।
