ইরান যুদ্ধের মাঝে সম্পর্ক বিস্তারের প্রয়োজনীয়তা
ইর ন য দ ধ র ম – ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরান যুদ্ধের মাঝে গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাতে সফর করেন। রাতে তাঁর দপ্তর থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে এই সফর ইসরায়েল ও ইউএই-এর মধ্যে সম্পর্কের একটি ঐতিহাসিক প্রগতি ঘটিয়েছে। তবে ইউএই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে মনে করেছে।
আল আইনে সাক্ষাত ও সম্পর্কের তৈরি
বুধবার রাতে ওমান সীমান্তের কাছে মরুদ্যান শহর আল আইনে শেখ মোহামেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে নেতানিয়াহু কয়েক ঘণ্টা বৈঠক করেন। তিনি এই সফরে ইসরায়েল ও ইউএই মধ্যে নতুন সম্পর্ক গঠনের লক্ষ্য নিয়ে যান। এই পরিস্থিতিতে ইউএই নিজেও ইরান বিরোধী হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
২০২০ সালে ইউএই ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। সেই সময়ে ইসরায়েল ইউএই কে আয়রন ডোম ব্যাটারি ও সামরিক বিশেষজ্ঞ পাঠিয়েছিল। মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি তাঁর প্রতিবেদনে ইউএই ও ইসরায়েলের মধ্যে অসাধারণ একটি সম্পর্ক গঠিত হয়েছে বলে জানান।
হামলার প্রতিশোধ ও ইউএই কর্মসূচি
২০২০ সালের পর ইউএই প্রথম ইসলামি দেশ হিসেবে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক গঠনে সাহায্য করে। এর পর বাহরাইন, মরক্কো ও সুদান তাঁদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করে, যা ‘আব্রাহাম চুক্তি’ নামে পরিচিত। তবে ইউএই ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতা বেশি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২৩ সালে ইউএই সৌদি নেতৃত্বাধীন ওপেক থেকে বেরিয়ে গেছে। এই সিদ্ধান্তের পিছনে ইরান যুদ্ধের মাঝে নতুন বিস্তারের প্রয়োজনীয়তা ছিল। তবে দুটি দেশ এখনও নানা বিতর্কে জড়িত আছে।
গাজায় গণহত্যার অভিযোগে নেতানিয়াহু ও তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পেয়েছেন। অন্যদিকে ইউএই সুদানে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত রাপিড সাপোর্ট ফোর্স অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে বিতর্কে আছে।
ইরান যুদ্ধের মাঝে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নতুন ধারণা গঠন হয়েছে। এই পরিস্থিতি ইসরায়েল ও ইউএই-এর কাছে প্রতিশোধের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।
