মা ও দুই কন্যার মৃত্যুতে রহস্য ঘনীভূত, হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ স্বজনদের
ম ও দ ই কন য র – মা ও দুই কন্যার অপরিচিত মৃত্যু ঘটনায় রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে ক্রমে ক্রমে। বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় ঘটনাটি ঘটেছে এবং এখনও পুলিশ কারণ খুঁজে পায়নি। তবে ঘটনার শুরুতে আত্মহত্যা বলে প্রাথমিক ধারণা জানানো হয়েছিল। কিন্তু মাকে ও দুই কন্যাকে হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে স্বজনদের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
মরদেহ উদ্ধার ও সংশয়
বুধবার (৩ জুন) বিকেলে ডাকবাংলোয় মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তিন সদস্যের মৃত্যু ঘটেছে একই তলার দুটি বিভিন্ন কক্ষে। ঘটনায় শুরু থেকেই ক্ষুদ্র সংশয় তৈরি হয়। পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা জানান, সিসিটিভি ফুটেজ ও কক্ষের পরিস্থিতি বিবেচনায় ঘটনাটি আত্মহত্যা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিবারের অন্য সদস্য মিত্র সরকার জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাত্র কয়েক মিনিটের ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু সকাল ১১টা থেকে বিকেল পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ের ফুটেজ কোথায় তা বুঝতে পারেনি তিনি। ইতি রানী সেদিন কাজ করার কথা ছিল না এবং তার মেয়েদেরও সেখানে যাওয়ার প্রথম দিন ছিল। এ কারণে মাকে ও দুই কন্যাকে উপস্থিতি বিশেষ করে অপরিচিত হতে পারে।
ডাকবাংলোর তত্ত্বাবধায়ক নুরুল ইসলাম বলেন, বারান্দায় কোনো গ্রিল নেই বলে অতিথি নিরাপত্তাহীনতায় থাকে। তবে বারান্দার থাই গ্লাস লকগুলো কী করে বন্ধ হয়েছে সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে মরদেহ পরিবারে হস্তান্তর করা হলে স্বজন ও এলাকাবাসী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। তারা শহরের বিভিন্ন সড়কে মরদেহ নিয়ে মিছিল করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, আমার স্ত্রী ও দুই মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় বড় ধরনের ষড়যন্ত্র রয়েছে। আমি সুষ্ঠু তদন্ত চাই এবং সম্পূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি।
ডাকবাংলোর ৪ নম্বর কক্ষ থেকে ইতি রানীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। অন্যদিকে বড় কন্যা আরাধ্যের মৃতদেহ ৩ নম্বর কক্ষে পাওয়া গেছে। কক্ষগুলোর আলাদা অবস্থার কারণ নিয়ে পুলিশ এখনও প্রস্তুত হয়নি। বারান্দার থাই গ্লাস লক নিয়ে অনুসন্ধান চলছে।
