সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অর্থের সংস্থান
সবচ য় বড় চ য ল ঞ – বাংলাদেশের জাতীয় বাজেট কেবল আয় ও ব্যয়ের হিসাব হল না, বরং সরকারের অর্থনৈতিক দর্শন, রাজনৈতিক আগ্রান্ত এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের পরিকল্পনার প্রতিফলন। নির্বাচনের পর প্রথম বাজেট বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মধ্য দিয়ে নতুন সরকার তার প্রতিশ্রুতি পূরণের রূপরেখা তুলে ধরে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক বার্তা বহন করছে। তবে প্রশ্ন উঠছে এই বৃহৎ বাজেটের অর্থায়ন কতটা বাস্তবসম্মত। অতীতে বাজেটের আকার সাধারণত ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেত, কিন্তু আগামী অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য চলতি বছরের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি হওয়ায় ব্যয় বৃদ্ধির সাথে আয়ের উৎস সামঞ্জস্য রাখা চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
ব্যয় ও আয় মধ্যে সমন্বয়ের সমস্যা
বাস্তবতা হলো, চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায় পাঁচ লাখ কোটি টাকাও অতিক্রম করবে না বলে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন। অর্থাৎ প্রকৃত আদায় এবং আগামী বছরের লক্ষ্যের মধ্যে প্রায় দুই লাখ কোটি টাকার ব্যবধান রয়েছে। নতুন বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা খাতে ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এর পরিবর্তে এক দিকে ভর্তুকি ব্যয়, অন্যদিকে উন্নয়ন ব্যয় দুই দিক থেকে অর্থ ব্যবস্থাপনার চাপ বাড়তে পারে। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের দক্ষতা ও রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে।
বাজেটের বাস্তবায়নে চাপ বৃদ্ধির সম্ভাবনা
আগামী অর্থবছরে সরকারকে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সারের ভর্তুকির চাপ বহন করতে হবে। কৃষক সহায়তা কর্মসূচি সম্প্রসারণের প্রস্তাব রয়েছে, যার মাধ্যমে নতুন বরাদ্দ কার্যকারিতার ওপর প্রশ্ন উঠতে পারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করছে, কিন্তু রাজস্ব নীতি সম্প্রসারণ করলে নীতিগত সমন্বয়ের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
বাজেটের সাফল্য তার আকার দ্বারা মাপা হয় না। বরং আয় ও ব্যয়ের মধ্যে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভারসাম্য, প্রকল্প বাস্তবায়নের দক্ষতা ও রাজস্ব সংগ্রহের ক্ষমতা হল প্রকৃত কার্যকারিতার সূচক। অতীতে দেখা
