৩২ বছর ধরে বেওয়ারিশ কুকুর-বিড়ালের বন্ধু আনোয়ার
৩২ বছর ধর ব ওয় র শ – খুলনা শহরের ফৌজদারি এলাকায় সন্ধ্যা বেলায় প্রতিদিন অপেক্ষাকৃত অনুপম কর্মে বেশি অবদান রেখেছেন মো. আনোয়ার। তিনি বেওয়ারিশ কুকুর-বিড়ালদের খাবার দিয়ে স্বল্প আয়ের সত্যিকার পরিচর্যা করছেন দীর্ঘদিন। যদিও তাঁকে কেউ কেউ ভিক্ষুক মনে করে, কিন্তু তিনি পশুপ্রেমী হিসেবে পরিচিত। নিজের টাকার দ্বারা সংগ্রহ করা খাবার বিভিন্ন স্থানে কুকুর-বিড়ালদের খাওয়ান তার দৈনিক পরিকল্পনা।
প্রাণীদের সেবা করতে নিয়োজিত থাকার অভিজ্ঞতা
মো. আনোয়ার বলেন, তিনি খুলনা শহরের বেওয়ারিশ প্রাণীদের সাহায্য করতে টানা ৩২ বছর ধরে নিয়োজিত রেখেছেন। এখন তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হলেও প্রাণীদের খাবার দেওয়া থেকে ভুলেন না। কর্মস্থলে পরিবর্তন হলে আগের বাসস্থানে সপ্তাহে একদিন তিনি কুকুর-বিড়ালদের দেখা করেন।
তাঁকে দেখলেই কুকুরগুলো ঘিরে ধরে আসে। যেন বহুদিন পর ফিরে পাওয়া কোনো আপনজন।
বিশেষ যত্ন ও সহায়তা
আনোয়ারের কাজ শুধুমাত্র খাবার দেওয়া নয়— প্রাণীদের ক্ষত ধুয়ে দেওয়া, হাড় বা কাঁটা আটকে গেলে তা খুলে দেওয়া, অসুস্থ প্রাণীদের ওষুধ খাওয়ানো তার বিশেষ কর্মসূচি। ড্রেন বা কালভার্টে কোনো প্রাণী আটকে গেলে তিনি তাদের উদ্ধার করেন।
তিনি মাটির পাতিলে খাবার পরিবেশন করলে কুকুরগুলো শান্তভাবে খেতে শুরু করে। প্রাণীদের নামও রেখেছেন— অভি, কালু, জিমি ও বুলবুলি। নাম ডাকলে এগিয়ে আসে তারা।
সামাজিক সহায়তার কারণে শহরের বেওয়ারিশ কুকুর-বিড়ালগুলো আরও ভালোভাবে বাঁচতে পারবে। তিনি বলেন, খাবারের ঝুটা কুড়িয়ে আনি। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী খরচ করি। মানুষের সঙ্গে অনেক চলেছি, মানুষ বেইমানি করে। কিন্তু কুকুর-বিড়াল কখনও বেইমানি করে না।
প্রাণীর প্রতি দয়া করলে আল্লাহ খুশি হন— এটাই তাঁর বিশ্বাস। কেউ তাঁকে পাগল বলে আসে, তবে এসব কথায় আমি গুরুত্ব দিই না।
