জাতিসংঘের নতুন বিশ্ব মানচিত্র নিয়ে বিতর্ক কেন
Patrikajournal.com – জ ত স ঘ র নত ন বিশ্ব মানচিত্র ব্যবহারের উদ্যোগ ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশ্বের দেশ ও মহাদেশের আয়তন তুলনামূলকভাবে নির্ভুলভাবে দেখাতে জাতিসংঘ ‘ইকুয়াল আর্থ’ প্রজেকশন ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার পর ভারত, জাপান ও ইউক্রেন তাদের বিতর্কিত ভূখণ্ডের উপস্থাপন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ নতুন মানচিত্র ব্যবহারের পক্ষে ভোট দেয়। প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেয় ১৬৪টি দেশ; তাদের মধ্যে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যও ছিল। ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে এবং একমাত্র যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেয়।
মারকেটরের বিকল্প কেন ইকুয়াল আর্থ
নতুন উদ্যোগের উদ্দেশ্য দীর্ঘদিন ব্যবহৃত মারকেটর প্রজেকশনের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠা। ১৫৬৯ সালে তৈরি এই মানচিত্রে আফ্রিকার আয়তন বাস্তবের তুলনায় অনেক ছোট দেখায়, এমনকি গ্রিনল্যান্ডকে প্রায় একই আকারের মনে হয়। অথচ ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশনে আফ্রিকা গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে প্রায় ১৪ গুণ বড় হিসেবে দেখা যায়।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, তারা মারকেটর মানচিত্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর দিলেও কোনো নির্দিষ্ট বিকল্প মানচিত্র বাধ্যতামূলক করছে না। বরং জ ত স ঘ র নত ন উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইকুয়াল আর্থ ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে, যাতে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের আয়তন সম্পর্কে আরও সঠিক ধারণা পাওয়া যায়।
ভারত, জাপান ও ইউক্রেনের আপত্তি
বিতর্কের কেন্দ্র মূলত রাজনৈতিক সীমারেখা ও ভূখণ্ডের রঙের ব্যবহার। ইউক্রেনের অভিযোগ, রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে দেশের বাকি অংশের চেয়ে ভিন্ন এবং রাশিয়ার রঙের কাছাকাছি ছায়ায় দেখানো হয়েছে। ২০১৪ সালে রাশিয়া ক্রিমিয়া দখল করে নেয়। ইউক্রেনের জাতিসংঘ প্রতিনিধি আন্দ্রি মেলনিক বলেন, ভোটের আগে বিষয়টি সংশোধনের অনুরোধ করা হলেও তা করা হয়নি।
ইউক্রেনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে এস্তোনিয়া, জর্জিয়া, মলদোভা, সার্বিয়া ও লিথুয়ানিয়া ভোটদানে বিরত থাকে। ভারত প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দিলেও পরে কাশ্মীর ও আকসাই চিনের উপস্থাপন নিয়ে আপত্তি জানায়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখসহ ভারতের সার্বভৌম ভূখণ্ড দেশটির সরকারি মানচিত্র অনুযায়ী দেখাতে হবে।
মানচিত্রে অবশ্য বলা হয়েছে, জম্মু-কাশ্মীরের চূড়ান্ত মর্যাদা ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এখনো নির্ধারিত হয়নি। অন্যদিকে জাপান রাশিয়ার অংশ হিসেবে বিতর্কিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ দেখানোর প্রতিবাদ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সংশোধনের দাবি জানিয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষদিকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বীপগুলো দখল করার পর থেকেই অঞ্চলটি নিয়ে রাশিয়া ও জাপানের বিরোধ চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দিয়ে জাতিসংঘের অগ্রাধিকার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। ওয়াশিংটনের প্রতিনিধি বলেন, বিশ্বের বাস্তব সংকটের পরিবর্তে ১৬ শতকের মানচিত্র-প্রজেকশন নিয়ে বিতর্ক প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য থেকে মনোযোগ সরিয়ে দিতে পারে।
মানচিত্র শুধু ভৌগোলিক তথ্যের উপস্থাপনা নয়; এটি বিশ্ব সম্পর্কে মানুষের ধারণা গঠনে প্রভাব ফেলে।
প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশন কী?
এটি এমন একটি মানচিত্র প্রজেকশন, যেখানে দেশ ও মহাদেশের আপেক্ষিক আয়তন বাস্তবতার কাছাকাছি রাখার চেষ্টা করা হয়।
জাতিসংঘ কি একটি নতুন মানচিত্র বাধ্যতামূলক করেছে?
না। জাতিসংঘ কোনো একক মানচিত্র বাধ্যতামূলক করেনি; ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশন ব্যবহারে উৎসাহ দিয়েছে।
জ ত স ঘ র নত ন মানচিত্র নিয়ে আপত্তির কারণ কী?
মূল আপত্তি বিতর্কিত ভূখণ্ডের সীমারেখা, রঙ ও রাজনৈতিক অবস্থান কীভাবে দেখানো হয়েছে, তা নিয়ে।
আফ্রিকান ইউনিয়নের কয়েক মাসের প্রচারের পর প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। প্রচারকদের মতে, স্কুল, পাঠ্যবই, সংবাদমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মহাদেশগুলোর আয়তন যতটা সম্ভব নির্ভুলভাবে দেখানো জরুরি। তবে জ ত স ঘ র নত ন মানচিত্র-উদ্যোগ দেখিয়ে দিয়েছে, ভৌগোলিক নির্ভুলতার প্রশ্নের সঙ্গেও আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও সার্বভৌমত্বের বিরোধ গভীরভাবে জড়িয়ে থাকে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is জ ত স ঘ র নত ন?
জ ত স ঘ র নত ন is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does জ ত স ঘ র নত ন matter?
জ ত স ঘ র নত ন matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

