Patrikajournal
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

নাইকির লোকসান ২৩০ বিলিয়ন ডলার: হঠাৎ কেন সাম্রাজ্যের পতন

Published October 3, 2026 · Updated October 3, 2026 · By Michael Martin - patrikajournal.com

Foto : Michael Martin - patrikajournal.com

নাইকি কেন কঠিন সময় পার করছে

Patrikajournal.com – ন ইক র ল কস ন ২৩০ - ক্রীড়াপণ্যের বিশ্ববাজারে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করা নাইকি এখন এমন এক চাপের মুখে পড়েছে, যেখানে বিক্রির দুর্বলতা, বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা এবং পণ্যে নতুনত্বের ঘাটতি একসঙ্গে কাজ করছে। একসময় তারকা অ্যাথলেট, আলোচিত বিজ্ঞাপন এবং ‘জাস্ট ডু ইট’ দর্শনের কারণে ব্র্যান্ডটি প্রায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিল। কিন্তু টানা নয়টি প্রান্তিকে ব্যবসার মন্দা দেখাচ্ছে যে, সেই পুরোনো শক্তি এখন আর আগের মতো বাজারকে ধরে রাখতে পারছে না।

সর্বশেষ প্রান্তিকে নাইকির রাজস্ব ৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ১২০ কোটি ডলারে নেমেছে। একই সময়ে নিট মুনাফা ২ শতাংশ কমে হয়েছে ৭২ কোটি ডলার। সামনে আরও উদ্বেগের ইঙ্গিতও দিয়েছে কোম্পানিটি: পরবর্তী অর্থবছরে রাজস্ব উচ্চ এক অঙ্কের হারে কমতে পারে। অর্থাৎ এটি কেবল একটি দুর্বল ত্রৈমাসিকের ঘটনা নয়; ব্যবস্থাপনা নিজেই দীর্ঘতর চাপের সম্ভাবনা দেখছে।

শেয়ারবাজারে বড় ধাক্কা

এই ফলাফলের প্রতিক্রিয়া দ্রুতই শেয়ারবাজারে দেখা যায়। আর্থিক হিসাব প্রকাশের পর নিউইয়র্কের আফটার-আওয়ার্স লেনদেনে নাইকির শেয়ারদর প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে যায়। গত পাঁচ বছরে কোম্পানিটির বাজারমূল্যের পতন প্রায় ৭৫ শতাংশ। সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২৩০ বিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য হারিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

পতনের মাত্রা এতটাই বড় যে, নাইকি এসঅ্যান্ডপি ১০০ সূচকে থাকা শীর্ষ ১০০ মার্কিন প্রতিষ্ঠানের তালিকা থেকেও বাদ পড়েছে। তবে শেয়ারদরের এই ধসকে মূল রোগ না ভেবে লক্ষণ হিসেবে দেখা জরুরি। আসল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, দ্রুত বদলে যাওয়া ক্রীড়া ও ফ্যাশনপণ্যের বাজারে গ্রাহকের আগ্রহ জাগানোর মতো পণ্য নাইকি ধারাবাহিকভাবে দিতে পারছে কি না।

চাহিদা আছে, কিন্তু পণ্যের আকর্ষণ কমছে

মানুষ যে ক্রীড়াজুতা বা স্পোর্টসওয়্যার কেনা কমিয়ে দিয়েছে, বিষয়টি এমন নয়। বরং প্রতিযোগিতার ধরন বদলেছে। দৌড়, ফিটনেস এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের জুতার বাজারে ক্রেতারা এখন আর কেবল একটি পরিচিত লোগোর ওপর নির্ভর করছেন না। আরাম, প্রযুক্তি, নকশা এবং নতুনত্ব—সব মিলিয়ে তাঁরা বিকল্প ব্র্যান্ড বেছে নিচ্ছেন।

নাইকি জানিয়েছে, দৌড়সহ প্রধান ক্রীড়া বিভাগে কিছু উন্নতির আভাস রয়েছে। কিন্তু জীবনধারা ও দৈনন্দিন ফ্যাশননির্ভর পণ্যের অবস্থাই বেশি দুর্বল। ‘নাইকি স্পোর্টসওয়্যার’ এবং ‘জর্ডান’ ব্র্যান্ডের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সহযোগী ব্র্যান্ড কনভার্সের প্রান্তিক রাজস্বও ২৮ শতাংশ নেমে গেছে।

একসময় এয়ার ফোর্স ১, ডাঙ্ক ও এয়ার জর্ডান শুধু মাঠের জুতা ছিল না; তরুণদের কাছে এগুলো ছিল পরিচয়, ফ্যাশন এবং সামাজিক মর্যাদার অংশ। সেই সাংস্কৃতিক প্রভাবকে ধরে রাখাই এখন কঠিন হয়ে উঠেছে। সুইজারল্যান্ডের অন রানিং এবং হোকার মতো তুলনামূলক নতুন ব্র্যান্ড দৌড়বিদদের পাশাপাশি সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যেও দ্রুত জায়গা করে নিয়েছে।

“তারা পণ্যের ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে বেশি নজর দিতে গিয়ে মূল উদ্ভাবনে (আর অ্যান্ড ডি) লাগাম টেনে ধরেছিল। কেউ কেউ মশকরা করে বলতেন, নাইকি নাকি নিজেকে ‘ইবে’ (eBay)-তে পরিণত করতে চাচ্ছে।” — স্পোর্টস খুচরা শিল্প বিশ্লেষক ম্যাট পাওয়েল

এই মন্তব্যে নাইকির সংকটের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে আসে। ডিজিটাল বিক্রি বাড়ানো এবং অনলাইন গ্রাহকের কাছে সরাসরি পৌঁছানো ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় হলেও, পণ্যের প্রযুক্তি ও নকশায় বিনিয়োগ কমে গেলে ব্র্যান্ডের দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান দুর্বল হতে পারে। বিশেষ করে এমন বাজারে, যেখানে নতুন জুতা বা পোশাকের নকশা খুব দ্রুত আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।

তারকা-নির্ভর ব্র্যান্ড পরিচয়েও ফাটল

বিশ্বসেরা অ্যাথলেটদের সঙ্গে নাইকির সম্পর্ক ছিল কোম্পানিটির বিপণন শক্তির প্রধান ভিত্তিগুলোর একটি। আশির দশকে বাস্কেটবল কিংবদন্তি মাইকেল জর্ডানের সঙ্গে চুক্তি শুধু পণ্য বিক্রি বাড়ায়নি, ক্রীড়াবিপণনের ইতিহাসই বদলে দেয়। পরে টাইগার উডস, সেরেনা উইলিয়ামস এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মতো তারকারা ব্র্যান্ডটির পরিচয়কে আরও শক্তিশালী করেন।

সাম্প্রতিক সময়ে সেই শক্তিতেও আঘাত এসেছে। ২০২৪ সালে টাইগার উডস নাইকির সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করেন। এরপর ফরাসি ফুটবল তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে দীর্ঘ ২০ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করে সুইস প্রতিদ্বন্দ্বী অন-এ যোগ দেন। তার আগে তরুণ স্প্যানিশ ফুটবলার লামিন ইয়ামাল নাইকি ছেড়ে অ্যাডিডাসে যান।

এমবাপ্পের বিদায় প্রতীকী এবং ব্যবসায়িক—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তারকারা শুধু বিজ্ঞাপনের মুখ নন; তাঁদের পছন্দ ভক্তদের ব্র্যান্ড-ধারণা ও কেনাকাটার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, নতুন প্রজন্মের অ্যাথলেট ও ক্রেতাদের কাছে নাইকি এখনও কি প্রথম সারির পছন্দ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে?

সরাসরি বিক্রির কৌশলের মূল্য

সাবেক প্রধান নির্বাহী জন ডোনাহোর সময়ে নাইকি ‘ডিরেক্ট-টু-কনজিউমার’ বা ডিটিসি বিক্রি মডেলকে অগ্রাধিকার দেয়। এই পদ্ধতিতে নিজস্ব ওয়েবসাইট ও অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি বিক্রি বাড়ানোর লক্ষ্য ছিল। সেই সঙ্গে বহু প্রচলিত খুচরা বিক্রেতা ও দোকানের সঙ্গে সম্পর্ক সীমিত বা বাতিল করা হয়।

কৌশলটির উদ্দেশ্য ছিল মুনাফার ওপর বেশি নিয়ন্ত্রণ রাখা এবং গ্রাহকের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক গড়ে তোলা। কিন্তু এর একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ফল হয়: সাধারণ দোকান, সুপারশপ ও খেলাধুলার খুচরা বিক্রয়স্থলে নাইকির উপস্থিতি কমে যায়। সেই জায়গা কাজে লাগিয়ে অন ও হোকার মতো ব্র্যান্ডগুলো দৃশ্যমানতা বাড়ায় এবং নতুন ক্রেতা সংগ্রহ করে।

বর্তমান প্রধান নির্বাহী এলিয়ট হিল দায়িত্ব নেওয়ার পর খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন। এটি কেবল বিক্রির চ্যানেল বাড়ানোর পদক্ষেপ নয়; ক্রেতা যেখানে পণ্য হাতে নিয়ে দেখতে, পরতে ও তুলনা করতে চান, সেখানে ব্র্যান্ডকে আবার দৃশ্যমান করার প্রচেষ্টাও।

চীনের বাজারে বাড়তি উদ্বেগ

নাইকের জন্য চীন দীর্ঘদিন ধরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক আন্তর্জাতিক বাজারগুলোর একটি। কিন্তু সাম্প্রতিক প্রান্তিকে সেখানে রাজস্ব ২২ থেকে ২৬ শতাংশ কমেছে। স্থানীয় চীনা ব্র্যান্ডের উত্থান এবং ক্রেতাদের বদলে যাওয়া রুচির সঙ্গে তাল মেলাতে কোম্পানিটি চাপের মধ্যে পড়েছে।

চীনের মতো বিশাল বাজারে দুর্বলতা বিশ্বব্যাপী আয়ের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বীরা যখন দেশীয় গ্রাহকের পছন্দ, ফ্যাশনধারা ও বাজারের গতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে, তখন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের জন্য শুধু পরিচিত নাম যথেষ্ট হয় না।

পুনর্গঠনের পরিকল্পনা কতটা কার্যকর হবে

পরিস্থিতি সামলাতে নাইকি ‘পেস’ নামের একটি রূপান্তর পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরবরাহ শৃঙ্খলে পরিবর্তন, আঞ্চলিক বিভাগ কমানো এবং বড় পরিসরে কর্মী ছাঁটাই। ২০৩১ সালের মধ্যে এই পুনর্গঠনের মাধ্যমে ২৫০ কোটি ডলার ব্যয় কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে খরচ কমানোর এই উদ্যোগের শুরুতেই বড় ব্যয় রয়েছে। অগ্রিম কর-সংক্রান্ত ব্যয়সহ প্রায় ১০০ কোটি ডলার অতিরিক্ত খরচ হতে পারে, যার উল্লেখযোগ্য অংশ ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের ভাতা দিতে ব্যয় হবে। একই সময়ে ভারতের বেঙ্গালুরুতে নতুন ক্যাম্পাস খোলার পরিকল্পনাও করছে কোম্পানিটি।

নাইকের সামনে তাই কাজ দুটি: স্বল্পমেয়াদে বিক্রির চ্যানেল ও ব্যয় কাঠামো ঠিক করা, আর দীর্ঘমেয়াদে উদ্ভাবন, পণ্যের আকর্ষণ এবং অ্যাথলেট-নির্ভর ব্র্যান্ড মর্যাদা ফিরিয়ে আনা। শুধু খরচ কমিয়ে সংকট কাটবে না; ক্রেতাকে আবার বিশ্বাস করাতে হবে যে নতুন প্রজন্মের ক্রীড়া ও জীবনধারার চাহিদা বোঝার সক্ষমতা নাইকির এখনও আছে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ন ইক র ল কস ন ২৩০?

ন ইক র ল কস ন ২৩০ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ন ইক র ল কস ন ২৩০ matter?

ন ইক র ল কস ন ২৩০ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.