খুলশীর অভিযানের পর বিদেশি নাগরিকদের দেশে আনার অভিযোগে মহসীন গ্রেপ্তার
Patrikajournal.com – অনল ইন প রত রক ব দ – চট্টগ্রাম নগরের খুলশীতে ধরা পড়া আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণা চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মহসীন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিভিন্ন দেশের ৬৩ জন নাগরিককে বাংলাদেশে আনতে সহযোগিতা করেছিলেন এবং তাঁদের থাকার জন্য আটতলা একটি ভবন ভাড়া নেওয়ার ব্যবস্থাও করেন। শনিবার খুলশী থানা এলাকার মধ্যে থেকে তাঁকে আটক করা হয়।
মহসীনের বাড়ি লক্ষ্মীপুরে। তিনি চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এলাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক অনুসন্ধানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানতে পেরেছে, বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল এবং তাঁদের পাসপোর্টও তাঁর জিম্মায় রাখা হয়েছিল।
কোকেনের সূত্রে খুলশীর ভবনে অভিযান
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ১১৮ গ্রাম কোকেন পাঠানোর একটি ঘটনার তদন্ত থেকেই খুলশীর ওই ভবনে বহু বিদেশি নাগরিক অবস্থানের তথ্য সামনে আসে। কয়েক দিন আগে কুরিয়ার সার্ভিসে ঢাকায় থাকা এক ব্যক্তির কাছে কোকেন পাঠানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে চালানটি ফেরত আসে। সেই ঘটনার তথ্য যাচাই করতে গিয়ে তদন্তকারীদের নজরে আসে কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার একটি ভবন।
গত বৃহস্পতিবার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের আটতলা ভবনটিতে যৌথ অভিযান চালায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা পুলিশ। সেখানে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের ৬৩ জন নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানের সময় ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপ এবং আরও কিছু ডিজিটাল সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। বিপুলসংখ্যক ফোন ও কম্পিউটার উদ্ধারের ঘটনাটি তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে, কারণ অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে ডিজিটাল যোগাযোগ, অ্যাকাউন্ট পরিচালনা এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়গুলো যাচাই করা প্রয়োজন হতে পারে। তবে এসব যন্ত্রে কী ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে পুলিশ কোনো বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।
বিদেশিদের বাংলাদেশে আসার পথ নিয়ে অনুসন্ধান
গ্রেপ্তার হওয়া বিদেশি নাগরিকদের কয়েকজন কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটকে জানিয়েছেন, মহসীনের মাধ্যমেই তাঁরা বাংলাদেশে এসেছিলেন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশে আসার পর প্রথমে তাঁরা দুই দিন ঢাকায় ছিলেন। এরপর চট্টগ্রামে যান এবং খুলশীর ওই ভবনে অবস্থান শুরু করেন।
এই তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা এখন জানতে চাইছেন, বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশে আনার পরিকল্পনা কার ছিল, তাঁদের যাতায়াত ও আবাসনের অর্থ কোথা থেকে এসেছে এবং ভবনটি ভাড়ার পেছনে কার নির্দেশনা ছিল। মহসীনের সঙ্গে ওই ৬৩ জনের সম্পর্কের ধরনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
“৬৩ বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে মহসীনের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বিদেশিদের জন্য আটতলা ভবনটি ভাড়া করে দেন। বিদেশি নাগরিকদের পাসপোর্টও তাঁর কাছে জমা ছিল।”
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহিম জানান, মহসীনের পেছনে কারা থাকতে পারেন, তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তদন্তে তাঁর ভূমিকা শুধু আবাসনের ব্যবস্থা ও যোগাযোগে সীমিত ছিল কি না, নাকি তিনি আরও বিস্তৃত কোনো কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন—এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে।
কোকেন মামলায় কারাগারে
কোকেন-সংক্রান্ত মামলায় শনিবার রাতে মহসীনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ৬৩ বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে হওয়া মামলাতেও তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করা হবে। পাশাপাশি তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করার প্রস্তুতিও রয়েছে।
রিমান্ড মঞ্জুর হলে বিদেশি নাগরিকদের দেশে আসা, ঢাকায় অবস্থান এবং চট্টগ্রামে স্থানান্তরের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তদন্তকারীরা এ-ও জানতে চাইবেন, ভবনটি ভাড়া করার সিদ্ধান্ত কে নিয়েছিল, পাসপোর্ট তাঁর কাছে কেন রাখা হয়েছিল এবং এ ঘটনায় আরও কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সহায়তা করেছে কি না।
“রিমান্ড মঞ্জুর হলে মহসীনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্র সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হবে।”
অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে একসঙ্গে এত বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তারের ঘটনা তদন্তকে বহুমাত্রিক করে তুলেছে। এখানে অভিবাসন-সংক্রান্ত কাগজপত্র, থাকার ব্যবস্থা, যোগাযোগের মাধ্যম, ডিজিটাল ডিভাইস এবং আর্থিক লেনদেনের সম্ভাব্য সূত্র—সবকিছুই যাচাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে। পুলিশ এখন পর্যন্ত যে তথ্য জানিয়েছে, তাতে মহসীনকে ওই ঘটনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে মামলার তদন্ত ও আদালতের কার্যক্রম শেষ হওয়ার আগে অভিযোগগুলোর আইনগত নিষ্পত্তি হয়নি। গ্রেপ্তার, জব্দ করা ডিভাইসের তথ্য পরীক্ষা এবং সম্ভাব্য জিজ্ঞাসাবাদ থেকে পরবর্তী সময়ে চক্রটির কার্যক্রম, সদস্যসংখ্যা ও যোগাযোগের বিস্তৃতি সম্পর্কে আরও তথ্য উঠে আসতে পারে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is অনল ইন প রত রক ব দ?
অনল ইন প রত রক ব দ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does অনল ইন প রত রক ব দ matter?
অনল ইন প রত রক ব দ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

