Patrikajournal
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

অনলাইন প্রতারণা: বিদেশি চক্রের আস্তানা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার

Published September 13, 2026 · Updated September 13, 2026 · By Christopher Gonzalez - patrikajournal.com

Foto : Christopher Gonzalez - patrikajournal.com

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে বিদেশি অনলাইন প্রতারক চক্রের ঘাঁটি

Patrikajournal.com – অনল ইন প রত রণ - নির্জন রিসোর্ট থেকে নগরের অভিজাত আবাসিক ভবন—দুই ভিন্ন পরিবেশকে ব্যবহার করে বাংলাদেশে কার্যক্রম চালাচ্ছিল একটি আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণা চক্র। চট্টগ্রামের খুলশী ও কক্সবাজারের রামুতে পৃথক অভিযানে ৬৯ বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তারের পর তাদের নেটওয়ার্ক, স্থানীয় সহযোগী এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত জোরদার হয়েছে।

তদন্তকারীদের ধারণা, নিজ নিজ দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চাপের মুখে চক্রটির সদস্যরা বাংলাদেশে এসে নিরাপদ ঘাঁটি তৈরির চেষ্টা করেছিল। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারকে কেন তারা বেছে নিয়েছিল এবং তাদের পেছনে কারা সহায়তা করেছে, সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বাংলাদেশি দুই সন্দেহভাজন মূল ব্যক্তিকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

খুলশীর ১৪ ফ্ল্যাটে ৬৩ বিদেশি

গত বৃহস্পতিবার রাতে শুরু হয়ে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর রোডের একটি আটতলা ভবনে অভিযান চলে। ভবনটির ১৪টি ফ্ল্যাট থেকে ২০ নারীসহ ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও খুলশী থানা-পুলিশ।

আটকদের মধ্যে লাওসের নাগরিক ৩৫ জন, পাকিস্তানের ২১ জন এবং চীনের পাঁচজন। এ ছাড়া ভিয়েতনাম ও নেপালের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। অভিযানকালে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপ, চারটি পাকিস্তানি জাতীয় পরিচয়পত্রসহ নানা প্রযুক্তি সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

শুক্রবার রাতে সাইবার সুরক্ষা আইনে খুলশী থানায় মামলা হওয়ার পর তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক রাসেল মাহমুদ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কয়েকজন পাকিস্তানি নাগরিক জানিয়েছেন, তাঁরা জুন মাসে বাংলাদেশে আসেন এবং ‘মহসীন’ নামে এক বাংলাদেশি তাঁদের এখানে নিয়ে আসেন। তাঁদের পাসপোর্টও ওই ব্যক্তির কাছে রয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেছেন। তদন্তের স্বার্থে মহসীনের বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

তদন্তে বড় জটিলতা তৈরি করেছে ভাষাগত সীমাবদ্ধতা। কয়েকজন পাকিস্তানি নাগরিক ছাড়া অধিকাংশ আটক ব্যক্তি নিজেদের ভাষার বাইরে ইংরেজি বা অন্য ভাষা বুঝতে পারেন না। তাঁদের কারও কাছ থেকে পাসপোর্টও মেলেনি। তাই দোভাষীর সহায়তায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পরিকল্পনা রয়েছে।

উদ্ধার হওয়া মোবাইল, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এসব যন্ত্রের তথ্য বিশ্লেষণ হলে চক্রটি কী ধরনের অনলাইন অপরাধে জড়িত ছিল, কারা তাদের লক্ষ্য ছিল এবং বিদেশে থাকা কোনো নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল কি না—এসব বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

দুবাইপ্রবাসীর ভবন, স্থানীয় সহযোগীর সন্ধান

যে ভবনে এত বিপুলসংখ্যক বিদেশি অবস্থান করছিলেন, সেটির মালিক দুবাইপ্রবাসী। অভিযানের সময় মালিকপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। কেয়ারটেকার মো. ইলিয়াস জানিয়েছেন, বিদেশিদের আটকের পর ভবনটির দায়িত্ব পুলিশ নিয়েছে।

তদন্তকারীরা মনে করছেন, আবাসিক এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে এমন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে বাসা ভাড়া, যাতায়াত, যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনায় সহায়তা প্রয়োজন হয়েছে। মহসীনকে আইনের আওতায় আনা গেলে এই নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া সম্ভব হতে পারে।

রামুর রিসোর্টে আইফোনের বিপুল মজুত

চট্টগ্রামের অভিযানের আগে কক্সবাজারেও একই ধরনের কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিত মেলে। কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে রামুর হিমছড়ির মেরিনা বিচ ভিলা রিসোর্টে গত ২৫ আগস্ট অভিযান চালিয়ে চীনের পাঁচজন ও তাইওয়ানের একজন নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ তাঁদেরও সংঘবদ্ধ অনলাইন প্রতারক চক্রের সদস্য হিসেবে দেখছে।

সেখানে প্রথম দফায় ১ হাজার ৯৩৮টি আইএমইআই নম্বরযুক্ত পুরোনো মডেলের আইফোন উদ্ধার হয়। পরে আরও ৭০০ আইএমইআই নম্বরের আইফোন, ৫০টি মনিটর, ৪৪টি সিপিইউ এবং বিভিন্ন ডিভাইস পাওয়া যায়। উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে চীনা পুলিশের দুটি র‌্যাংক ব্যাজ, পুলিশ লোগোযুক্ত টাই এবং চীনের দুটি জাতীয় পতাকাও ছিল।

রিসোর্টে ছয়টি সাউন্ডপ্রুফ কক্ষের উপস্থিতি তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এ ধরনের কক্ষ সাধারণত বাইরের শব্দ থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে কাজ করা বা কথোপকথন গোপন রাখার সুযোগ দেয়। তবে এই কক্ষগুলো কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতো, তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

মামলার এজাহারে উল্লেখ আছে, অভিযানের বিষয়টি বুঝতে পেরে রিসোর্টে অবস্থানরত চীন ও তাইওয়ানের আরও অনেকে পেছনের খোলা সৈকত এলাকা দিয়ে পালিয়ে যায়। রামু থানার পুলিশ পরিদর্শক মিন্টু দত্ত বাদী হয়ে গ্রেপ্তার ছয়জনসহ ২৫০ থেকে ৩০০ জনের বিরুদ্ধে সাইবার আইনে মামলা করেছেন।

ভুয়া পরিচয়ে রিসোর্ট ভাড়া

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ‘বাবর আলী’ নামে এক ব্যক্তি এপ্রিল থেকে রিসোর্টটি ভাড়া নেন। তিনি বাংলাদেশে একটি নির্মাণ কোম্পানি গড়ার প্রক্রিয়ায় থাকা প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশের বিশেষ শাখার অনুসন্ধানে এমন কোনো কোম্পানির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিসোর্টের মহাব্যবস্থাপক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেছেন, বিদেশি নাগরিকেরা ভুয়া পরিচয় ও তথ্য ব্যবহার করে জায়গাটি ভাড়া নিয়েছিলেন। নিয়ম অনুসরণ করে ভাড়াটে চুক্তিও করা হয়েছিল, কিন্তু পরে তাঁদের প্রকৃত তৎপরতার বিষয়টি সামনে আসে।

দুই জেলার ঘটনা অনলাইন অপরাধের সীমান্তপারের চরিত্রকে সামনে এনেছে। একটি চক্রের সদস্যরা ভিন্ন ভিন্ন দেশের নাগরিক হতে পারে, কিন্তু তাদের যোগাযোগ, ডিভাইস, ভাড়া করা আবাসন ও স্থানীয় সহায়তার সূত্রগুলো একই তদন্তে মিলিত হয়। জব্দ করা প্রযুক্তি সরঞ্জামের ফরেনসিক ফল এবং পলাতক ব্যক্তিদের সন্ধান মিললে এই নেটওয়ার্কের বিস্তার সম্পর্কে আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is অনল ইন প রত রণ?

অনল ইন প রত রণ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does অনল ইন প রত রণ matter?

অনল ইন প রত রণ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.