Patrikajournal
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

অনিশ্চয়তার পথে রাকসু

Published September 1, 2026 · Updated September 1, 2026 · By Jessica Martinez - patrikajournal.com

Foto : Jessica Martinez - patrikajournal.com

রাকসুর মেয়াদ শেষের দিকে, পরবর্তী নির্বাচনের কোনো ছায়া নেই

Patrikajournal.com – অন শ চয়ত র পথ র কস - চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করে ৩৫ বছর পর প্রথমবারের মতো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই নির্বাচনের প্রায় ১১ মাস অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু পরবর্তী নির্বাচন সংক্রান্ত প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান প্রস্তুতি বা আলোচনা এখনো শুরু হয়নি। মেয়াদ শেষের দিকে পৌঁছে যাওয়া বর্তমান কমিটির পরে ছাত্রজীবন কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

যে নির্বাচন হয়েছিল

গত বছরের জুলাই মাসে রাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। প্রাথমিকভাবে ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল সেপ্টেম্বরে। তবে কয়েক দফা পরিবর্তনের পর অবশেষে ১৬ অক্টোবর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে জয়ী হয় শিবির-সমর্থিত প্যানেল 'সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট'। তারা নির্বাচনী ইশতেহারে রাকসু নির্বাচনকে ক্যালেন্ডারভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে প্যানেলের পক্ষ থেকেও কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা চোখে পড়ছে না।

রাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচিত নির্বাহী কমিটির মেয়াদ দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে এক বছর। বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষের দিকে পৌঁছে গেছে। নতুন নির্বাচন আয়োজন সংক্রান্ত কোনো আলোচনা এখনো শুরু হয়নি বলে জানিয়েছেন রাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেতাউর রহমান।

'উপর মহলের ক্লিয়ারেন্স' — যে শব্দে আটকে আছে সবকিছু

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার উঠে আসছে একই যুক্তি: 'উপর মহলের ক্লিয়ারেন্স' না থাকায় নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয়। অধ্যাপক সেতাউর রহমান এই বিষয়ে সরাসরি বলেছেন:

আপাতত নির্বাচন হওয়ার ব্যাপারে কোনো ক্লিয়ারেন্স প্রশাসনের কাছে নাই। ওপরের নির্দেশ না পেলে প্রশাসন হাতো আগাতে পারবে না। এ বছর হচ্ছে নাকি সামনে হবে—এটাও বলা যাবে না।

তবে তিনি স্পষ্ট করেই জানিয়েছেন, নির্বাচন আয়োজন প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল নয়। তার মতে, উপরের ক্লিয়ারেন্স এলে যেকোনো সময়ে মাঠে নামা সম্ভব। না এলে হবে না। এবং না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি ধরে নিতে হবে। উপাচার্যের ওপরও বিষয়টি নির্ভর করছে না। তিনি এটিকে প্রাইম মিনিস্টারের সিদ্ধান্তের সমতুল্য বলে আখ্যা দিয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের হতাশা ও প্রত্যাশার ফাঁক

দীর্ঘ তিন দশকের অপেক্ষার পর রাকসু নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রচুর প্রত্যাশা জেগেছিল। কিন্তু মেয়াদ প্রায় শেষের দিকে পৌঁছে শিক্ষার্থীরা এখন প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব করছেন। একাংশ শিক্ষার্থীর অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পর নির্বাচন নিয়ে যে আশা তৈরি হয়েছিল, বর্তমান কমিটির কার্যক্রমে তার অনেকটাই পূরণ হয়নি। বিভিন্ন সমস্যা ও দাবিতে রাকসুর আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করলেও বাস্তবে তেমন কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। এমনকি রাকসুর কিছু অবাস্তব ইশতেহার শিক্ষার্থীদের হতাশ করেছে বলেও অভিযোগ আছে।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল এই প্রেক্ষাপট নিয়ে বলেন:

রাকসুর বর্তমান বডি অবশ্যই শিক্ষার্থীদের হতাশ করেছে। ৩৫ বছর পর রাকসুর যে মাহাত্ম্য বা রাকসুর যে তাৎপর্য, সেটাকে আসলে তারা শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছাতে দেয়নি। কিন্তু এসব ব্যর্থতার পরও আসলে রাকসু হতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে.

রাকসু নেতৃত্বের অবস্থান

রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ প্রশাসনের অনীহাকে সরাসরি তুলে ধরেন। তিনি বলেন:

যারা নির্বাচন আয়োজন করবে, সেই প্রশাসনের অনীহা লক্ষ করছি; যা আশঙ্কা তৈরি করছে।

অন্যদিকে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন আয়োজনে জোরালো দাবি জানানোর কথা বলেন। তার ভাষ্য:

আমরা আশা করব, নির্ধারিত সময়ে রাকসু হবে। আমার বিশ্বাস অন্যরাও এটাই চাইবে। যদি নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন না হয়, তাহলে আমরা আমাদের জায়গা থেকে রাকসু আদায়ের জন্য কাজ করব।

তবে তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সবগুলো দপ্তরের মধ্যে রাকসুকে সবচেয়ে বেশি অবহেলা করা হচ্ছে।

রাকসু এজিএস সালমান সাব্বির ক্যালেন্ডারভুক্ত ইশতেহার বিষয়ে জানিয়েছেন, সর্বশেষ অধিবেশনেও রাকসু নির্বাচনকে অ্যাজেন্ডা হিসেবে রাখা হয়েছিল এবং উপাচার্যকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। উপাচার্যের প্রতিক্রিয়া ছিল—'দেখা যাক, আলোচনা করা যাবে।'

উপাচার্যের দৃষ্টিভঙ্গি

রাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বিষয়টি নিয়ে বলেন:

আমরা সব সময়েই চাই, ছাত্র সংসদ থাকুক এবং নির্বাচন হোক। তবে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে। শুধু সময় হলেই নির্বাচন করা সম্ভব নয়; সামগ্রিক পরিবেশ ও পরিস্থিতিও অনুকূলে থাকতে হবে।

প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য

রাকসু মানে শুধু একটি নির্বাচন নয়। এটি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বের একমাত্র স্বীকৃত প্ল্যাটফর্ম। তিন দশকের নিরবচ্ছিন্ন অনুপস্থিতির পর চব্বিশের অভ্যুত্থান এই ফাঁক পূরণের সুযোগ তৈরি করেছিল। কিন্তু নির্বাচন হওয়ার পরপরই পরবর্তী চক্রের প্রশ্ন উঠে আসা উচিত ছিল। এখন মেয়াদ শেষের দিকে পৌঁছে সেই প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই। প্রশাসন 'উপর মহলের ক্লিয়ারেন্স' বলে আটকে আছে, জয়ী প্যানেল প্রতিশ্রুতি পূরণে নীরব, আর শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশা ও হতাশার মাঝে আটকে আছে। রাকসু যদি আবার দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতির দিকে সরে যায়, তবে চব্বিশের পর তৈরি হওয়া শিক্ষার্থী-প্রতিনিধিত্বের সংকট আরও গভীর হবে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is অন শ চয়ত র পথ র কস?

অন শ চয়ত র পথ র কস is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does অন শ চয়ত র পথ র কস matter?

অন শ চয়ত র পথ র কস matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.