Patrikajournal
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

ইছামতীর বুকে ভেলাবাইচ: নদীর দুই পাড়ে মানুষের ঢল, চ্যাম্পিয়ন ‘বন্ধুমহল’

Published September 20, 2026 · Updated September 20, 2026 · By Karen Jones - patrikajournal.com

Foto : Karen Jones - patrikajournal.com

ইছামতীর তীরে ঐতিহ্যের উৎসব, ভেলাবাইচে সেরা গোবিন্দপুরের ‘বন্ধুমহল’

Patrikajournal.com – ইছ মত র ব ক ভ ল - মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার হাটিপাড়া ইউনিয়নের চৌকিঘাটা এলাকায় ইছামতী নদীজুড়ে শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, দেখা গেল গ্রামবাংলার এক প্রাণবন্ত চিত্র। কলাগাছের ভেলায় প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে নদীর দুই তীর ভরে ওঠে মানুষের উপস্থিতিতে। হারিয়ে যেতে থাকা লোকজ বিনোদনকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই স্থানীয়দের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় এই ভেলাবাইচ।

প্রতিযোগিতায় বংখুরী, ঝিটকা, গোবিন্দপুর এবং আশপাশের আরও কয়েকটি এলাকার দল অংশ নেয়। ভেলার ওপর দাঁড়িয়ে কিংবা বসে প্রতিযোগীরা যখন বৈঠার জোরে সামনে এগোতে থাকেন, তখন নদীপাড়জুড়ে তৈরি হয় উচ্ছ্বাস। শেষ পর্যন্ত তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা পেরিয়ে গোবিন্দপুর গ্রামের ‘বন্ধুমহল’ দল চ্যাম্পিয়নের স্বীকৃতি অর্জন করে। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার হিসেবে তুলে দেওয়া হয় একটি ফ্রিজ।

সকাল থেকে জমে ওঠে নদীপাড়

ভেলাবাইচ শুরুর আগেই ইছামতীর দুই পাড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। এলাকার বাসিন্দাদের পাশাপাশি দূরের বিভিন্ন স্থান থেকেও মানুষ আসেন এই আয়োজন দেখতে। শিশু, কিশোর, তরুণ, নারী ও প্রবীণ—সব বয়সের মানুষের উপস্থিতিতে চৌকিঘাটা এলাকা দিনভর মুখর ছিল।

নদীর ধার ঘিরে বসে নানা ধরনের খাবারের দোকান ও অস্থায়ী মেলা। ভিড়ের মধ্যে কেউ খেলা দেখেছেন, কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরেছেন, আবার কেউ লোকজ পরিবেশের আনন্দ উপভোগ করেছেন। সন্ধ্যা নামার পরও দর্শকের চাপ কমেনি। রাত ৮টা পর্যন্ত চলেছে মেলা ও বাইচের আয়োজন; এরপর অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণ।

কলাগাছের ভেলায় লড়াই

ভেলাগুলো ছিল কলাগাছ দিয়ে তৈরি, যা এই প্রতিযোগিতার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি। নদীতে নামার পর প্রতিটি দলের লক্ষ্য ছিল দ্রুতগতিতে নির্ধারিত পথ অতিক্রম করা। ঢেউ সামলে, ভেলার ভারসাম্য ধরে এবং প্রতিপক্ষকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে প্রতিযোগীদের যথেষ্ট পরিশ্রম করতে হয়।

কখনো একটি ভেলা অন্যটির কাছাকাছি চলে আসছে, আবার কখনো বৈঠার বাড়তি টানে কোনো দল সামনে বেরিয়ে যাচ্ছে—এমন দৃশ্য দর্শকদের উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়। প্রতিযোগীদের প্রাণপণ চেষ্টা আর তীরের মানুষের করতালি মিলিয়ে ইছামতীর পাড় যেন একদিনের জন্য উন্মুক্ত উৎসবমঞ্চে পরিণত হয়।

‘বন্ধুমহল’ দলের চ্যাম্পিয়ন হওয়া গোবিন্দপুর গ্রামের মানুষের জন্য ছিল বাড়তি আনন্দের উপলক্ষ। প্রতিযোগিতার সমাপ্তিতে বিজয়ী দলকে ঘিরে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। তবে শুধু জয়-পরাজয়ের হিসাব নয়, আয়োজনটির মূল আকর্ষণ ছিল সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে লোকজ ঐতিহ্য উদ্‌যাপন করা।

প্রতিযোগিতার চেয়ে বড় মিলনমেলা

স্থানীয়দের কাছে ভেলাবাইচ এখন কেবল নদীতে গতির লড়াই নয়। এটি প্রতিবেশী গ্রামগুলোর মানুষের দেখা-সাক্ষাৎ, বিনোদন এবং সামাজিক সম্প্রীতির একটি উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। এক এলাকায় এমন আয়োজন হলে আশপাশের মানুষের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা যায়; নদীর তীরে বহু পরিচিত মুখের সঙ্গে নতুন দর্শনার্থীরও মিলন ঘটে।

গ্রামবাংলার অনেক ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও উৎসব সময়ের সঙ্গে কমে গেলেও ভেলাবাইচের মতো আয়োজন সেই স্মৃতিকে ধরে রাখার সুযোগ তৈরি করছে। শিশু-কিশোরদের জন্য এটি বই বা গল্পে পড়া পুরোনো সংস্কৃতিকে সরাসরি দেখার অভিজ্ঞতা। কলাগাছের ভেলা কীভাবে তৈরি হয়, নদীকেন্দ্রিক খেলাধুলায় কী ধরনের দক্ষতা লাগে এবং গ্রামের মানুষ কীভাবে সম্মিলিতভাবে উৎসব গড়ে তোলে—এসবের সঙ্গে পরিচিত হওয়ারও একটি ক্ষেত্র তৈরি হয়।

এ ধরনের আয়োজন স্থানীয় নদী ও নদীপাড়ের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের কথাও মনে করিয়ে দেয়। ইছামতী এখানে শুধু প্রতিযোগিতার স্থান নয়; একদিনের জন্য এটি হয়ে ওঠে মানুষের আনন্দ, স্মৃতি ও সামষ্টিক অংশগ্রহণের কেন্দ্র। দর্শকদের ভিড় প্রমাণ করে, লোকজ বিনোদনের প্রতি আগ্রহ এখনো কমে যায়নি।

আট-নয় বছরের ধারাবাহিক উদ্যোগ

আয়োজকেরা জানিয়েছেন, গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে তাঁরা গত আট থেকে নয় বছর ধরে নিয়মিত ভেলাবাইচ আয়োজন করছেন। প্রতি বছরের এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে উৎসাহ তৈরি করেছে। অংশগ্রহণকারী দলের প্রস্তুতি, দর্শকদের আগ্রহ এবং মেলাকে ঘিরে প্রাণচাঞ্চল্য আয়োজকদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকেও শক্তি দিচ্ছে।

তাঁদের লক্ষ্য আগামী দিনে আরও বড় পরিসরে প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করা। তবে এমন আয়োজনের সাফল্য নির্ভর করে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ, নদীপাড়ের পরিবেশ এবং সম্মিলিত সহযোগিতার ওপর। চৌকিঘাটার এবারের ভেলাবাইচ সেই সহযোগিতারই একটি দৃশ্যমান উদাহরণ হয়ে থাকল।

ইছামতীর বুকে কলাগাছের ভেলা ছুটেছে, দুই তীরে উঠেছে মানুষের উল্লাস, আর গোবিন্দপুরের ‘বন্ধুমহল’ পেয়েছে সেরার পুরস্কার। সেই সঙ্গে দিনের শেষে রয়ে গেছে একটি বড় বার্তা—লোকজ ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে মানুষের আগ্রহ ও অংশগ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ইছ মত র ব ক ভ ল?

ইছ মত র ব ক ভ ল is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ইছ মত র ব ক ভ ল matter?

ইছ মত র ব ক ভ ল matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.