ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়: পরীক্ষাকেন্দ্রে ‘নকল সহায়ক’ টেবিল
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় নকল ঠেকাতে টেবিল বদলের দাবি
Patrikajournal.com – ইসল ম ব শ বব দ য - ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও সন্ধ্যাকালীন পরীক্ষায় অসদুপায় রোধ করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। গত এক বছরে নকলের অভিযোগে ৬০ জন শিক্ষার্থীকে শাস্তি দেওয়া হলেও পরীক্ষাকেন্দ্রে এই প্রবণতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। কাগজের ছোট নোটের সঙ্গে মোবাইল ফোন, স্মার্টওয়াচ এবং অন্যান্য ডিজিটাল উপকরণের ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের একটি অংশের অভিযোগ, পরীক্ষার কক্ষে ব্যবহৃত ক্লোজড ফ্রন্ট টেবিল নকলের সুযোগ বাড়িয়ে দিচ্ছে। টেবিলগুলোর সামনের অংশ বন্ধ থাকায় পরীক্ষার্থীর হাঁটু ও পায়ের দিকটি বাইরে থেকে দেখা যায় না। এ অবস্থায় টেবিলের আড়ালে কাগজ, ফোন বা অন্য কোনো অননুমোদিত উপকরণ রাখা থাকলে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকের পক্ষে তা সহজে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
কোন বিভাগগুলোতে ব্যবহৃত হচ্ছে এই টেবিল
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে এমন টেবিল ব্যবহারের চিত্র দেখা গেছে। আল হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিনিউকেশন টেকনোলজি, আরবি ভাষা ও সাহিত্য, আইন, ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে এগুলো রয়েছে।
এ ছাড়া বাংলা, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান, গণিত, পরিসংখ্যান, বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং জিওগ্রাফি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগেও ক্লোজড ফ্রন্ট টেবিল ব্যবহার করা হচ্ছে। টেবিলের নিচের অংশ আড়াল হয়ে যাওয়ায় পরীক্ষার্থীর অবস্থান ও আশপাশের বস্তু পর্যবেক্ষণে একটি দৃশ্যমান সীমাবদ্ধতা তৈরি হয় বলে শিক্ষার্থীরা মনে করছেন।
পরীক্ষার সময় শিক্ষকরা সাধারণত উত্তরপত্র, প্রশ্নের উত্তর লেখা এবং পরীক্ষার্থীর সামনের অংশের গতিবিধির দিকে নজর রাখেন। কিন্তু টেবিলের নিচে বা সামনের বন্ধ অংশের আড়ালে কিছু রাখা হলে সেটি নিয়মিত চোখে পড়ার সম্ভাবনা কমে যায়। ফলে কেবল শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, পরীক্ষার কক্ষের আসবাব ও নজরদারি পদ্ধতিও পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দিয়েছেন অনেকে।
এক বছরে শাস্তি পেয়েছেন ৬০ শিক্ষার্থী
বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির পাঁচটি সভায় গত বছরের ২ জুলাই থেকে চলতি বছরের ২২ জুলাই পর্যন্ত অন্তত ৬০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নকলের ধরন হিসেবে ওয়াশরুমসহ গোপন জায়গায় কাগজ লুকিয়ে রাখা, পরীক্ষার হলে স্মার্টফোন বহন এবং স্মার্টওয়াচ বা অন্য ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের বিষয়গুলো সামনে এসেছে।
গত বছরের ২ জুলাই অনুষ্ঠিত ৭১তম সভায় শাস্তি পান ৮ জন শিক্ষার্থী। ২১ অক্টোবরের ৭২তম সভায় ৭ জন এবং ২ ডিসেম্বরের ৭৩তম সভায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত হয়। চলতি বছরের ২২ মার্চ অনুষ্ঠিত ৭৪তম সভায় ১৫ জন শিক্ষার্থী শাস্তির আওতায় আসেন। সবশেষ ২২ জুলাইয়ের ৭৫তম সভায় আরও ১৭ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালায় অসদুপায়ের ঘটনায় একাধিক ধরনের শাস্তির সুযোগ রয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট কোর্সের পরীক্ষা বাতিল হতে পারে, মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত হতে পারে, আবার ক্ষেত্রবিশেষে সেই সুযোগ থেকেও বঞ্চিত করা হতে পারে। অর্থাৎ নকলের পরিণতি শুধু একটি পরীক্ষার ফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তা শিক্ষার্থীর একাডেমিক অগ্রগতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ ও দাবি
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। তাঁদের কেউ কেউ মনে করছেন, নকলের ঘটনা বিভাগীয় পর্যায়ে চুপিসারে মীমাংসার চেষ্টা হলে অসদুপায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ দুর্বল হতে পারে। পরীক্ষা ব্যবস্থার ওপর আস্থা ধরে রাখতে হলে নিয়ম প্রয়োগে দৃশ্যমান কঠোরতা এবং সবার জন্য একই মানদণ্ড জরুরি।
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মুমতাহিনা রিনি ক্লোজড ফ্রন্ট টেবিল বদলের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
‘এসব টেবিলের কারণে শিক্ষার্থীরা খুব সহজে মোবাইল, কাগজসহ নকলের উপকরণ রাখার সুযোগ পান কিন্তু শিক্ষকেরা তা ধরতে পারেন না। এসব টেবিল পরিবর্তন করা উচিত।’
আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী রউফুল্লাহ খান বলেন, শুধু সেমিস্টার পরীক্ষাই নয়, ইনকোর্স, মিডটার্ম এবং ক্লাস টেস্টেও নকলের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর মতে, অনিয়মের সুযোগ বেশি থাকলে নিয়ম মেনে প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা বাড়ে।
‘এসব টেবিলের কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রে নিরাপদে নকল করা যায়। সেমিস্টার পরীক্ষার পাশাপাশি ইনকোর্স, মিডটার্ম ও ক্লাস টেস্টেও নকল হয়। অতিরিক্ত নকল প্রবণতার কারণে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আস্থা হারাচ্ছেন।’
পরীক্ষায় ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাগত পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একই প্রশ্নপত্রে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ অননুমোদিত সহায়তা পেলে মূল্যায়নের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তাই খোলা নকশার টেবিল, আসন বিন্যাস, প্রবেশের আগে তল্লাশি এবং নিয়মিত হল পরিদর্শন—এসব বিষয় সমন্বিতভাবে বিবেচনা করার দাবি উঠছে।
প্রশাসনের বক্তব্য ও সম্ভাব্য পদক্ষেপ
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল মালেক মিয়া জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। টেবিলগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে কি না, সেটি বিবেচনা করে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
‘এ বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলেছি। টেবিলগুলো যদি শিক্ষার্থীদের ক্ষতির কারণ হয়, তাহলে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে একটা সিদ্ধান্তে আসব। এ বিষয়ে এখনই কিছু বলতে পারছি না।’
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের সঙ্গে এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নকল প্রতিরোধ নিয়ে তিনি আগে বলেছেন, সভাপতি ও ডিনদের সঙ্গে আলোচনা করে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পরীক্ষা পরিচালনার নিয়ম নতুনভাবে নির্ধারণের কাজ চলছে।
‘পরীক্ষায় যেকোনো অসদুপায় ঠেকাতে সভাপতি ও ডিনদের সঙ্গে আলোচনা করে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা পরিচালনার নিয়ম পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। পরীক্ষার হলে মোবাইলসহ সব ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিষিদ্ধ। অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের ৩০ নম্বর সেমিস্টার পরীক্ষার আগে প্রকাশ, সিসিটিভি স্থাপন এবং নিয়মিত নজরদারির ব্যবস্থা করা হবে।’
ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিষিদ্ধ করা, সিসিটিভি স্থাপন এবং অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের নম্বর আগেভাগে প্রকাশের মতো পদক্ষেপ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়তে পারে। তবে শিক্ষার্থীদের দাবির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা টেবিলের নকশা নিয়েও দ্রুত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। কারণ পরীক্ষা কক্ষে এমন পরিবেশ দরকার, যেখানে নিয়মভঙ্গের সুযোগ কম থাকবে এবং মেধা ও প্রস্তুতির ভিত্তিতেই ফল নির্ধারিত হবে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ইসল ম ব শ বব দ য?ইসল ম ব শ বব দ য is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ইসল ম ব শ বব দ য matter?ইসল ম ব শ বব দ য matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.