Bangladesh

এআই ও ভবিষ্যৎ মানবসম্পদ নিয়ে ৮ম জাতীয় এইচআর কনভেনশন ২৮ নভেম্বর

ai_HxlHnX5

এআই যুগের কর্মদক্ষতা নিয়ে ২৮ নভেম্বর জাতীয় এইচআর কনভেনশন

Patrikajournal.com – এআই ও ভব ষ যৎ ম নবসম – কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তারের মধ্যে ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রের জন্য মানবসম্পদকে প্রস্তুত করার লক্ষ্য নিয়ে আগামী ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ৮ম জাতীয় এইচআর কনভেনশন-২০২৬। বাংলাদেশ ফেডারেশন অব হিউম্যান রিসোর্সেস অর্গানাইজেশন (এফবিএইচআরও) আয়োজন করছে এই সম্মেলনের।

হোটেল শেরাটনে আয়োজিত দিনব্যাপী কনভেনশনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘হিউম্যান ক্যাপিটাল এন্ড এআই: রি-স্কিলিং ফর দ্যা ফিউচার’। এর মাধ্যমে কর্মজগতে এআই, অটোমেশন ও নতুন প্রযুক্তির প্রভাব, প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।

কর্মবাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে প্রস্তুতির তাগিদ

জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে শনিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কনভেনশনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন আয়োজকেরা। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে, প্রযুক্তির উন্নয়ন কর্মক্ষেত্রের কাজের ধরন ও দক্ষতার চাহিদা বদলে দিচ্ছে। ফলে কর্মীদের শুধু বিদ্যমান অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর না করে নতুন সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।

এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় রি-স্কিলিং এবং আপ-স্কিলিংকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন মানবসম্পদ পেশাজীবীরা। রি-স্কিলিংয়ের অর্থ নতুন ধরনের কাজের উপযোগী দক্ষতা শেখা, আর আপ-স্কিলিং হলো বর্তমান দক্ষতাকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করা। এ দুই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কর্মীরা প্রযুক্তিনির্ভর পরিবেশে নিজেদের ভূমিকা ধরে রাখতে এবং নতুন সুযোগের জন্য প্রস্তুত হতে পারেন।

কনভেনশনে এআই ব্যবহারের ফলে চাকরির ধরন, উৎপাদনশীলতা, অটোমেশনের সঙ্গে মানুষের কাজের সমন্বয় এবং দক্ষতা উন্নয়নের কৌশল নিয়ে দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞরা মত বিনিময় করবেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, আলোচনাগুলো মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় কর্মরতদের জন্য ব্যবহারিক চিন্তার ক্ষেত্র তৈরি করবে।

অতিথি ও আলোচকদের অংশগ্রহণ

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা প্রধানমন্ত্রীর জন প্রশাসন মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন এফবিএইচআরওর প্রেসিডেন্ট ড. মোশাররফ হোসেন।

আন্তর্জাতিক অতিথি হিসেবে কনভেনশনে যোগ দেবেন ভারতের মানবসম্পদ পেশাজীবী ড. টি. ভি. রাও এবং শ্রীলঙ্কার ড. অজন্তা ধরমাশ্রী। বিভিন্ন অধিবেশনে অংশ নেবেন আরও দেশি-বিদেশি এইচআর বিশেষজ্ঞ। তাঁদের আলোচনায় প্রযুক্তিগত রূপান্তরের সময় প্রতিষ্ঠান ও কর্মীদের করণীয় বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

কর্মক্ষেত্রে এআইকে কেবল প্রযুক্তিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখলে চলবে না; এর সঙ্গে নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন এবং প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরনও যুক্ত। তাই মানবসম্পদ বিভাগের জন্য প্রযুক্তি বোঝার পাশাপাশি কর্মীদের পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সহায়তা করার প্রশ্নটি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

অংশগ্রহণকারীদের আগ্রহের প্রত্যাশা

এফবিএইচআরওর পরিচালক ও কনভেনশন চেয়ার কামরুজ্জামান সবুজ বলেন, আগের বছরের কনভেনশনে এক হাজারের বেশি মানবসম্পদ কর্মকর্তা অংশ নিয়েছিলেন। এবারও একই ধরনের সাড়া পাওয়ার আশা করছেন আয়োজকেরা।

গত বছরের কনভেনশনে ১ হাজারের বেশি মানবসম্পদ নিয়ে কাজ করা কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেছিলেন। আশা করা যায় এবারও এ রকম উপস্থিতি পাব।

তিনি জানান, গতবার ব্যাপক আগ্রহের কারণে অনুষ্ঠানের সাত দিন আগেই নিবন্ধন বন্ধ করতে হয়েছিল। নির্ধারিত অংশগ্রহণের কোটা আগেই পূরণ হয়ে যাওয়াকে এ ধরনের পেশাগত আয়োজনের প্রতি মানুষের আগ্রহের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন তিনি।

এআইনির্ভর পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়ন এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রি-স্কিলিং ও আপ-স্কিলিংয়ের মাধ্যমে কর্মীদের পরিবর্তিত কর্মপরিবেশের জন্য প্রস্তুত করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা ও সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব।

এআইকে সহযোগী হিসেবে দেখার আহ্বান

ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, বিশ্বজুড়ে এআই টুলের সংখ্যা এখন ৫০ হাজারে পৌঁছেছে। তিনি নিজেও মাসিক অর্থ দিয়ে তিনটি এআই টুল ব্যবহার করেন। তাঁর মতে, এই প্রযুক্তিকে আতঙ্কের বিষয় না ভেবে কাজের সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা প্রয়োজন।

এআই আপনার সহযোগী, এটাকে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।

তবে এআইয়ের প্রসারের সঙ্গে কর্মসংস্থানের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও তিনি কথা বলেন। কিছু মানুষের চাকরি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার এমনভাবে বাড়াতে হবে, যাতে মানুষের কাজের উৎপাদনশীলতা উন্নত হয়।

এআই আসার কারণে মানুষ চাকরি হারাতে পারে। তাই আমরা এআই ব্যবহার করে যাতে প্রোডাকটিভিটি বাড়াতে পাড়ি সে লক্ষ্যে আগাতে চাই।

এফবিএইচআরওকে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, কনভেনশনের উদ্দেশ্য মুনাফা করা নয়; বরং মানবসম্পদ কর্মকর্তাদের পেশাগত মানোন্নয়নে কাজ করা। তিনি জানান, গত বছরের কনভেনশন থেকেও প্রতিষ্ঠানটি কোনো লাভ করেনি।

সংবাদ সম্মেলনে এফবিএইচআরওর ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. ফরিদ আহমদ সোবহানী এবং মহাসচিব অধ্যাপক মঈনুদ্দিন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। ২৮ নভেম্বরের এই আয়োজন মানবসম্পদ পেশাজীবীদের সামনে এআইনির্ভর পরিবর্তনকে বুঝে নেওয়া, নতুন দক্ষতার অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্র নিয়ে বাস্তবসম্মত আলোচনা করার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Frequently Asked Questions

What is এআই ও ভব ষ যৎ ম নবসম?

এআই ও ভব ষ যৎ ম নবসম is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does এআই ও ভব ষ যৎ ম নবসম matter?

এআই ও ভব ষ যৎ ম নবসম matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *