কাউনিয়ায় চাকরির আশ্বাসে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে সাবেক সেনাসদস্য গ্রেপ্তার
Patrikajournal.com – ক উন য় য় চ কর র – রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় বিভিন্ন সুপারশপে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া একাধিক প্রতারণা মামলায় সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান মুকুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের পাওটানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। পরদিন শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রংপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হাফিজুর রহমান মুকুল কাউনিয়া উপজেলার টেপামধূপুর ইউনিয়নের সদরা তালুক গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে এবং একসময় সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। অবসরের পর তিনি নিজ এলাকায় ফিরে আসেন। এরপর থেকেই চাকরির প্রত্যাশায় থাকা কয়েকজন ব্যক্তি এবং অন্যদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
সাতটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে মোট সাতটি মামলা করেন। এসব মামলায় প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি পলাতক থাকায় আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন বলে জানিয়েছে কাউনিয়া থানা পুলিশ।
কাউনিয়া থানার পরিদর্শক মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিন বলেন, মুকুলের বিরুদ্ধে আদালতে একাধিক প্রতারণা মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁর অবস্থান চিহ্নিত হওয়ার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁকে পীরগাছার পাওটানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।
“দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।”
পুলিশের ভাষ্য, এলাকায় ফেরার পর হাফিজুর রহমান মুকুল সুপারশপে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে চাকরিপ্রত্যাশীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। চাকরি নিশ্চিত হওয়ার প্রত্যাশায় কয়েকজন তাঁর কাছে অর্থ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে নিজের ব্যাংক হিসাবের চেক এবং নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিয়ে অর্থ গ্রহণের অভিযোগও উঠেছে।
অর্থ ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ
অভিযোগকারীদের বক্তব্য, প্রতিশ্রুত চাকরি না হওয়ায় তাঁরা পরে দেওয়া অর্থ ফেরত চান। কিন্তু টাকা ফেরত না দিয়ে মুকুল আত্মগোপনে চলে যান বলে তাঁদের অভিযোগ। এ ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করেই একে একে আদালতে মামলা হয়। পুলিশ এখন মামলাগুলোর প্রক্রিয়া অনুসারে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেবে।
কাউনিয়া থানার উপপরিদর্শক ব্রজ গোপাল কর্মকার জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি টেপামধূপুর ইউনিয়নের সদরা তালুক গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর তথ্য যাচাই করে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শনিবার সকালে তাঁকে রংপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়।
চাকরির আশ্বাসকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের ঘটনায় প্রার্থীদের সতর্ক থাকা জরুরি। কোনো প্রতিষ্ঠান বা নিয়োগদাতার নামে চাকরির প্রস্তাব এলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, দাপ্তরিক যোগাযোগের মাধ্যম এবং চাকরির শর্ত যাচাই করা প্রয়োজন। ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব, চেক বা স্ট্যাম্পের মাধ্যমে অর্থ চাওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা কাজে আসতে পারে।
বিশেষ করে চাকরি পাওয়ার জন্য আগাম অর্থ দাবি করা হলে প্রার্থীদের লিখিত তথ্য ও প্রমাণ সংরক্ষণ করা উচিত। নিয়োগের নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ দেখা দিলে আইনগত পরামর্শ নিয়ে থানায় বা সংশ্লিষ্ট আদালতে অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে। তবে কোনো অভিযোগের ক্ষেত্রেই আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না।
তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া
গ্রেপ্তারের পর আদালত মামলার নথি, অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেবেন। পুলিশের দায়িত্ব গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করা এবং তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা। অন্যদিকে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত—উভয় পক্ষই প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ পাবেন।
কাউনিয়া ও পীরগাছা এলাকার এই ঘটনায় চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কর্মসংস্থানের প্রত্যাশাকে ব্যবহার করে কেউ যেন আর্থিক সুবিধা নিতে না পারে, সে জন্য প্রতিশ্রুত নিয়োগের সত্যতা যাচাই এবং সব ধরনের লেনদেনের প্রমাণ রাখার প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ক উন য় য় চ কর র?
ক উন য় য় চ কর র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ক উন য় য় চ কর র matter?
ক উন য় য় চ কর র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

