কেশবপুরে মাছশিকারিদের বেড়া ও জাল অপসারণ, রক্ষা পেল ৬০০ বিঘার ধানখেত
কেশবপুরে খাল খুলে দেওয়ায় পানির চাপ কমল, রক্ষা পেল ৬০০ বিঘা আমন ধান
Patrikajournal.com – ক শবপ র ম ছশ ক র - যশোরের কেশবপুরে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে বসানো বাঁশের বেড়া ও জাল সরিয়ে দেওয়ার পর বিলাঞ্চলের জমিতে জমে থাকা পানি দ্রুত নামতে শুরু করেছে। এতে পদ্মবিলসহ আশপাশের কয়েকটি বিলে পানিতে তলিয়ে যাওয়া প্রায় ৬০০ বিঘা আমন ধান নতুন করে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় কোমরপুর এলাকার কাটা খালে এ অভিযান পরিচালিত হয়। পদ্মবিল ও মর্শিনা বিলের মধ্যে পানি চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল হিসেবে পরিচিত খালটির মুখে বাঁশের প্রতিবন্ধক এবং বিভিন্ন ধরনের জাল বসানো ছিল। এসব বাধার কারণে বৃষ্টির পানি স্বাভাবিক গতিতে হরিহর নদে পৌঁছাতে পারছিল না।
টানা বৃষ্টিতে ডুবেছিল বিস্তীর্ণ ফসলের জমি
গত রোববার ও সোমবারের ধারাবাহিক বৃষ্টিতে সাতবাড়িয়া, কড়িয়াখালী, বেগমপুর, জাহানপুর এবং পদ্মবিল এলাকার নিচু ধানখেতগুলোতে পানি জমে যায়। জলাবদ্ধতার মধ্যে প্রায় ৬০০ বিঘা জমির আমন ধান তলিয়ে পড়ে। ধানগাছ দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকলে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, ফলে দ্রুত পানি নিষ্কাশন কৃষকদের জন্য জরুরি হয়ে ওঠে।
এই বিলগুলোর অতিরিক্ত পানি সাধারণত কোমরপুরের কাটা খাল দিয়ে মর্শিনা বিলের দিক হয়ে হরিহর নদে চলে যায়। কিন্তু স্থানীয় কয়েকজন মাছ শিকারি খালের সংযোগমুখে বাঁশের বেড়া ও জাল স্থাপন করায় পানির স্বাভাবিক পথ সংকুচিত হয়ে পড়ে। বর্ষার পানি বের হওয়ার সুযোগ না পেয়ে বিলজুড়ে ছড়িয়ে যায় এবং ফসলি জমি ডুবে থাকে।
কৃষকদের অভিযোগের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস আনসার-ভিডিপি সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে কাটা খালে যান। সেখানে অভিযান চালিয়ে পানির প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা বাঁশের বেড়া ও জাল অপসারণ করা হয়।
প্রতিবন্ধক সরাতেই নামতে শুরু করে পানি
অভিযানের পর খালের মুখ দিয়ে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হতে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তলিয়ে থাকা খেতের পানি কমে জমির অংশ দৃশ্যমান হয়। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে, কারণ সময়মতো পানি নামানো সম্ভব হওয়ায় আমন ধানের বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো গেছে।
নতুন মূলগ্রামের কৃষক জাকারিয়া জানান, পদ্মবিলে তাঁর পাঁচ বিঘা জমির ধান পানির নিচে চলে গিয়েছিল। খাল দিয়ে পানি বের হতে না পারায় শুধু তাঁর জমি নয়, বিলের অন্য অনেক কৃষকের ক্ষেতও ডুবে যায়।
“পদ্মবিলে তাঁর ৫ বিঘা জমির আমন ধান তলিয়ে যায়। পানি বের হতে না পারায় বিলের সব জমির ধান ডুবে যায়।”
পার্শ্ববর্তী জাহানপুর গ্রামের কৃষক আব্দুস সামাদের চার বিঘা ধানের জমিও জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, প্রশাসনের উদ্যোগে খাল থেকে বাঁশের বেড়া ও জাল সরানো না হলে ডুবে থাকা ধান আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকত।
“প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বাঁশের বেড়া ও জাল উচ্ছেদ হওয়ায় কৃষকের ডুবে যাওয়া ধান রক্ষা হলো।”
নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ ও ধ্বংস
পানি চলাচলের পথ পরিষ্কার করার পাশাপাশি অবৈধ জালের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পদ্মবিল ও মর্শিনা বিলের আটটি স্থান থেকে প্রায় চার হাজার মিটার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়। পরে জালগুলো নষ্ট করে ফেলা হয়েছে।
চায়না দুয়ারি জাল জলাশয়ে মাছের চলাচল ব্যাহত করতে পারে এবং ছোট মাছসহ নানা জলজ প্রাণী আটকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করে। বিলের পানি নিষ্কাশনের পথের কাছে এমন জাল বসানো হলে মাছ ধরার পাশাপাশি কৃষিজমির জলাবদ্ধতাও তীব্র হতে পারে। এবারের অভিযানে একই সঙ্গে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নিষিদ্ধ জাল অপসারণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শুভংকর মোড়ল বলেন, দ্রুত খাল থেকে বাঁশের বেড়া ও জাল সরিয়ে পানি বের হওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়েছে। তাঁর মতে, সময়মতো এই পদক্ষেপ নেওয়ায় আমন ধানের অতিরিক্ত ক্ষতির আশঙ্কা নেই।
“দ্রুত সময়ের মধ্যে খালে বাঁশের বেড়া ও জাল সরিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করায় আমন ধানের আর কোনো ক্ষতি হবে না।”
জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস বলেন, কৃষকদের অভিযোগ পাওয়ার পর ইউএনওর নির্দেশে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
“কৃষকদের অভিযোগ পাওয়ার পরই ইউএনও স্যারের নির্দেশনায় অবৈধ বেড়া ও জাল উচ্ছেদ করা হয়েছে। এতে ৬০০ বিঘা আমন ধান রক্ষা পেয়েছে। পাশাপাশি চার হাজার মিটার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দের পর বিনষ্ট করা হয়েছে।”
বিলাঞ্চলের কৃষিজমিতে পানি আটকে গেলে অল্প সময়ের মধ্যেই ধানের ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ে। তাই খাল, সংযোগ নালা ও প্রাকৃতিক পানি চলাচলের পথ খোলা রাখা কৃষি উৎপাদন রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কোমরপুরের কাটা খালে অভিযানটি সেই বাস্তবতাই সামনে এনেছে। কৃষকেরা এখন আশা করছেন, পানি নিষ্কাশনের পথ সচল থাকলে বৃষ্টির পর আবারও একই ধরনের জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি তৈরি হবে না।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ক শবপ র ম ছশ ক র?ক শবপ র ম ছশ ক র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ক শবপ র ম ছশ ক র matter?ক শবপ র ম ছশ ক র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.