Patrikajournal
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

খুলনায় বাহাদুরের ‘বাহাদুরি’

Published October 19, 2026 · Updated October 19, 2026 · By Betty Rodriguez - patrikajournal.com

Foto : Betty Rodriguez - patrikajournal.com

বটিয়াঘাটায় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

Patrikajournal.com – খ লন য় ব হ দ র - খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় যুবদলের সদস্যসচিব বাহাদুর মুন্সীর বিরুদ্ধে জমি, সরকারি খাল ও বালুমহাল দখল, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় এবং কমিশন-বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পেশিশক্তি ও অর্থের প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগ্রহ দেখিয়ে পোস্টারও ছাপিয়েছেন বলে জানা গেছে।

তবে বাহাদুর মুন্সী এসব অভিযোগ পুরোপুরি নাকচ করেছেন। তাঁর দাবি, জমি সংক্রান্ত সব কাগজপত্র বৈধ এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও দলের সুবিধাভোগীরা তাঁকে ঘিরে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

জমি দখলের অভিযোগ ও আদালতের মামলা

নগরীর রায়েরমহল এলাকার বাসিন্দা নাছিমা হাসান জানান, তাঁর স্বামী ইমাম হাসান বাচ্চু জীবিত থাকা অবস্থায় ২০১৫ সালের ৮ মার্চ বটিয়াঘাটার রাঙ্গেমারী গ্রামে ১৪ শতক জমি কেনেন। সেখানে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের পাশাপাশি আরসিসি ঢালাই দিয়ে দোকানঘরও করা হয়েছিল।

নাছিমার ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাহাদুর মুন্সী জাল দলিলের মাধ্যমে ওই জমির একটি অংশ দখলের চেষ্টা শুরু করেন। কয়েক দফা চেষ্টার পর গত ৫ অক্টোবর জমিটি দখল করা হয় বলে তাঁর অভিযোগ। এ ঘটনায় তিনি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অগ্রক্রয় মামলা করেন।

“আদালত শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দিলে তা না মেনে ১৩ অক্টোবর আমাকে ও আমার পরিবারকে হত্যার হুমকি দেন।”

নাছিমা হাসান আরও বলেন, ওই দিনই অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। এরপর থেকে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে জানান।

বটিয়াঘাটার সাচিবুনিয়া এলাকার বিভাস গোলদারেরও অভিযোগ, চক্রাখালী বাজারে তাঁর পৈতৃক জায়গায় নির্মিত দোকান নিয়ে বাহাদুর মুন্সী দাবি তুলেছেন। বিভাস বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাহাদুর একটি দোকান ব্যক্তিগত কার্যালয়ের জন্য ভাড়া নেন। কয়েক মাস পর তিনি দোকানগুলো নিজের বলে দাবি করতে থাকেন এবং দলিল থাকার কথাও বলেন।

“আমি হিন্দু মানুষ, কোনো ঝামেলায় যেতে চাই না। এ কারণে মামলা-মোকদ্দমায় যাইনি।”

বাজার, দোকান ও বালুমহাল ঘিরে অভিযোগ

স্থানীয়দের মধ্যে আরও অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচয় দিয়ে চক্রাখালী বাজারে আকরাম নামের এক ব্যক্তির সাতটি দোকান দখল করা হয়েছে। তেঁতুলতলা এলাকার মরিয়মের ২৫ শতক জমি দখলের অভিযোগও বাহাদুর মুন্সীর বিরুদ্ধে উঠেছে।

ছয়ঘড়িয়া এলাকায় একটি বিদ্যালয়ের পাশের দোকানঘর দখল করে সেখানে বাহাদুরের ভাই বাদশা ব্যবসা করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের ভাষ্য, একই এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি দখল করে ভ্যানগ্যারেজ, দোকানঘর এবং খালি জায়গায় প্লট তৈরি করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় যুবদলের কয়েকজন মাঠপর্যায়ের নেতা বলেন, বটিয়াঘাটা বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বাহাদুর ও তাঁর অনুসারীরা জোর করে চাঁদা আদায় করেন। তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, পশুর নদের তেঁতুলতলা, পুটিমারি, কাতিয়ানাংলা এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকার বালুমহাল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে।

বালুমহাল ও নদীতীরবর্তী সম্পদ নিয়ে বিরোধ স্থানীয় জনজীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। একইভাবে বাজারের দোকান, বসতভিটা বা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জমি নিয়ে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ভীতি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দলের ভেতরেও অস্বস্তি

স্থানীয় যুবদলের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে বাহাদুর মুন্সী নামে কাউকে তাঁরা খুব একটা চিনতেন না। হঠাৎ করেই তিনি দলীয় পদ-পদবি নিয়ে এলাকায় নানা বিতর্কের জন্ম দিচ্ছেন বলে ওই নেতার অভিযোগ।

“হঠাৎ করেই তিনি পদ-পদবি বাগিয়ে নিয়ে নানা অপকর্ম করে যাচ্ছেন। তাঁর বর্তমান কর্মকাণ্ড নিয়ে দল বিব্রত।”

অভিযোগগুলোর বিষয়ে বাহাদুর মুন্সী বলেন, জমি কেনা ও দখল নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর কাগজপত্র ঠিক রয়েছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞার অভিযোগ নিয়েও তিনি দ্বিমত পোষণ করেন।

“এটারও তদন্ত চলছে। কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। আমি সঠিকভাবে কাজ করেছি। আমি কোনো আইন ভঙ্গ করি নাই।”

চাঁদাবাজি, বালুমহাল দখল ও অন্যান্য অভিযোগও অস্বীকার করে তিনি বলেন, দলের সুবিধাভোগীরা তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক প্রচারণা চালাচ্ছে।

প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের বক্তব্য

খুলনার পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক জানান, বটিয়াঘাটাসহ চার উপজেলায় বিশেষ অভিযান চলছে। অপরাধীদের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। জমি বা দখল নিয়ে বহু অভিযোগ পুলিশ পায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন অভিযোগ এলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আমীর এজাজ খান বলেন, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কেউ দখল, চাঁদাবাজি বা অন্য কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ড করলে তার দায় দল নেবে না।

“আমার দীর্ঘদিনের রাজনীতিতে এলাকায় পরিচ্ছন্ন ইমেজ রয়েছে। কোনো ভূমিদস্যু বা দুষ্কৃতকারীর কারণে এই ইমেজ নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।”

তিনি আরও বলেন, দখলদারদের অবস্থান তাঁর কাছে নেই। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই, আদালতের মামলার অগ্রগতি এবং প্রশাসনের পদক্ষেপই এখন স্থানীয়দের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is খ লন য় ব হ দ র?

খ লন য় ব হ দ র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does খ লন য় ব হ দ র matter?

খ লন য় ব হ দ র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.