Patrikajournal
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

গুলশান সেন্ট্রাল পার্কের ব্যবস্থাপনা চুক্তি কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না: হাইকোর্টের রুল

Published September 7, 2026 · Updated September 7, 2026 · By Betty Rodriguez - patrikajournal.com

Foto : Betty Rodriguez - patrikajournal.com

গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক চুক্তি: হাইকোর্টের রুল

Patrikajournal.com – গ লশ ন স ন ট র - রাজধানীর অন্যতম বিতর্কিত সবুজ জোন গুলশান সেন্ট্রাল পার্কের ব্যবস্থাপনা চুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি সংগ্রামে নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগের দ্বৈত বেঞ্চ সোমবার একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে রুল জারি করে জানতে চেয়েছে, রাজউপাত্ত কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের মধ্যে সম্পাদিত ব্যবস্থাপনা চুক্তি কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না। বিচারপতি ইকবাল কবির ও বিচারপতি এস এম সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রুল জারি করেন এবং সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

রিট আবেদনের মূল অভিযোগ

আবেদনকারীদের দাবি অনুযায়ী, রাজউক ওই চুক্তির মাধ্যমে গুলশান ইয়ুথ ক্লাবকে পার্ক ও মাঠ ব্যবহারের জন্য সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের সুযোগ দিয়েছে। এটি মাঠ, পার্ক ও জলাধার সংরক্ষণ-সংক্রান্ত আইনের সরাসরি পরিপন্থী। একটি জনসাধারণের সম্পদকে বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দিয়ে সেখান থেকে রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থা চালু করা আইনত কতটা বৈধ — এই প্রশ্ন এখন আদালতের সামনে।

আবেদনে আরও উল্লেখ আছে যে, গুলশান ইয়ুথ ক্লাব মাঠ-পার্ক-জলাধার আইন এবং আপিল বিভাগের পূর্বনির্ধারিত নির্দেশনা লঙ্ঘন করে পার্কের ভেতরে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করছে। আবেদনকারীদের দাবি, এই নির্মাণকাজগুলো নগর-পরিকল্পনা মাস্টারপ্ল্যানেরও বাইরে।

আদালতের দুটি মৌলিক প্রশ্ন

শুনানি শেষে বিচারপতিরা দুটি প্রশ্ন তুলে ধরেছেন। প্রথমত, রাজউক ও গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের চুক্তির আওতায় মাঠ ব্যবহারের জন্য অর্থ আদায় এবং অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের কার্যক্রম কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না। দ্বিতীয়ত, মাস্টারপ্ল্যান লঙ্ঘন করে নির্মিত স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করতে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না।

রুলের তাৎপর্য এতদূপরি: আদালত শুধু চুক্তির বৈধতা নিয়েই নয়, বরং গুলশান সেন্ট্রাল পার্কের ভেতরে চলমান নির্মাণকাজের আইনি অবস্থা এবং নগর-পরিকল্পনা লঙ্ঘনের প্রশ্নেও সরাসরি হস্তক্ষেপের দরজা খুলে দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ যদি দেওয়া হয়, তবে তা কোন কোন স্থাপনা মাস্টারপ্ল্যানের বাইরে তা নির্ধারণের কার্যকরী যন্ত্র হিসেবে কাজ করবে।

বিবাদী ও আবেদনকারী পক্ষ

রিট আবেদনে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, রাজউক, বাংলাদেশ পুলিশ এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে বিবাদী করা হয়েছে। আবেদনকারী পক্ষে নগর-পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান, পরিবেশবিদ ফিরোজ আহমেদ, আমিরুল রাজিব ও সৈয়দা শাহীন মাহবুবের পক্ষে অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম, ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ এবং মুহাম্মদ আওলাদ হোসেন শুনানি করেন।

শুনানি শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ড. আদিল মুহাম্মদ খান স্পষ্ট ভাষায় আবেদনের মূল উদ্দেশ্য তুলে ধরেন।

আমাদের চাওয়া জনগণের মাঠ জনগণকে ফিরিয়ে দিতে হবে। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

এই বক্তব্যের পেছনে একটি বড় প্রশ্ন লুকিয়ে আছে: একটি শহরের সবুজ জোন, যা নাগরিকদের সাধারণ ব্যবহারের জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, সেখানে বেসরকারি সংস্থার হাতে ব্যবস্থাপনা তুলে দেওয়া কতটা ন্যায্য। গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক ঢাকার অন্যতম বড়তম পার্ক-মাঠ জোন, যেখানে হাজারো নাগরিক প্রতিদিন হাঁটাচলা, খেলাধুলা ও বিনোদনের জন্য আসেন। এই জায়গার ব্যবস্থাপনা একটি ক্লাবের হাতে চলে গেলে সাধারণ নাগরিকের প্রবেশাধিকার ও ব্যবহারের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আপিল বিভাগের নির্দেশনা ও মাস্টারপ্ল্যান

আবেদনে উল্লেখিত আপিল বিভাগের নির্দেশনা বলতে বোঝায়, সর্বোচ্চ আদালতের পূর্ববর্তী রায় বা নির্দেশে পার্ক-মাঠ-জলাধার জোনকে নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনা কাঠামোর বাইরে রাখা বা সেখানে নির্দিষ্ট ধরনের স্থাপনা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে কিনা। ঢাকার নগর-পরিকল্পনা মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী পার্ক জোনের ভেতরে কোন ধরনের গঠন অনুমোদিত তা নির্দিষ্ট থাকে; সেই পরিকল্পনার বাইরে স্থাপনা নির্মাণ হলে তা আইনত অবৈধ বলে গণ্য হয়।

এই রুলের পরবর্তী ধাপে বিবাদী পক্ষ — বিশেষ করে রাজউক ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় — চুক্তির আইনি ভিত্তি, পার্ক ব্যবস্থাপনার কারিগরি প্রয়োজনীয়তা এবং মাস্টারপ্ল্যানের সাথে সামঞ্জস্যতা নিয়ে যুক্তি তুলে ধরবে। আদালত চার সপ্তাহের মধ্যে সেই যুক্তি বিবেচনা করে পরবর্তী নির্দেশ দেবেন। ফলাফলটি রাজধানীর শহর-পরিকল্পনা, নাগরিক অধিকার এবং বেসরকারি খাতের ভূমিকা নিয়ে বড় প্রশ্নের উত্তর দেবে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

গুলশান সেন্ট্রাল পার্কের ব্যবস্থাপনা চুক্তি কী? রাজউক ও গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের মধ্যে সম্পাদিত একটি চুক্তি, যার মাধ্যমে ক্লাবটি পার্ক ও মাঠ ব্যবহারের জন্য নাগরিকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের সুযোগ পায়। এই চুক্তির বৈধতা নিয়েই বর্তমান রিট আবেদন।

আদালত কী নির্দেশ দিয়েছেন? হাইকোর্টের দ্ব

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is গ লশ ন স ন ট র?

গ লশ ন স ন ট র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does গ লশ ন স ন ট র matter?

গ লশ ন স ন ট র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.