Patrikajournal
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

চট্টগ্রাম বন্দরের সব টার্মিনাল যাচ্ছে বিদেশিদের হাতে

Published October 4, 2026 · Updated October 4, 2026 · By Mary Davis - patrikajournal.com

Foto : Mary Davis - patrikajournal.com

চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় বিদেশি অপারেটর নিয়ে নতুন বিতর্ক

Patrikajournal.com – চট টগ র ম বন দর র - দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের কনটেইনার টার্মিনালগুলোতে বিদেশি অপারেটর নিয়োগের উদ্যোগ ক্রমে বিস্তৃত হচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি টার্মিনালের দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়া হয়েছে বা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এবার চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি), জেনারেল কার্গো বার্থ এবং বে পোর্ট-মাল্টিপারপাস টার্মিনালের ব্যবস্থাপনা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারী সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। তারা বিভিন্ন এলাকায় কর্মসূচি পালন করছেন এবং নতুন করে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, বিদেশি অপারেটর নিয়োগের ফলে বন্দর পরিচালনায় সরকারি নিয়ন্ত্রণ কমে যেতে পারে এবং স্থানীয় কর্মসংস্থানে প্রভাব পড়তে পারে।

এনসিটি পরিচালনায় ১৫ বছরের প্রস্তাব

গত বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ডের (ওসিওয়াই) পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের হাতে দেওয়ার প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন পায়। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের আওতায় এই দায়িত্ব ১৫ বছরের জন্য দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রকল্প প্রোফাইলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই সরকারের মনোনীত অপারেটর হিসেবে ডিপি ওয়ার্ল্ডের নাম রয়েছে। বৈঠকে সম্ভাব্য কনসেশন চুক্তির খসড়াও উপস্থাপন করা হয়।

এনসিটির গুরুত্ব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে যত কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে, তার প্রায় ৪৪ শতাংশই হয়েছে এই টার্মিনালে। প্রধান সমুদ্রবন্দরের কনটেইনার কার্যক্রমে এককভাবে এটিই সবচেয়ে বড় টার্মিনাল। ফলে এর পরিচালনা পদ্ধতিতে পরিবর্তন কেবল বন্দর প্রশাসনের বিষয় নয়; আমদানি-রপ্তানির সময়, পণ্য সরবরাহের ধারাবাহিকতা এবং ব্যবসায়িক ব্যয়ের সঙ্গেও এটি সম্পর্কিত।

আরও তিন টার্মিনালে আগ্রহ

সৌদি আরবভিত্তিক রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল বা আরএসজিটিআই সিসিটি, জেনারেল কার্গো বার্থ ও বে পোর্ট-মাল্টিপারপাস টার্মিনাল পরিচালনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে গত ২৮ সেপ্টেম্বর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ কেফায়েত হামিম এ বিষয়ে মন্তব্য না করে বলেন, বিষয়টি সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

সরকারের অবস্থান হলো, আধুনিক প্রযুক্তি, পরিচালনাগত দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থাপনা যুক্ত হলে বন্দরের সক্ষমতা বাড়তে পারে। নৌপরিবহনসচিব জাকারিয়া বলেছেন, টার্মিনাল পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর নিয়োগ সরকারের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। তাঁর ভাষ্য, এমন ব্যবস্থাপনায় শ্রমিকেরাও আন্তর্জাতিক মানের সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে টার্মিনাল পরিচালিত হলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বন্দরের সক্ষমতা আরও বেড়ে যাবে এবং শ্রমিকেরা আন্তর্জাতিক মানের সুবিধা পাবে।

আগের সিদ্ধান্ত ও চলমান কার্যক্রম

বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে টার্মিনাল পরিচালনার উদ্যোগ নতুন নয়। নবনির্মিত পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার জন্য ২০২৩ সালের ৬ ডিসেম্বর আরএসজিটিআইয়ের সঙ্গে ২২ বছরের চুক্তি হয়। পতেঙ্গা টার্মিনাল ইতিমধ্যে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অপারেশনে গেছে।

২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর লালদিয়ার চর ও পানগাঁও টার্মিনাল পরিচালনার জন্য একই দিনে দুটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হয়। লালদিয়ার চরের জন্য নির্বাচিত হয় ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালস এবং পানগাঁও আইসিডির দায়িত্ব পায় সুইজারল্যান্ডের মেডলগ।

কেরানীগঞ্জে অবস্থিত পানগাঁও টার্মিনালের বার্ষিক হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টিইইউ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যের প্রয়োজন মেটাতে মেডলগ সেখানে অবকাঠামো ও সুবিধা সম্প্রসারণ করবে বলে জানানো হয়েছে। ডিসেম্বর থেকে পানগাঁও আইসিডি পূর্ণমাত্রায় কার্যক্রমে যাওয়ার কথা রয়েছে।

এপিএম টার্মিনালসকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ২০৩০ সাল থেকে পরবর্তী ৩০ বছর টার্মিনালটি পরিচালনার কথা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির; পরে আরও ১৫ বছর মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগও রাখা হয়েছে।

শ্রমিক সংগঠনগুলোর আপত্তি

বন্দরসংশ্লিষ্ট শ্রমিক ও কর্মচারী নেতারা সরকারের যুক্তির সঙ্গে একমত নন। তাঁদের বক্তব্য, দেশের নিজস্ব সক্ষমতা ও কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানোর পথেও বন্দরকে আধুনিক করা সম্ভব। বিদেশি অপারেটরের কাছে গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালের দায়িত্ব হস্তান্তরকে তাঁরা জাতীয় স্বার্থের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকনের ভাষ্য, বিদেশি অপারেটর নিয়োগ পেলে সরকার ও বন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হতে পারে। তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে এতে জাতীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দেশীয় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র সংকুচিত হতে পারে।

বন্দরের টার্মিনালগুলোতে বিদেশি অপারেটর নিয়োগ করা হলে সরকার ও বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃত্ব হারাবে। জাতীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত ও দেশীয় কর্মসংস্থান সংকুচিত হবে।

জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহারও এ উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন। তাঁর দাবি, বিদেশি অপারেটর এলে বন্দর আর্থিকভাবে দুর্বল হতে পারে এবং শ্রমিকদের চাকরির নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়বে।

বন্দরে বিদেশি অপারেটর নিয়োগ হলে বন্দর দেউলিয়া হয়ে যাবে। শ্রমিকেরা চাকরি হারাবে।

কী দাবি বন্দর রক্ষা কমিটির

এনসিটি ও ওসিওয়াই আন্তর্জাতিক অপারেটরের কাছে দেওয়ার নীতিগত অনুমোদনের পর বন্দর রক্ষা কমিটি আন্দোলন জোরদার করেছে। সংগঠনটির দাবি, এনসিটির ১৫ বছরের কনসেশন চুক্তির প্রক্রিয়া বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে সিসিটি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগও বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কমিটির সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টু এই অবস্থান তুলে ধরেন। বন্দর, কাস্টমস ও প্রেসক্লাব এলাকায় শ্রমিক-কর্মচারীদের ধারাবাহিক কর্মসূচি বিদেশি অপারেটর নিয়োগ নিয়ে বিরোধের তীব্রতাই তুলে ধরছে।

চট্টগ্রাম বন্দর দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার হওয়ায় টার্মিনাল পরিচালনার প্রতিটি সিদ্ধান্তের প্রভাব বহুমুখী। সরকারের প্রত্যাশা দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি; অন্যদিকে শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান এবং জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার নিশ্চয়তা। সামনে চুক্তির শর্ত, কর্মীদের ভূমিকা এবং পরিচালনাগত জবাবদিহি নিয়ে আলোচনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is চট টগ র ম বন দর র?

চট টগ র ম বন দর র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does চট টগ র ম বন দর র matter?

চট টগ র ম বন দর র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.