চার বছর পর মিজোরাম থেকে ফিরল তিন বম পরিবার
চার বছর পর থানচির নিজ গ্রামে ফিরলেন বম সম্প্রদায়ের ১৮ সদস্য
Patrikajournal.com – চ র বছর পর ম জ র - দীর্ঘ চার বছর মিজোরামে আশ্রয়ে থাকার পর বান্দরবানের থানচি উপজেলার শেরকর ও প্রাতা পাড়ায় ফিরেছেন বম সম্প্রদায়ের তিন পরিবারের ১৮ সদস্য। রোববার সন্ধ্যায় বাকলাই পাড়া আর্মি ক্যাম্পের সহায়তায় তাঁদের নিজ নিজ গ্রামে পৌঁছে দেওয়া হয়।
ফিরে আসা পরিবারগুলোর সদস্যদের মধ্যে শিশু ও কিশোরও রয়েছে। থানচি সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শেরকর পাড়ার দুটি পরিবারে যথাক্রমে ৭ ও ৮ জন সদস্য রয়েছেন। একই ওয়ার্ডের প্রাতা পাড়ার অন্য পরিবারটিতে রয়েছেন ৩ জন।
ক্যাম্পের সহায়তায় গ্রামে প্রত্যাবর্তন
বাকলাই পাড়া আর্মি ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন সাফকাত মুবাররাত চৌধুরীর নেতৃত্বে সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিন পরিবারের সদস্যদের শেরকর ও প্রাতা পাড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় শেরকর পাড়ার কারবারি তুমথন বম এবং প্রাতা পাড়ার কারবারি পার্কেল বম উপস্থিত ছিলেন।
নিজ এলাকায় ফিরে আসার আগে পরিবারগুলোর প্রাথমিক প্রয়োজনের কথা বিবেচনায় সহায়তা দেওয়া হয়। প্রতিটি পরিবার পেয়েছে নগদ ১৫ হাজার টাকা, ৫০ কেজি চাল, ১০ কেজি ডাল, ৫ কেজি তেল, ৫ কেজি পেঁয়াজ, ৫ কেজি আলু ও ৫ কেজি লবণ। পাশাপাশি একটি সোলার প্যানেল, একটি ব্যাটারি, একটি বালতি, মগ, পাতিল, প্লেট ও গ্লাসসহ প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রীও দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তাহীনতায় মিজোরামে আশ্রয়
পরিবার তিনটির প্রধান ভানরৌখম বম, রুয়াতখুপ বম ও লালচম বম জানান, কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মির তাণ্ডবের মুখে নিরাপত্তার কারণে তাঁরা ২০২০ সালের দিকে ভারতের মিজোরামে চলে যান। দীর্ঘদিন প্রতিবেশী দেশে থাকার পর নিজেদের জন্মভূমিতে ফিরতে পেরে তাঁরা স্বস্তি ও আনন্দের কথা জানান।
নিজ দেশ ছেড়ে অন্য দেশে থাকলে নিজের ঘরের অনুভূতি পাওয়া যায় না। এত বছর পর পাড়ায় ফিরতে পেরে খুব ভালো লাগছে। নিজের মাটি ও পরিচিত মানুষের কাছে ফিরতে পারাটাই সবচেয়ে বড় আনন্দ।
ভানরৌখম বমের ভাষায়, বিদেশে আশ্রয় নেওয়ার সময় নিরাপত্তা থাকলেও নিজের বাড়ি, পাড়া ও আপনজনদের শূন্যতা সব সময় অনুভূত হতো। গ্রামে ফেরার সুযোগ তাঁদের জন্য নতুন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আশা তৈরি করেছে।
বাড়িঘর, আত্মীয়স্বজন আর নিজের পাড়ার কথা কখনো ভুলতে পারিনি। মিজোরামে থাকলেও মন সব সময় দেশের দিকেই পড়ে থাকত। অনেক বছর পর আবার নিজের জায়গায় ফিরলাম।
রুয়াতখুপ বম বলেন, দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর পরিচিত পরিবেশে ফিরতে পারা তাঁর পরিবারের জন্য বিশেষ মুহূর্ত। পাহাড়ি জনপদে একটি পরিবারের জীবনযাপন কেবল বসতভিটাকে ঘিরে নয়; পরিচিত মানুষ, সামাজিক সম্পর্ক ও দৈনন্দিন সহায়তার সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত।
মাতৃভূমি ছেড়ে থাকলে সুখ পাওয়া যায় না। নানা কষ্টের মধ্য দিয়ে এতগুলো বছর কাটিয়েছি। এখন পরিবারকে নিয়ে নিজের পাড়ায় শান্তিতে থাকতে চাই।
লালচম বম বলেন, তাঁদের প্রধান প্রত্যাশা হলো পরিবারসহ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করা। দীর্ঘ সময় অন্য দেশে থাকার পর ফিরে আসা সদস্যদের জন্য বসতভিটায় নতুন করে জীবন গুছিয়ে নেওয়াই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সীমান্ত পেরিয়ে দেশে ফেরা
পরিবারপ্রধানেরা জানান, ২০২৩ সালে কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মির সদস্যরা সেনা ক্যাম্প লক্ষ্য করে গুলি চালান। রাতভর বন্দুকযুদ্ধের পর সেনাবাহিনীর চিরুনি অভিযানের মুখে টিকতে না পেরে রুমা ও থানচি উপজেলার সীমান্তপথ ব্যবহার করে তাঁরা ভারতের মিজোরামে যান।
২০২৬ সালে বম সোশ্যাল কাউন্সিলের নেতৃবৃন্দ এবং সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মুঠোফোনে তাঁদের আশ্বস্ত করেন। এরপর দেশে ফেরার প্রক্রিয়া এগোয়। ১১ সেপ্টেম্বর তাঁরা মিজোরামের শিলকর এলাকা থেকে রাঙামাটির শিলকোপাড়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।
বাংলাদেশে প্রবেশের পর শিলকোপাড়ার ১২ বিজিবির থেগামুখ বিওপি তাঁদের হেফাজতে নেয়। পরে ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টায় বান্দরবান রিজিয়নের আইসি বিভাগ, ১৬ ইবি, তাঁদের গ্রহণ করে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পুনর্বাসন ও নিজ পাড়ায় পাঠানোর জন্য তাঁদের বাকলাই পাড়া আর্মি ক্যাম্পে নেওয়া হয়।
ফেরার পথের তাৎপর্য
শেরকর ও প্রাতা পাড়ায় তিন পরিবারের প্রত্যাবর্তন শুধু কয়েকজন মানুষের ঘরে ফেরা নয়, দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধনের কাছাকাছি ফিরে আসার ঘটনাও। চার বছর পর ফিরে আসা সদস্যদের সামনে এখন নতুন করে বসবাস শুরু করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
নগদ অর্থ, খাদ্যসামগ্রী, সৌরবিদ্যুতের উপকরণ এবং রান্না ও ব্যবহার্য সামগ্রী পরিবারগুলোর প্রাথমিক দিনগুলোতে সহায়ক হবে। পাহাড়ের প্রত্যন্ত পাড়ায় ফিরে আসার পর খাদ্য, আলো এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর এমন সহায়তা দৈনন্দিন জীবন পুনর্গঠনে তাৎক্ষণিক ভূমিকা রাখতে পারে।
নিজেদের পাড়া, আত্মীয়স্বজন ও জন্মভূমির প্রতি টানই দীর্ঘ প্রবাসজীবনের পর তাঁদের ফেরার আকাঙ্ক্ষাকে শক্ত রেখেছিল। পরিবারপ্রধানদের কথায় সেই অনুভূতির প্রতিফলন স্পষ্ট—নিজের মাটিতে ফিরে শান্তিতে থাকার প্রত্যাশাই এখন তাঁদের সবচেয়ে বড় চাওয়া।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is চ র বছর পর ম জ র?চ র বছর পর ম জ র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does চ র বছর পর ম জ র matter?চ র বছর পর ম জ র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.