চুয়েটে রাতভর পাহারা, সকালে গ্রাফিতি অঙ্কন, নতুন ভিসিকে ‘লাল কার্ড’
চুয়েটে নতুন উপাচার্যের যোগদান ঘিরে শিক্ষার্থীদের টানা কর্মসূচি
Patrikajournal.com – চ য় ট র তভর প হ - চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আরও দৃশ্যমান হয়েছে। নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের যোগদান ঠেকানোর দাবিতে শুক্রবার রাতজুড়ে ক্যাম্পাসে অবস্থান ও পাহারার পর শনিবার সকালে দেয়ালে দেয়ালে প্রতিবাদী গ্রাফিতি আঁকেন তারা। পরে দুপুরে লাল কার্ড প্রদর্শন এবং মিছিলের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান আন্দোলনকারীরা।
শিক্ষার্থীদের মূল দাবি দুটি—নতুন উপাচার্যের নিয়োগ প্রত্যাহার এবং সদ্য অপসারিত উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে আগের পদে ফিরিয়ে দেওয়া। এই দাবিকে সামনে রেখে শনিবার ছিল ক্যাম্পাসে শাটডাউন ও আন্দোলনের পঞ্চম দিন। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়েছে বলে আন্দোলনের কর্মসূচিগুলো থেকে বোঝা যাচ্ছে।
সকালে গ্রাফিতিতে প্রতিবাদের ভাষা
শনিবার সকাল ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চত্বর এবং একাডেমিক ভবনের দেয়ালে গ্রাফিতি আঁকেন। এসব চিত্র ও লেখার মাধ্যমে তারা উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানান। পাশাপাশি ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের পুনর্বহালের কথাও তুলে ধরা হয়।
গ্রাফিতি কর্মসূচি ছিল আন্দোলনের প্রকাশভঙ্গির একটি অংশ। শিক্ষার্থীরা এতে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে নিজেদের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাদের বক্তব্য, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে যে আপত্তি তৈরি হয়েছে, তা কেবল মৌখিক স্লোগান বা সমাবেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না তারা।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী আন্দোলনে পোস্টার, দেয়াললেখা, মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি প্রায়ই মত প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। চুয়েটের চলমান কর্মসূচিতেও একইভাবে দৃশ্যমান প্রতিবাদের পথ বেছে নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
নবনিযুক্ত উপাচার্যকে লাল কার্ড
দুপুর দেড়টার দিকে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে প্রতীকীভাবে লাল কার্ড দেখানোর কর্মসূচি পালন করা হয়। এর সঙ্গে ক্যাম্পাসে একটি বড় বিক্ষোভ মিছিলও বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিল ও লাল কার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে তারা স্পষ্ট করে জানান যে নতুন উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ তারা মেনে নিচ্ছেন না।
অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম এর আগে গণমাধ্যমে বলেছিলেন, চলমান আন্দোলনে ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাসের তালা খুলে তাঁকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি চলছে। এই বক্তব্যের প্রতিবাদেই শিক্ষার্থীরা লাল কার্ড কর্মসূচি নিয়েছেন বলে আন্দোলনকারীরা জানান।
আন্দোলনরতদের ভাষ্য, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা দিয়ে তাদের দাবির গুরুত্ব বিচার করা ঠিক নয়। তাদের মতে, উপাচার্য নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
পুনর্বহালের দাবি অব্যাহত
পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী দেবজিত দাশগুপ্ত বলেন, ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনরায় উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।
“সায়েম স্যারকে পুনরায় উপাচার্য পদে নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত আমাদের দাবি ও আন্দোলন চলবে।”
আন্দোলনের সার্বিক অবস্থা এবং পরবর্তী পদক্ষেপ জানাতে শনিবার বিকেল ৪টায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন শিক্ষার্থীরা। টানা কর্মসূচির মধ্যে এই সংবাদ সম্মেলন তাদের পরবর্তী দিকনির্দেশনা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির সঙ্গে চুয়েট শিক্ষক সমিতি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও সংহতি প্রকাশ করেছেন। শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আহসান উল্লাহ নতুন উপাচার্যকে নিয়ে তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
“আমরা নতুন ভিসিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাই না।”
নিয়োগের সিদ্ধান্তের পর শুরু হয় আন্দোলন
গত ২১ সেপ্টেম্বর সরকার চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেয়। অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক।
নতুন নিয়োগ ঘোষণার পরপরই চুয়েটের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। পরে কর্মসূচি টানা শাটডাউনের দিকে গড়ায়। বর্তমানে তাদের দাবি কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে অবস্থান, পাহারা, গ্রাফিতি, মিছিল এবং প্রতীকী প্রতিবাদ চলছে।
উপাচার্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ পদ। তাই এ পদে পরিবর্তনকে ঘিরে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কর্মচারীদের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনন্দিন পরিবেশ ও কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। চুয়েটের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিকে কেন্দ্র করে সংগঠিত কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন, আর শিক্ষক সমিতি ও কর্মচারীদের সংহতি আন্দোলনের গুরুত্বকে আরও সামনে এনেছে।
এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের দাবি, নতুন উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণের আগে তাদের আপত্তি ও পুনর্বহালের দাবি বিবেচনায় নেওয়া হোক। অন্যদিকে, চলমান শাটডাউন ও বিক্ষোভের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ কীভাবে স্বাভাবিক হবে, সেটিও সংশ্লিষ্ট সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
শনিবারের রাতভর পাহারা, সকালের গ্রাফিতি এবং দুপুরের লাল কার্ড কর্মসূচি দেখিয়েছে যে আন্দোলনকারীরা এখনো তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেননি। বিকেলের সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা পরবর্তী কর্মসূচি ও আন্দোলনের গতিপথ নিয়ে আরও বক্তব্য দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is চ য় ট র তভর প হ?চ য় ট র তভর প হ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does চ য় ট র তভর প হ matter?চ য় ট র তভর প হ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.