Bangladesh

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়: আতঙ্কের জায়গায় হবে শিক্ষার নতুন ঠিকানা

Untitled-1-20260907060622

ভাতার মারির অন্ধকারে জেগে উঠছে এক নতুন আলো: ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর

Patrikajournal.com – ঠ ক রগ ও ব শ বব – পীরগঞ্জ-ঠাকুরগাঁও সড়কের ভাতার মারি রেলক্রসিং এলাকা দশকের পর দশক ধরে স্থানীয় মানুষের মনে ছিল ভয়ের নাম। সন্ধ্যার ছায়া নামার আগেই দোকানদাররা মালামাল গুটিয়ে নিত, পথচারীরা ঘরে ফিরে যেত, আর রাত নামলেই পুরো সড়ক নিস্তব্ধ হয়ে যেত। ডাকাত ও ছিনতাইকারীদের নিয়মিত হামলার কারণে এই এলাকা ছিল ঝুঁকিপূর্ণের প্রতীক। কিন্তু গত সোমবার সেই একই স্থানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে স্থাপিত হলো ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের ভিত্তিপ্রস্তর। একদিনের ভয়ের জায়গা এখন উচ্চশিক্ষার নতুন ঠিকানা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।

এক দশকের ভয়, এক মুহূর্তের পরিবর্তন

ঠাকুরগাঁও জেলা বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তবর্তী অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা। দীর্ঘকাল এই অঞ্চলে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কোনো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল না, ফলে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য দূরবর্তী শহরে যেতে হতো। ভাতার মারি এলাকা সেই অভাবের প্রতীক ছিল না বরং অপরাধের কেন্দ্রবিন্দু। মহেষালী গ্রামের ৭০ বছর বয়সী বাসিন্দা মজিবর রহমানের স্মৃতিতে সেই দিনগুলো এখনো তাজা।

“বেলা গুড়িয়ে রাত হলেই প্রাণভয়ে এই সড়ক নিস্তব্ধ হয়ে যেত। কয়েক যুগ ধরে ডাকাতেরা পথচারীদের জিম্মি করে সর্বস্ব কেড়ে নিত। তাদের কবলে পড়ে বেশ কয়েকজনের প্রাণ গেছে, পঙ্গু হয়েছেন অনেকে।”

মজিবর রহমানের বর্ণনা অনুযায়ী, সন্ধ্যার পর এই সড়কে চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যেত। ব্যবসায়ীরা অন্ধকার নামার আগেই দোকানপাট বন্ধ করে দিতেন। পথচারীদের জিম্মি করে সম্পদ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ছিল নিয়মিত। এই দীর্ঘকালীন ভয়-শঙ্কা এখন ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে এক নতুন প্রতিষ্ঠানের আশায়।

স্থানীয় মানুষের নতুন আশা

এলাকার প্রথম চায়ের দোকান চালিয়ে আসছেন ৪৫ বছর বয়সী মর্জিনা বেগম। তাঁর অভিজ্ঞতায়ও সেই ভয়ের ছাপ ছিল গভীর।

“ডাকাতের ভয়ে সন্ধ্যার পরপরই মালামাল নিয়ে দোকান গুটিয়ে চলে যেতেন। এখন এখানে বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে শুনে তাঁর মনে শান্তি এসেছে।”

মর্জিনা বেগম বিশ্বাস করেন, বিশ্ববিদ্যালয় চালু হলে তিনি নির্ভয়ে ব্যবসা করতে পারবেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের এই আশা কেবল ব্যক্তিগত নয় — এটি পুরো এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশ বদলে দেওয়ার সম্ভাবনার প্রতিফলন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপস্থিতি এনে দেবে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রবাহ, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি প্রদান করবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তুতি ও সময়সীমা

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. ইসরাফিল শাহিনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণসহ প্রাথমিক প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

“শিক্ষার্থীদের পাঠদান শুরুর লক্ষ্যে দ্রুতগতিতে প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।”

উপাচার্য শাহীন জানান, প্রাথমিকভাবে ছয়টি বিভাগ চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে এসব বিভাগের অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এই সময়সীমা পূরণ হলে ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা নিজের এলাকাতেই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবেন, যা দীর্ঘদিনের একটি প্রত্যাশিত পদক্ষেপ।

নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা

বিশ্ববিদ্যালয় চালু হলে এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যাবে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদাদ হোসেন জানান, এখন পর্যন্ত ভাতার মারি এলাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার প্রয়োজনে সেখানে বিশেষ পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।

এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেবল ক্যাম্পাস সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না — আশেপাশের সড়ক, বাজার ও বাসস্থানগুলোতেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা উপস্থিতি নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। ফলে দশকের পর দশকের ভয়ের ছায়া থেকে মুক্তি পেয়ে এলাকাটি ধীরে ধীরে একটি নিরাপদ, প্রাণবন্ত শিক্ষা-সম্প্রদায়ের কেন্দ্রে রূপান্তরিত হবে।

এলাকার ভবিষ্যৎ: শিক্ষার আলোয় নতুন পরিচয়

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পদক্ষেপ কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধন নয়। এটি একটি অঞ্চলের সামাজিক-অর্থনৈতিক রূপান্তরের প্রথম অধ্যায়। ভাতার মারির রেলক্রসিং এলাকা যেখানে একসময় মানুষের চলাচল থেমে যেত, সেখানে এখন ক্যাম্পাস ভবনের নকশা আঁকা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, পুলিশের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম — তিনটি স্তম্ভ একসাথে কাজ করছে একটি নতুন পরিচয় গড়তে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলে এই এলাকা আর ভয়ের নাম নয়, বরং জ্ঞানের আলোয় জেগে উঠবে।

Frequently Asked Questions

What is ঠ ক রগ ও ব শ বব?

ঠ ক রগ ও ব শ বব is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ঠ ক রগ ও ব শ বব matter?

ঠ ক রগ ও ব শ বব matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *