Patrikajournal
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহ-গোলাম আযমের ছবি পদদলিত করে বিক্ষোভ

Published September 15, 2026 · Updated September 15, 2026 · By Karen Jones - patrikajournal.com

Foto : Karen Jones - patrikajournal.com

ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

Patrikajournal.com – ড কস স গ রহশ ল য় - ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের নেতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি রাখা নিয়ে মঙ্গলবার বিক্ষোভ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে তাঁরা জিন্নাহ ও গোলাম আজমের ছবিতে পদদলিত করেন।

মঙ্গলবার বেলা প্রায় আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী ডাকসু ভবনের সামনে কর্মসূচিতে অংশ নেন। তাঁদের অবস্থান ছিল ডাকসু ভবনের পাদদেশে এবং সংগ্রহশালার ভেতরেও। বিক্ষোভকারীরা জানান, প্রদর্শিত ছবিগুলোকে ঘিরে তাঁদের আপত্তি রাজনৈতিক ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত।

ভবনের সামনে ও সংগ্রহশালার ভেতরে প্রতিবাদ

প্রতিবাদ কর্মসূচির সময় ডাকসু ভবনের পাদদেশে দুটি ছবি এবং ডাকসু সংগ্রহশালার ভেতরে আরও দুটি ছবি পদদলিত করা হয়। ঘটনাটি ঘিরে শিক্ষার্থীরা তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরেন এবং সংগ্রহশালায় কোন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব বা উপকরণ কী প্রেক্ষাপটে উপস্থাপিত হবে, সে প্রশ্নও সামনে আসে।

ডাকসু ভবন দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতি, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবিদাওয়ার সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। ফলে এর সংগ্রহশালায় থাকা যেকোনো ছবি বা নিদর্শন শুধু প্রদর্শনীর বিষয় নয়; তা ইতিহাসের ব্যাখ্যা, স্মৃতির সংরক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের আবেগের সঙ্গেও সম্পর্কিত হয়ে ওঠে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বক্তব্যে ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রসঙ্গ বিশেষভাবে উঠে আসে। তাঁদের অবস্থান হলো, যাঁদের ভূমিকা বাংলাদেশের বাঙালি জাতীয়তাবাদ, ভাষার অধিকার কিংবা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বিপরীত হিসেবে বিবেচিত, তাঁদের ছবি বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন স্থানে প্রদর্শন করা গ্রহণযোগ্য নয়।

শিক্ষার্থীদের বক্তব্য

বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থী ওয়াসিম উদ্দিন রাহাত বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসকে কেবল স্থাপনা বা প্রদর্শনীর উপকরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে দেখা যায় না। তাঁর ভাষ্যে, জাতির ভাষা ও স্বাধীনতার জন্য যে আত্মত্যাগ হয়েছে, তার মর্যাদা রক্ষার দায়ও শিক্ষার্থীদের রয়েছে।

“ভাষার জন্য সালাম, বরকতের রক্ত দেওয়া দেশ বাংলাদেশ। ৩০ লাখ মানুষের রক্তের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে। সেখানে যারা আমাদের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল, তাদের কাউকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থান দেওয়া আমরা কখনোই মেনে নেব না। গোলাম আজম একজন কুখ্যাত রাজাকার।”

রাহাতের বক্তব্যে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতি এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ত্যাগের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশে ভাষা আন্দোলন বাঙালির অধিকারভিত্তিক রাজনৈতিক চেতনা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একইভাবে মুক্তিযুদ্ধ দেশের স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার ভিত্তি। এই দুই ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত সংবেদনশীলতা বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনেও বারবার আলোচনায় আসে।

স্মৃতি, প্রদর্শনী ও ঐতিহাসিক ব্যাখ্যার প্রশ্ন

সংগ্রহশালা সাধারণত অতীতের বিভিন্ন উপাদান সংরক্ষণ ও উপস্থাপনের স্থান হলেও একটি ছবি কী অর্থ বহন করবে, তা নির্ভর করে তার প্রদর্শনের ধরন, প্রেক্ষাপট এবং ব্যাখ্যার ওপর। কোনো ব্যক্তির ছবি ইতিহাসের দলিল হিসেবে রাখা হয়েছে নাকি তাঁকে সম্মানিত অবস্থানে তুলে ধরা হয়েছে—এই পার্থক্য শিক্ষার্থীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

মঙ্গলবারের বিক্ষোভ সেই প্রশ্নটিকেই নতুনভাবে সামনে এনেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি ও প্রতিবাদের ভাষা থেকে বোঝা যায়, তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা, ভাষার অধিকার এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উপস্থাপনা প্রত্যাশা করেন। তাঁদের দৃষ্টিতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে ইতিহাস প্রদর্শনের ক্ষেত্রে জাতীয় স্মৃতি ও জনসংবেদনশীলতার বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধের নানা স্মৃতির সঙ্গে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণে ক্যাম্পাসের কোনো স্থান, প্রতিকৃতি বা প্রদর্শনী নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা অনেক সময় বৃহত্তর ঐতিহাসিক বিতর্কের অংশ হয়ে যায়।

বিক্ষোভকারীদের কর্মসূচি ছিল প্রতীকী প্রতিবাদ। পদদলিত করার মাধ্যমে তাঁরা তাঁদের প্রত্যাখ্যানের অবস্থান প্রকাশ করেন। তাঁদের বক্তব্যে জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের বিরোধিতার পাশাপাশি গোলাম আজমকে ঘিরে তীব্র আপত্তিও উঠে আসে।

ক্যাম্পাসে ইতিহাসচর্চার গুরুত্ব

বিশ্ববিদ্যালয় হলো প্রশ্ন তোলা, বিতর্ক করা এবং ইতিহাসকে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে বোঝার জায়গা। তবে এই আলোচনা দায়িত্বশীল হওয়াও জরুরি, বিশেষত যখন তা ভাষা শহীদ, মুক্তিযুদ্ধ এবং জাতীয় পরিচয়ের মতো গভীর আবেগের বিষয়কে স্পর্শ করে। সংগ্রহশালার উপকরণ কীভাবে সাজানো হবে, কোন তথ্যের সঙ্গে কোন ব্যাখ্যা যুক্ত থাকবে এবং দর্শনার্থীরা কী বার্তা পাবেন—এসব বিষয় জনপরিসরে আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

মঙ্গলবারের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন: বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বিপরীত বলে তাঁরা যাঁদের বিবেচনা করেন, তাঁদের উপস্থিতিকে তাঁরা ডাকসুর সংগ্রহশালায় স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে রাজি নন। ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসচর্চা, স্মৃতির রাজনীতি এবং প্রদর্শনীর দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন আলোচনা উসকে দিয়েছে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ড কস স গ রহশ ল য়?

ড কস স গ রহশ ল য় is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ড কস স গ রহশ ল য় matter?

ড কস স গ রহশ ল য় matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.