সম্পদ বিবরণী না দেওয়ার মামলায় সুপর্ণা সুর চৌধুরীর দুই বছরের কারাদণ্ড
Patrikajournal.com – দ র ন ত র ম মল – দুর্নীতি দমন কমিশনের করা সম্পদ বিবরণী-সংক্রান্ত মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার (এস কে) সুরের স্ত্রী সুপর্ণা সুর চৌধুরীকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাঁকে আরও তিন মাস কারাভোগ করতে হবে।
মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০-এর বিচারক মো. রবিউল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। দুদকের আইনজীবী শাহ মো. নাজমুস সাকিব রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রায় ঘোষণার সময় সুপর্ণা সুর চৌধুরী কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। বিচারকের আদেশের পর তাঁর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয় এবং তাঁকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়।
কেন হয়েছিল মামলা
মামলার মূল বিষয় ছিল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী জমা না দেওয়া। সুপর্ণা সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ বা সম্পত্তির মালিক হওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে সম্পদের বিস্তারিত হিসাব দিতে বলা হয়েছিল।
নোটিশে তাঁর নিজের নামে বা বেনামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, দায়দেনা, আয়ের উৎস এবং সম্পদ অর্জনের বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করে বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ নির্দেশের আওতায় তাঁর স্বামী এস কে সুরের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে থাকা সম্পদের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর সুপর্ণা সুর চৌধুরী নিজ স্বাক্ষরে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ এবং নির্ধারিত ফরম গ্রহণ করেন। তবে আদেশ পাওয়ার পর ২১ কার্যদিবসের মধ্যে তিনি বিবরণী জমা দেননি বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ মানা না হওয়ায় ওই বছরের ২৩ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলাটি দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় করা হয়।
তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া
মামলা দায়েরের পর তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৯ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপসহকারী পরিচালক এ এম তাহের অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
পরবর্তী সময়ে চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি সুপর্ণা সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন আদালত। অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলাটির বিচারপর্ব শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
সাক্ষ্য, নথি ও মামলার অন্যান্য উপকরণ বিবেচনা শেষে বিশেষ জজ আদালত এই রায় দেন। রায়ে কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ডও নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থদণ্ডের এক লাখ টাকা পরিশোধ না করলে মূল দুই বছরের দণ্ডের বাইরে আরও তিন মাসের সাজা কার্যকর হবে।
সম্পদ বিবরণীর গুরুত্ব
সম্পদ বিবরণী চাওয়ার উদ্দেশ্য হলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পদ, আয় ও দায়ের তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি করা। বিবরণীতে জমি, বাড়ি, ব্যাংক হিসাব, যানবাহন, বিনিয়োগ, অন্যান্য স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ এবং ঋণ বা দায়দেনার তথ্য থাকতে পারে। এ ধরনের তথ্যের সঙ্গে আয়ের উৎসের সামঞ্জস্য আছে কি না, সেটিও যাচাইয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
এ মামলায় আদালতের রায় সম্পদের তথ্য চেয়ে দেওয়া আইনগত নির্দেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পালনের বিষয়টিকে সামনে এনেছে। এখানে বিচারিক সিদ্ধান্তের কেন্দ্রীয় প্রশ্ন ছিল সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার আদেশ অনুসরণ করা হয়েছে কি না।
সুপর্ণা সুর চৌধুরীকে দেওয়া সাজা পরোয়ানাসহ কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আদালতের রায়ে নির্ধারিত অর্থদণ্ড পরিশোধের বাধ্যবাধকতাও তাঁর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের স্ত্রী হিসেবে পরিচিত সুপর্ণা সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে এ মামলার বিচার শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া সম্পদ বিবরণী-সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার একটি পর্যায় সম্পন্ন হলো।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is দ র ন ত র ম মল?
দ র ন ত র ম মল is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does দ র ন ত র ম মল matter?
দ র ন ত র ম মল matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

