Patrikajournal
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

নামফলকে নিজের নাম দেখে ফলক উন্মোচন করেননি হাসনাত আবদুল্লাহ, আলোচনা-সমালোচনা

Published September 28, 2026 · Updated September 28, 2026 · By Charles Jones - patrikajournal.com

Foto : Charles Jones - patrikajournal.com

দেবিদ্বারের বিদ্যালয় ভবনের ফলকে নিজের নাম দেখে আপত্তি হাসনাত আবদুল্লাহর

Patrikajournal.com – ন মফলক ন জ র ন ম - কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার রাধানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবনির্মিত একাডেমিক ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নামফলকে নিজের নাম দেখতে পেয়ে তা উন্মোচন থেকে বিরত থাকেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তবে তিনি লাল ফিতা কেটে ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং ফলকটি পরিবর্তন করার নির্দেশ দেন।

গত শনিবার বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নতুন ভবনের উদ্বোধন ও বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে ভবনের সামনে লাল কাপড়ে ঢাকা নামফলক উন্মোচনের আয়োজন করা হলে সেখানে নিজের নাম খোদাই করা দেখতে পান তিনি।

রোববার এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, ফিতা কাটার পর তিনি নতুন ভবনে প্রবেশ করেন। পরে ফলকের ওপরের কাপড় সরিয়ে নিজের নাম দেখতে পেয়ে তিনি আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নামফলক উন্মোচন না করার সিদ্ধান্ত জানান।

জনগণের অর্থে নির্মিত স্থাপনায় ব্যক্তিনাম নিয়ে আপত্তি

হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্য ছিল, সরকারি কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নকাজে ব্যবহৃত অর্থ মূলত জনগণের করের টাকা। তাই এ ধরনের স্থাপনায় কোনো জনপ্রতিনিধি বা রাজনৈতিক ব্যক্তির নাম বসিয়ে আত্মপ্রচারের সুযোগ তৈরি করা সমীচীন নয়। তিনি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ফলকটি সংশোধন করে পুনঃস্থাপনের নির্দেশ দেন।

“জনগণের টাকায় উন্নয়নকাজ বাস্তবায়িত হয়। এসব নামফলকে জনপ্রতিনিধিদের নাম না রেখে দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তি, দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির তথ্য স্থান পেতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ইতিহাস, এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য কিংবা দেশের জন্য স্মরণীয় অবদান রাখা ব্যক্তিদের তথ্য ফলকে তুলে ধরা যেতে পারে। এতে একটি স্থাপনার পরিচয়ের সঙ্গে শিক্ষামূলক ও ঐতিহাসিক মূল্যও যুক্ত হতে পারে।

“নতুন বাংলাদেশে প্রথাগত রাজনৈতিক ব্যক্তিপূজা বা আত্মপ্রচারের সংস্কৃতি দেখতে চান না তিনি।”

বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবনটি উদ্বোধনের মূল আয়োজন বন্ধ হয়নি। নামফলক উন্মোচন না করলেও লাল ফিতা কেটে ভবনটি চালুর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন সংসদ সদস্য। ফলে ভবনের ব্যবহার বা উদ্বোধন নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা তৈরি হয়নি; প্রশ্ন উঠেছে কেবল ফলকে ব্যক্তির নাম ব্যবহারের প্রচলন নিয়ে।

ফলক বদলের উদ্যোগ

রাধানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু সাঈদ জানিয়েছেন, সংসদ সদস্যের নির্দেশনা অনুসারে বর্তমান নামফলক দ্রুত পরিবর্তন করা হবে। সংশোধিত ফলক পুনরায় স্থাপনের প্রস্তুতিও নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, নতুন একাডেমিক ভবনের উদ্বোধনের পাশাপাশি ওই দিন বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণও অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং স্থানীয়দের উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি পরে নামফলক সংক্রান্ত ঘটনার কারণে আলাদা গুরুত্ব পায়।

নামফলকে নিজের নাম রাখা নিয়ে আপত্তির এই অবস্থান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। অনেকেই এটিকে প্রথাগত চাটুকারিতা ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিপরীতে একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, জনগণের অর্থে নির্মিত অবকাঠামোর পরিচয় যেন ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠান ও জনস্বার্থকে সামনে আনে।

আবার কেউ কেউ ঘটনাটিকে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রতিষ্ঠার একটি কৌশল হিসেবেও দেখছেন। তবে বিতর্কের মধ্যেও একটি বিষয় সামনে এসেছে—উন্নয়ন প্রকল্পের নামফলক কার পরিচয় বহন করবে, সেই প্রশ্নটি শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটি বিদ্যালয় ভবনের ফলকে ব্যক্তিনাম, প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস বা জনকল্যাণমূলক তথ্যের কোনটি থাকবে, তা জনসম্পদের ব্যবহার ও প্রতিনিধিত্বের ধারণার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

নির্বাচনী এলাকায় নাম ব্যবহার না করার নির্দেশনা

হাসনাত আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে তাঁর নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নমূলক কাজের ফলকে তাঁর নাম ব্যবহার না করার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, জনপ্রতিনিধির ভূমিকা উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নে থাকলেও স্থাপনার পরিচয় ব্যক্তির প্রচারের মাধ্যম হওয়া উচিত নয়।

এ ধরনের অবস্থান বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ফলকের ভাষা ও বিষয়বস্তু নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। প্রতিষ্ঠানের নাম, নির্মাণের উদ্দেশ্য, এলাকার ইতিহাস, শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত সংক্ষিপ্ত তথ্য কিংবা জনসেবামূলক বার্তা অন্তর্ভুক্ত করা হলে ফলকটি শুধু উদ্বোধনের স্মারক না হয়ে তথ্যবহুলও হতে পারে।

দেবিদ্বারের এই ঘটনা এখন স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ভবন উদ্বোধনের গণ্ডি ছাড়িয়ে জনপ্রতিনিধিদের নামে স্থাপনা বা প্রকল্পের ফলক বসানোর প্রচলন নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। সংশোধিত ফলকে কী তথ্য থাকবে, তা দেখার পাশাপাশি ভবিষ্যতের উন্নয়নকাজে এই নির্দেশনা কতটা অনুসরণ করা হয়, সেদিকেও নজর থাকবে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ন মফলক ন জ র ন ম?

ন মফলক ন জ র ন ম is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ন মফলক ন জ র ন ম matter?

ন মফলক ন জ র ন ম matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.