Patrikajournal
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

নিষেধাজ্ঞা শেষ: দ্বার খুলছে সুন্দরবনের, নজরদারি জোরদার

Published September 1, 2026 · Updated September 1, 2026 · By Christopher Gonzalez - patrikajournal.com

Foto : Christopher Gonzalez - patrikajournal.com

তিন মাসের নীরবতার পর আবার জেগে উঠছে পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ

Patrikajournal.com – ন ষ ধ জ ঞ শ ষ - ১ সেপ্টেম্বর, সোমবার — দিবাগত রাত ১২টার ঠিক পরেই সুন্দরবনের নদী-খালের মুখে ফিরছে শত শত বনজীবী নৌকার বহর। একই সময়ে সাতটি পর্যটকবাহী জাহাজে তিন শতাধিক ভ্রমণকারীকে বহন করে বনের গহিনে প্রবেশ করছে আরেকটি প্রবাহ। গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলা তিন মাসের প্রবেশনিষেধের অবসান ঘটিয়ে এই দিনটি সুন্দরবনের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনটি আবার মানুষের পায়ে, নৌকার ডোলে এবং পর্যটকের দৃষ্টিতে সক্রিয় হতে যাচ্ছে।

নিষেধের তিন মাস: বন ফিরল নিরিবিলির আশ্রয়

মাছের প্রজননকাল এবং বন্য প্রাণীর নির্বিঘ্ন বিচরণ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে প্রতি বছর এই সময়ে সুন্দরবনে পর্যটক ও বনজীবীদের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়। মানুষের উপস্থিতি প্রায় শূন্য থাকার সুযোগে বনটি ফিরে পায় তার প্রাকৃতিক সক্রিয়তা। সম্প্রতি ভোলা ও আলীবান্দা নদীর মোহনা দিয়ে বনের গভীরে প্রবেশ করে পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে — চরে দল বেঁধে ঘাস খাচ্ছে হরিণ, ম্যানগ্রোভের শ্বাসমূলের চারপাশে ছুটে বেড়াচ্ছে কাঁকড়া, আর দূর থেকে ভেসে আসছে নানা প্রজাতির পাখির ডাক। নদী-খালের জোয়ার-ভাটার টানে, বৃষ্টিতে ধুয়ে যাওয়া সবুজে এবং বন্য প্রাণীর বিচরণে পুরো পরিবেশ হয়ে উঠেছে অত্যন্ত সজীব। খালের পাড়ে কুমিরকে রোদ পোহাতেও চোখে পড়েছে।

এই তিন মাসের নীরবতা মূলত বনের বাস্তুতন্ত্রকে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ দেয়। ম্যানগ্রোভের শ্বাসমূল, হরিণের প্রজননচক্র এবং নদী-খালের মাছের চক্র — সবই মানুষের হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত থাকে। ফলে বনের বাস্তুতন্ত্রের স্বাভাবিক চক্র অক্ষুণ্ণ থাকে, যা পরবর্তী মৌসুমে বন্য প্রাণীর সংখ্যা ও বৈচিত্র্য বজায় রাখতে অপরিহার্য।

জেলে ও পর্যটক: প্রস্তুতির দৃশ্য

শরণখোলার দক্ষিণ রাজাপুর এলাকার জেলে আব্দুল খালেক, জাহিদুল হাওলাদার এবং সোনাতলা গ্রামের জেলে আব্দুর রহিমসহ অসংখ্য বনজীবী জানান, নৌকা ও ট্রলারে জাল ও খাদ্যসামগ্রী বোঝাই করে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন তাঁরা। তিন মাসের বিরতির পর প্রথম দিনেই মাছ ধরার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে।

পর্যটন খাতেও প্রস্তুতি সম্পূর্ণ। ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসি৯েশন অব সুন্দরবনের (টোয়াস) সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম কচি জানান, সুন্দরন পূর্ব ও পশ্চিম বন বিভাগের আওতাধীন এলাকায় ১ সেপ্টেম্বর তাঁদের বহরের সাতটি জাহাজ তিন শতাধিক পর্যটককে বহন করে সুন্দরবনে যাবে। উল্লেখযোগ্য যে, এই দলে দুজন বিদেশি পর্যটকও রয়েছেন।

সুন্দরন পূর্ব ও পশ্চিম বন বিভাগের আওতাধীন এলাকায় ১ সেপ্টেম্বর তাঁদের বহরের সাতটি জাহাজ তিন শতাধিক পর্যটক নিয়ে সুন্দরনেন যাবে। তাঁদের মধ্যে দুজন বিদেশি পর্যটক রয়েছেন।

সুন্দরন পূর্ব বন বিভাগের কটকা অভ্যারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার তানভির হাসান ইমরান এবং হাওয়াইয়া ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার মো. রবিউল ইসলাম দ্বৈতভাবে নিশ্চিত করেন, কটকা ও হাওয়াইয়া পর্যটনকেন্দ্র এখন পর্যটকদের বরণ করে নেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। পর্যটকদের সুবিধার জন্য নতুন জেটিঘাটও নির্মাণ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা: তিন সংস্থার সমন্বিত নজরদারি

প্রবেশাধিকার প্রদানের পাশাপাশি বন বিভাগ, কোস্ট গার্ড ও র্যাব-৬ — তিনটি সংস্থা মিলিতভাবে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে সুন্দরনেন গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে এই তিন সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা চলছে।

সুন্দরন পূর্ব বন বিভাগ, বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান:

দুর্গম বনাঞ্চলে নিয়মিত বিশেষ অভিযান ও স্মার্ট প্যাট্রলিং জোরদারের পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে আকাশপথে নজরদারি করা হচ্ছে। ফলে হরিণ শিকার ও বিষ প্রয়োগকারী চক্রের তৎপরতা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার বিএন সাব্বির আলম সুজন জানান, সুন্দরনেন দস্যু বাহিনীর কার্যক্রমের ওপর কোস্ট গার্ডের গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একইভাবে র্যাব-৬-এর অধিনায়ক নিস্তার আহমেদ দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেন:

সুন্দরনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

নিষেধকালে আইনশৃঙ্খলা: সংখ্যা ও ফলাফল

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত তিন মাসে সুন্দরনেন মোট ৬৩টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এই অভিযানের ফলে অপরাধের ঘটনায় ৩৯টি মামলা দায়ের হয়েছে এবং ৩৭ জনকে আটক করা হয়েছে। হরিণ শিকার, বিষ প্রয়োগ এবং অন্যান্য বন-অপরাধের বিরুদ্ধে এই অভিযানগুলো বনের বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

সুন্দরন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম স্পষ্টভাবে জানান:

তিন মাসের নিষেধ শেষে সুন্দরনেন জেলেদের মাছ ধরা ও পর্যটকদের যাতায়াতের জন্য ১ সেপ্টেম্বর থেকে পাস (অনুমতিপত্র) দেওয়া শুরু হবে।

পাঠকের জন্য প্রাসঙ্গিক প্রেক্ষাপট

সুন্দরন পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, যার বিস্তৃতি বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তে। বাংলাদেশের অংশে বন বিভাগের পূর্ব ও পশ্চিম দুটি বিভাগ কাজ করে। প্রতি বছর জুন-আগস্ট মাসগুলোতে মাছের প্রজনন ও বন্য প্রাণীর চক্র রক্ষায় প্রবেশনিষেধ জারি হয়। এই নিষেধকালে বনজীবীরাও বনে প্রবেশ করতে পারেন না, ফলে বনটি সম্পূর্ণভাবে প্রাকৃতিক চক্রের মধ্যে ফিরে যায়। সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী মৌসুমে পর্যটন, মাছ ধরা এবং বন-সংরক্ষণ কার্যক্রম পুনরায় সক্রিয় হয়। তিন মাসের এই বিরতি সুন্দরনেন বাস্তুতন্ত্রের স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে, যা দীর্ঘমেয়াদে বন্য প্রাণীর সংরক্ষণ ও স্থানীয় জীবিকার উভয় দিকের ভারসাম্য নিশ্চিত করে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ন ষ ধ জ ঞ শ ষ?

ন ষ ধ জ ঞ শ ষ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ন ষ ধ জ ঞ শ ষ matter?

ন ষ ধ জ ঞ শ ষ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.