Patrikajournal
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

পাবনায় অর্থ আত্মসাত মামলায় গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তার ৫ বছরের কারাদণ্ড

Published October 28, 2026 · Updated October 28, 2026 · By Barbara Hernandez - patrikajournal.com

Foto : Barbara Hernandez - patrikajournal.com

পাবনায় অর্থ আত্মসাত মামলায় গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তার কারাদণ্ড

Patrikajournal.com – প বন য় অর থ আত মস - গ্রামীণ ব্যাংকের সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট শাখায় কর্মরত অবস্থায় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এক সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তাকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন পাবনার বিশেষ জজ আদালত। দণ্ডের পাশাপাশি তাঁকে আত্মসাত করা ৯ লাখ ২৪ হাজার ৮ টাকা ফেরত দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার দুপুরে পাবনার বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবু সালেহ মো. সালাহউদ্দিন খাঁ এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সৈয়দ আব্দুল্লাহ আল মামুন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায়ের পর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত সৈয়দ আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রামীণ ব্যাংকের ভদ্রঘাট শাখার সাবেক সিনিয়র কেন্দ্র ব্যবস্থাপক ছিলেন। তাঁর বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার গুয়াগাঁতী গ্রামে। তিনি সৈয়দ আব্দুল খালেকের ছেলে।

দুই কর্মকর্তা খালাস

একই মামলায় অভিযুক্ত অপর দুই ব্যাংক কর্মকর্তা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন ভদ্রঘাট শাখার সাবেক সিনিয়র কেন্দ্র ব্যবস্থাপক সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং শাখা ব্যবস্থাপক আনোয়ার হোসেন।

মামলাটিতে তিনজনের দায়িত্ব ও ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে শুনানি হয়েছে। সাক্ষীদের জবানবন্দি, নথিপত্র এবং উপস্থাপিত অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ মূল্যায়নের পর আদালত একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত মনে করলেও অন্য দুজনের ক্ষেত্রে তা প্রমাণিত হয়নি বলে রায় দেন।

যে সময়ের ঘটনা

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০০৯ সালের আগস্ট থেকে ২০১৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে ভদ্রঘাট শাখায় দায়িত্ব পালনের সময় অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। ওই সময় সৈয়দ আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সৈয়দ নজরুল ইসলাম সিনিয়র কেন্দ্র ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আনোয়ার হোসেন দায়িত্বে ছিলেন শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে।

অভিযোগে বলা হয়েছিল, জালিয়াতি ও ভুয়া ঋণ বিতরণের তথ্য ব্যবহার করে অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়। গ্রাহকদের কাছ থেকে ঋণের কিস্তি বা অন্য খাতে আদায় করা অর্থও নির্ধারিত কালেকশন শিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। পরে সেই টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়।

ব্যাংকিং ব্যবস্থায় গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করা অর্থের হিসাব সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কালেকশন শিট, ঋণের নথি ও শাখার জমা হিসাব মিলিয়ে আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়। এসব নথিতে ভুল, গরমিল বা ভুয়া তথ্য থাকলে প্রতিষ্ঠান এবং গ্রাহক—উভয় পক্ষই ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। এ মামলায় আদালতের রায়ে আদায় করা অর্থের সঠিক হিসাব ও জবাবদিহির গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে।

দুদকের মামলা ও তদন্ত

ঘটনার পর দুর্নীতি দমন কমিশনের পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক সাইদুর রহমান বাদী হয়ে মামলা করেন। ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়।

তদন্ত শেষে একই কর্মকর্তা সাইদুর রহমান ২০২১ সালের ৩১ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার পর মামলাটি বিচারিক প্রক্রিয়ায় এগোয়। এরপর সাক্ষ্য গ্রহণ, যুক্তিতর্ক এবং নথি যাচাইয়ের বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন হয়।

অর্থ আত্মসাতসংক্রান্ত মামলায় অভিযোগ প্রমাণের জন্য সাধারণত লেনদেনের নথি, হিসাবের খাতা, আদায়ের কাগজপত্র, ব্যাংকে জমার তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আদালতের এই রায়ে একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কারাদণ্ড ও অর্থ ফেরতের নির্দেশ থাকলেও অন্য দুজন খালাস পাওয়ায় প্রমাণের মানদণ্ডের বিষয়টিও স্পষ্ট হয়েছে।

আদালতে উভয় পক্ষের বক্তব্য

মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট সাইদুল ইসলাম চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে দুদকের বিশেষ আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অ্যাডভোকেট মলয় কুমার দাস। রায়ের তথ্য নিশ্চিত করেছেন দুদকের আইনজীবী মলয় কুমার দাস।

রায়ে সৈয়দ আব্দুল্লাহ আল মামুনের পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৯ লাখ ২৪ হাজার ৮ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থ ফেরতের এই নির্দেশের মাধ্যমে মামলায় উল্লিখিত আর্থিক ক্ষতি পুনরুদ্ধারের বিষয়টিও বিচারিক সিদ্ধান্তের অংশ হয়েছে।

দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই মামলার রায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বশীলতার প্রশ্নকে গুরুত্ব দিয়েছে। গ্রাহকের অর্থ সংগ্রহ, নথিভুক্তকরণ এবং জমা দেওয়ার প্রতিটি ধাপে সঠিক তদারকি থাকলে অনিয়ম শনাক্ত করা সহজ হয়। একই সঙ্গে অভিযোগ উঠলে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দায় নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হয়।

পাবনার বিশেষ জজ আদালতের এই রায়ের মধ্য দিয়ে ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে সংঘটিত বলে অভিযোগ ওঠা আর্থিক অনিয়মের মামলাটির বিচারিক নিষ্পত্তি হলো। একজন সাবেক কর্মকর্তার সাজা কার্যকর করার জন্য তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, আর অপর দুই কর্মকর্তাকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is প বন য় অর থ আত মস?

প বন য় অর থ আত মস is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does প বন য় অর থ আত মস matter?

প বন য় অর থ আত মস matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.