Patrikajournal
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

বক-সারস-পানকৌড়ির মিতালি

Published September 19, 2026 · Updated September 19, 2026 · By Michael Martin - patrikajournal.com

Foto : Michael Martin - patrikajournal.com

তাফালবাড়ীর গাছে বক-সারস-পানকৌড়ির নিরাপদ আবাস

Patrikajournal.com – বক স রস প নক ড় র - বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের তাফালবাড়ী গ্রামে বক, সারস ও পানকৌড়ির সহাবস্থান এখন স্থানীয়দের কাছে পরিচিত এক দৃশ্য। সুন্দরবনসংলগ্ন গ্রামের পাশাপাশি দুটি বাগানবাড়ির গাছে গাছে এসব পাখি বাসা বেঁধেছে। একই ডালে দেখা যায় নানা পাখি ও বাদুড়কেও, অথচ তাদের মধ্যে কোনো দৃশ্যমান বিরোধ নেই।

দীপক দাস ও কামরুল ইসলামের দুই বাড়ির চারপাশে থাকা ছোট-বড় গাছগুলো প্রায় এক দশক ধরে পাখিদের আশ্রয়। বছরের প্রায় সব সময় পাখি দেখা গেলেও প্রজনন মৌসুমে তাদের আনাগোনা বেড়ে যায়। এ সময় পুরোনো বাসা সংস্কার, নতুন বাসা তৈরি, ডিম পাড়া ও ছানা লালন-পালনের ব্যস্ততা চলে।

ভোরে উড়াল, সন্ধ্যায় নীড়ে ফেরা

সকালের আলো ফোটার আগেই পাখির দল খাবারের সন্ধানে উড়ে যায় বিভিন্ন দিকে। দিনভর খাদ্য সংগ্রহ শেষে বিকেলের দিকে তারা আবার নিজ নিজ বাসায় ফিরে আসে। অনেক পাখিকে ছানার জন্য খাবার নিয়ে গাছে ফিরতে দেখা যায়।

সকাল ও বিকেলে পাখির ডাক আর ছানাদের কিচিরমিচিরে মুখর হয়ে ওঠে বাড়ি দুটির আশপাশ। দূর থেকে গাছের মাথাগুলোকে যেন একটি ব্যস্ত পাখিপাড়া মনে হয়। একই জায়গায় বিভিন্ন প্রজাতির অবস্থান হলেও খাবার বা বাসার জায়গা নিয়ে কোনো প্রকাশ্য সংঘাত দেখা যায় না।

বিরল মদনটাকের উপস্থিতি

এ বছর বক, পানকৌড়ি ও বাদুড়ের পাশাপাশি তাফালবাড়ীতে বিরল মদনটাকও দেখা গেছে। পাখিটি সেখানে স্থায়ীভাবে বাসা বাঁধেনি, তবে সুন্দরবনের কাছাকাছি হওয়ায় মাঝে মধ্যে গাছের উঁচু ডালে এসে বসে। এর উপস্থিতি প্রকৃতিপ্রেমীদের আগ্রহ বাড়িয়েছে।

নিরাপদ গাছ, নিরিবিলি পরিবেশ এবং মানুষের সহনশীল আচরণ পাখিদের দীর্ঘদিন একই এলাকায় থাকতে সহায়তা করে। তাফালবাড়ীর পুরোনো গাছগুলো তাই শুধু বাড়ির সবুজ অংশ নয়, বহু প্রাণীর প্রজনন ও আশ্রয়ের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা।

গাছ রক্ষায় বাড়ির মালিকদের উদ্যোগ

দীপক দাস ও কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, পাখিদের বাসার কথা বিবেচনা করে তাঁরা বিক্রির উপযোগী গাছও কাটেননি। পরিবারের সদস্যরাও পাখিদের বিরক্ত না করার বিষয়ে সচেতন। এই সিদ্ধান্তে বহু বছরের গড়ে ওঠা পাখির আবাস অক্ষত রয়েছে।

একটি গাছ শুধু পাখির বসার জায়গা নয়; সেখানে বাসা, ডিম, ছানা ও প্রজনন মৌসুমের নিরাপত্তা জড়িয়ে থাকে।

শরণখোলা বন্য প্রাণী সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক তাইজুল ইসলাম জানিয়েছেন, তাফালবাড়ীকে ‘পাখির গ্রাম’ হিসেবে ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাখি রক্ষায় কমিটি গঠন এবং গাছে গাছে বিকল্প বাসার ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

ওয়াইল্ড টিমের শরণখোলা ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর মো. আলম হাওলাদার বলেন, নিরাপদ আশ্রয় হওয়ায় মানুষ কাছ থেকে বিভিন্ন পাখির জীবনযাপন দেখার সুযোগ পাচ্ছে। সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. সালাউদ্দিন আহমেদও পাখি সংরক্ষণে ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতার কথা জানিয়েছেন।

প্রশ্নোত্তর

তাফালবাড়ীতে কোন কোন পাখি দেখা যায়?

এখানে বক, সারস, পানকৌড়ি, বাদুড় এবং অন্যান্য পাখি দেখা যায়। এ বছর বিরল মদনটাকও দেখা গেছে।

পাখিদের আবাস রক্ষায় কী করা হচ্ছে?

বাড়ির মালিকেরা গাছ না কেটে পাখিদের বাসা রক্ষা করছেন। স্থানীয়ভাবে ‘পাখির গ্রাম’ ঘোষণার উদ্যোগ, সংরক্ষণ কমিটি গঠন এবং বিকল্প বাসার ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

পাখির জন্য পুরোনো গাছ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

উঁচু ও নিরাপদ গাছে পাখিরা বাসা তৈরি, ডিম পাড়া এবং ছানা লালন-পালন করতে পারে। গাছ কেটে ফেললে তাদের বহুদিনের আবাস ও প্রজননের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is বক স রস প নক ড় র?

বক স রস প নক ড় র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does বক স রস প নক ড় র matter?

বক স রস প নক ড় র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.