Patrikajournal
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

বরিশালে মাদ্রাসার সভাপতি নিয়ে চরমোনাই ও বিএনপিতে উত্তেজনা

Published September 20, 2026 · Updated September 20, 2026 · By Michael Martin - patrikajournal.com

Foto : Michael Martin - patrikajournal.com

বরিশালে মাদ্রাসা পরিচালনা নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থান

Patrikajournal.com – বর শ ল ম দ র স - বরিশাল নগরীর বাজার রোডে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী জামিয়া আরাবিয়া খাজা মঈনউদ্দীন মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতির পদকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বর্তমান সভাপতি মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের সমর্থক এবং স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মধ্যে এই বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবায়েদুল হক চাঁন সভাপতির পদে আসতে চাপ দিচ্ছেন। অন্যদিকে চাঁন এ অভিযোগ নাকচ করে বলেছেন, তাঁর এমন কোনো আগ্রহ নেই।

রোববার বিকেলে এবায়েদুল হক চাঁন দলীয় সমর্থকদের নিয়ে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে যান বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানের মুহতামিম ও মাদ্রাসা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হালিম। তাঁর দাবি, এ সময় চাঁন সেখানে আছরের নামাজও আদায় করেন। তবে দলবল নিয়ে উপস্থিতির ঘটনায় শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।

কমিটির নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন

মো. আব্দুল হালিমের বক্তব্য, কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের নীতিমালা অনুসারে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্ব একজন আলেমের হাতে থাকার কথা। তাঁর অভিযোগ, ওই নিয়মের বাইরে গিয়ে এবায়েদুল হক চাঁন সভাপতি হওয়ার চেষ্টা করছেন। মাদ্রাসা পরিচালনার বিষয়টি নিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হলে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক শিক্ষা ও ধর্মীয় পরিবেশ ব্যাহত হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০১০ সাল থেকে ২১ সদস্যের একটি কমিটি প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সেই কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে আছেন মুফতি ফয়জুল করীম। তাঁদের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এবায়েদুল হক চাঁন সভাপতির পদে আসার উদ্যোগ নেন। তিনি বাজার রোড ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতিও।

কমিটি গঠন, গঠনতন্ত্র এবং মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে তা কেবল পদ-পদবির প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকে না। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় মানুষের মধ্যেও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। এ কারণে পরিচালনা কাঠামো নিয়ে মতভেদ হলে নির্ধারিত নিয়ম ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো জরুরি হয়ে ওঠে।

চাঁনের বক্তব্য

এবায়েদুল হক চাঁন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৮ সালে পুলিশ দিয়ে তাঁকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য, গত শুক্রবার জুমার নামাজ আদায়ের জন্য তিনি মাদ্রাসায় যান। সে সময় মুহতামিম আব্দুল হালিম জুমার বয়ানে সরকারের সাম্প্রতিক সম্পত্তি বণ্টন আইন নিয়ে সমালোচনা করেন।

চাঁনের দাবি, তখন তিনি মুহতামিমকে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে রাজনৈতিক বক্তব্য না দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেন। রোববারের উপস্থিতির উদ্দেশ্যও সভাপতির পদ নেওয়া নয়; বরং মাদ্রাসার সামগ্রিক বিষয় নিয়ে একটি সভার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা।

“মাদ্রাসার মধ্যে রাজনীতি করা যাবে না।”

তিনি আরও দাবি করেন, সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে থাকার সময় মাদ্রাসার তহবিলে ৭০ লাখ টাকা রেখে গিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই পরে নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করা হয়েছে। সভাপতি হওয়ার কোনো ইচ্ছা তাঁর নেই বলেও তিনি জানান।

ফয়জুল করীমের প্রতিক্রিয়া

মাদ্রাসার সভাপতি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দেশের আইন, সংবিধান ও নির্ধারিত পদ্ধতি রয়েছে। এসব প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে কেউ মাদ্রাসার বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চাইলে প্রশ্ন উঠবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

“দেশে সংবিধান আছে, পদ্ধতি আছে। এর বাইরে কেউ মাদ্রাসায় হস্তক্ষেপ করতে চাইলে প্রশ্ন দেখা দেবে।”

ফয়জুল করীমের ভাষ্য, একজন ব্যক্তি জোর করে সভাপতির দায়িত্ব নিতে চাইছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুযোগে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দখলের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং পুলিশ কমিশনারকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

“হঠাৎ করে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরে মাদ্রাসা দখল করবে, এটা ঠিক নয়।”

পুলিশের নজরদারি

পরিস্থিতি যাতে সংঘাতের দিকে না যায়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছে। বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন উল ইসলাম বলেন, মাদ্রাসাকে ঘিরে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা ছিল। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছে।

“মাদ্রাসায় এক ধরনের অস্থিরতা হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। আমরা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছি।”

মাদ্রাসার মতো শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিরোধে শান্তিপূর্ণ সমাধান গুরুত্বপূর্ণ। উভয় পক্ষের বক্তব্যে সভাপতির পদ, গঠনতন্ত্র, পূর্বের দায়িত্ব এবং প্রতিষ্ঠানের ভেতরে রাজনৈতিক ভূমিকার প্রশ্ন সামনে এসেছে। এখন এসব বিষয়ে নিয়মতান্ত্রিক আলোচনা ও আইনি কাঠামোর মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে শিক্ষার্থী এবং প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা সহজ হবে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is বর শ ল ম দ র স?

বর শ ল ম দ র স is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does বর শ ল ম দ র স matter?

বর শ ল ম দ র স matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.