বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগিংয়ের দায়ে ৪৮ শিক্ষার্থীকে শাস্তি দিল প্রশাসন
র্যাগিংয়ের ঘটনায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
Patrikajournal.com – বর শ ল ব শ বব দ - বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগিংয়ের অভিযোগে চার বিভাগের ৪৮ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তি নির্ধারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অপরাধের ধরন ও সংশ্লিষ্টতার মাত্রা বিবেচনায় তাঁদের জন্য এক বছর বা ছয় মাসের একাডেমিক বহিষ্কার এবং বিভিন্ন অঙ্কের জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের ২০ সেপ্টেম্বরের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর মঙ্গলবার থেকে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও শিক্ষার্থীদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে সিদ্ধান্তটি জানানো শুরু হয়েছে।
র্যাগিংয়ের অভিযোগে তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চার বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আরও কঠোর হওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. মেহেদী হাসান সোহাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। শাস্তির ক্ষেত্রে তিনটি ধাপ নির্ধারণ করা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুতর পর্যায়ের ক্ষেত্রে এক বছরের একাডেমিক বহিষ্কার অথবা ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ছয় মাসের বহিষ্কার বা ১৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং অন্যদের ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা দেওয়া হয়েছে।
মার্কেটিং বিভাগের ১৯ শিক্ষার্থীর সাজা
মার্কেটিং বিভাগে ১৯ আগস্টের র্যাগিংয়ের ঘটনায় মোট ১৯ জন শিক্ষার্থী শাস্তির আওতায় এসেছেন। সুরাইয়া আক্তার, সৌরভ মালী, মো. মেহেদী হাসান অমি, আজিজুল ইসলাম চয়ন, ঐশী মহন্ত, এস এম সাইফুজ্জামান, মো. খালেদ হোসেন, জান্নাতুল বুশরা জুনি, আলিফ হোসেন নয়ন, নূর নবী, কিশোর কুমার দত্ত, রিফাত হাওলাদার এবং হাসিব শেখকে ছয় মাসের জন্য একাডেমিক বহিষ্কার অথবা ১৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
একই ঘটনায় মো. সবুজ মিয়ার জন্য এক বছরের একাডেমিক বহিষ্কার কিংবা ২০ হাজার টাকা জরিমানার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। আর সাদিয়া বেগম, স্নেহা আক্তার, ফারিয়া শিমুল কলি, দিদারুল ইসলাম ও তাশফিক কবির রাফিকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ১০ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ২২ জুলাইয়ের ঘটনার জেরে ১০ শিক্ষার্থীর সাজা নির্ধারিত হয়েছে। মো. কাজী নাবির, সুমাইয়া আক্তার রিয়া, ইয়ামিন হোসেন, ফারিয়া বিনতে হোসেন ইলমা, মো. ওয়েদুজ্জামান রিফাত, মো. আরিফুল ইসলাম, সাদিয়া ইসলাম ও মো. নাইম ইসলামকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
এ বিভাগের মাহি আনোয়ারকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা অথবা ছয় মাসের একাডেমিক বহিষ্কারের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। মো. রাকিবুল ইসলামের ক্ষেত্রে নির্ধারিত হয়েছে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা এক বছরের একাডেমিক বহিষ্কার।
সিএসই বিভাগে ১৪ শিক্ষার্থী শাস্তির মুখে
কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৯ আগস্টের র্যাগিংয়ের ঘটনায় ১৪ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মো. মাসুম বিল্লাহ ও মুবিনুল ইসলাম নোবেলকে এক বছরের একাডেমিক বহিষ্কার অথবা ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
মো. রবিউল ইসলাম, মো. মইনুল ইসলাম সাকিব, মো. রেজুয়ান আজাদ ওয়াসি ও মো. মাহফুজুর রহমানের জন্য ছয় মাসের বহিষ্কার বা ১৫ হাজার টাকা জরিমানার বিকল্প রাখা হয়েছে। অন্যদিকে মো. মুজাহিদ হাওলাদার, অনিন্দা সাহা অর্ঘ্য, চন্দন মিস্ত্রি, কাউসার হোসেন সৌরভ, সুস্ময় তরুয়া, সাফায়েত ইসলাম শিহাব, অয়ন দাস দ্বীপ ও সিদ্ধার্থ সরকারকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
আইন বিভাগের পাঁচ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত
আইন বিভাগে ১৫ জুলাইয়ের র্যাগিংয়ের ঘটনায় পাঁচজন শিক্ষার্থী দণ্ডিত হয়েছেন। জয়শ্রী রাণী বিশ্বাসকে ছয় মাসের একাডেমিক বহিষ্কার অথবা ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রুবাইয়া সুলতানা রাবা, মো. রিদোয়ান চৌধুরী, মো. মানজারুল হক এবং রেসবুল হাসান আবিরকে এক বছরের একাডেমিক বহিষ্কার অথবা ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা দেওয়া হয়েছে।
চার বিভাগের ঘটনার সময় ও শাস্তির মাত্রা আলাদা হলেও প্রশাসনের সিদ্ধান্তে র্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে একই ধরনের বার্তা উঠে এসেছে। নবীন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণ বা ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ব্যবস্থার আওতায় বিবেচিত হচ্ছে। তদন্ত শেষে শৃঙ্খলা বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের কাছে শাস্তির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় মার্কেটিং বিভাগ থেকে ১৯ জন, সিএসই বিভাগ থেকে ১৪ জন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১০ জন এবং আইন বিভাগ থেকে পাঁচজন শিক্ষার্থী শাস্তির আওতায় পড়েছেন। সব মিলিয়ে সংখ্যা ৪৮। শাস্তির আদেশে বহিষ্কার ও জরিমানাকে বিকল্প হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা প্রতিটি শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে নির্ধারিত শ্রেণি অনুযায়ী প্রযোজ্য হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তের ফল বিবেচনায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে র্যাগিংসংক্রান্ত অভিযোগে আরও কঠোর অবস্থান বজায় রাখা হবে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is বর শ ল ব শ বব দ?বর শ ল ব শ বব দ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does বর শ ল ব শ বব দ matter?বর শ ল ব শ বব দ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.