Patrikajournal
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

বাড়ির আঙিনায় বস্তায় আদা চাষ, লাভের স্বপ্ন ব্রাহ্মণপাড়ার কৃষকদের

Published September 13, 2026 · Updated September 13, 2026 · By Mary Davis - patrikajournal.com

Foto : Mary Davis - patrikajournal.com

ব্রাহ্মণপাড়ায় অল্প জায়গায় বস্তাভর্তি আদা চাষে বাড়ছে আগ্রহ

Patrikajournal.com – ব ড় র আঙ ন য় বস - কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় বাড়ির আঙিনা, ফলবাগানের ছায়াঘেরা অংশ এবং আগে অব্যবহৃত থাকা ছোট ছোট জায়গা এখন আদা চাষের কাজে লাগাচ্ছেন কৃষকেরা। মাটির বড় খেত ছাড়াই বস্তা ও জিও ব্যাগ ব্যবহার করে মসলা ফসল উৎপাদনের এই উদ্যোগ তাঁদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। সীমিত খরচে পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি উদ্বৃত্ত আদা বিক্রি করে বাড়তি অর্থ আয়ের সম্ভাবনাও দেখছেন তাঁরা।

উপজেলার মাধবপুর, মিরপুর, মহালক্ষীপাড়া, বেজুরা, শশীদল, আশাবাড়ি ও চান্দলাসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় এই পদ্ধতিতে চাষ শুরু হয়েছে। অনেক কৃষক-কৃষাণী বাড়ির পাশে ফাঁকা জায়গা কিংবা বাগানের নিচের ছায়াময় স্থানে বস্তা সাজিয়ে আদার পরিচর্যা করছেন। আগে যেসব জায়গায় কোনো ফসল হতো না, সেগুলোই এখন উৎপাদনের আওতায় আসছে।

অল্প বীজে সম্ভাবনাময় ফলন

কৃষি বিভাগের পরামর্শ হলো, উঁচু জমির হালকা আলো-ছায়াযুক্ত পরিবেশ অথবা ফলবাগানের নিচের অংশ আদা চাষের জন্য উপযোগী। এই পদ্ধতিতে বড় আকারের জমি দরকার হয় না। একটি বস্তায় প্রায় ৫০ গ্রাম বীজ লাগিয়ে ২ থেকে ৩ কেজি পর্যন্ত আদা পাওয়া যেতে পারে। ফলে ছোট পরিসরের উদ্যোগও পরিবারের রান্নার মসলার চাহিদা পূরণে সহায়ক হতে পারে। ফলন ভালো হলে অতিরিক্ত অংশ স্থানীয় বাজারে বিক্রির সুযোগও থাকে।

বস্তাভিত্তিক চাষে জমি প্রস্তুতের জটিলতা তুলনামূলক কম। প্রয়োজন অনুযায়ী বস্তা বসানো, সঠিক সময়ে পানি দেওয়া, সার প্রয়োগ এবং রোগ-পোকার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে গাছের পরিচর্যা করা যায়। বাড়ির কাছেই ফসল থাকায় কৃষকেরা নিয়মিত গাছ পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।

প্রথম উদ্যোগেই আশাবাদী কৃষাণীরা

মাধবপুর গ্রামের কৃষাণী আয়শা আক্তার এ বছর প্রথমবারের মতো বস্তায় আদা লাগিয়েছেন। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে তিনি ৫০টি বস্তায় চাষ শুরু করেন। যে জায়গাটি আগে চাষের কাজে ব্যবহার হতো না, সেটিকেই তিনি এখন আদার জন্য কাজে লাগিয়েছেন। গাছের বর্তমান অবস্থা দেখে তিনি আগামী মৌসুমে উদ্যোগ বাড়ানোর কথা ভাবছেন।

“উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে ৫০টি বস্তায় আদা চাষ করেছি। আগে ওই জায়গায় কোনো চাষাবাদ করতাম না। এবার গাছের অবস্থা ভালো। ফলন ভালো হলে লাভবান হওয়ার আশা করছি। লাভ হলে আগামী বছর আরও বেশি বস্তায় আদা চাষ করব।”

মিরপুর গ্রামের শরিফা বেগম মৌসুমি সবজি চাষের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। কৃষি কর্মকর্তাদের উৎসাহে এবার তিনি আদা চাষের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তাঁর বস্তায় লাগানো আদার গাছ দেখে আশপাশের কৃষকদের মাঝেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তাঁর প্রত্যাশা, লাভজনক ফলন পাওয়া গেলে এলাকায় এই চাষের পরিধি আরও বাড়বে।

“বস্তায় আদা চাষ করে ভালো লাভ করা সম্ভব বলে তিনি মনে করছেন। তাঁর আদার বাগান দেখে এলাকার অন্য কৃষকেরাও এ পদ্ধতিতে চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।”

ফলবাগানের নিচেও নতুন ব্যবহার

মহালক্ষীপাড়া গ্রামের কৃষক মো. কুদ্দুছ মিয়া জানান, তাঁর এলাকায় আগে আদা চাষ খুব বেশি দেখা যেত না। কৃষি অফিসের প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে ৫০টি বস্তায় আদা আবাদ করেছেন। বাড়ির ফলবাগানের ছায়াযুক্ত জায়গায় বস্তাগুলো রাখা হয়েছে। প্রতি বস্তার পেছনে তাঁর ব্যয় হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা।

“তাঁদের এলাকায় আগে আদা চাষের তেমন প্রচলন ছিল না। কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রদর্শনী হিসেবে ৫০টি বস্তায় আদা চাষ করেছেন তিনি।”

বাগানের নিচের জায়গা সাধারণত বড় ফসলের জন্য সব সময় ব্যবহার করা যায় না। সেখানে বস্তা স্থাপন করে আদা আবাদ করায় একই জায়গা থেকে অতিরিক্ত উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কৃষকেরা মনে করছেন, জমির বিকল্প ব্যবহার হিসেবে এ পদ্ধতি পারিবারিক পর্যায়ের কৃষিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের সহায়তা

উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোসা. তানিয়া আক্তার বলেন, বস্তায় আদা উৎপাদন তুলনামূলক সহজ এবং ব্যয়ও কম। কৃষকদের বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় উপকরণ দেওয়ার পাশাপাশি মাঠে গিয়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পানি দেওয়ার সময়, সার ব্যবহারের পদ্ধতি এবং রোগ-পোকা দমনের বিষয়ে চাষিদের সরাসরি নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

প্রথমবার এভাবে চাষ করা অনেক কৃষক গাছের বৃদ্ধি দেখে উৎসাহ পাচ্ছেন। পরিচর্যার প্রতিটি ধাপে পরামর্শ পাওয়ায় নতুন পদ্ধতি গ্রহণে তাঁদের আস্থা বেড়েছে। ছোট জায়গার কৃষকের জন্য ফসলের বৈচিত্র্য আনার ক্ষেত্রেও এটি একটি সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আব্দুল মতিন বলেন, ব্রাহ্মণপাড়ায় একসময় আদা আবাদ খুব প্রচলিত ছিল না। মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় চাষিদের বিনা মূল্যে বীজ, সার এবং বস্তা দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে কারিগরি সহায়তাও অব্যাহত রয়েছে।

চলতি বছরে উপজেলায় ৯ হেক্টর জমিতে আদা আবাদ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল। লক্ষ্য অতিক্রম করে ১০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। এ ছাড়া ২৩ জন কৃষককে ৫০টি করে মোট ১ হাজার ১৫০টি জিও ব্যাগে আদা চাষের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণপাড়ার কৃষকদের অভিজ্ঞতায় দেখা যাচ্ছে, পরিত্যক্ত বা অল্প ব্যবহৃত জায়গাকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগালে ঘরোয়া কৃষিতেও আয়ের পথ তৈরি করা সম্ভব। পরিবারের মসলার চাহিদা মেটানো থেকে শুরু করে বাড়তি উৎপাদন বিক্রি—দুই দিকেই সম্ভাবনা থাকায় বস্তায় আদা চাষে নতুন করে যুক্ত হচ্ছেন আরও অনেকে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ব ড় র আঙ ন য় বস?

ব ড় র আঙ ন য় বস is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ব ড় র আঙ ন য় বস matter?

ব ড় র আঙ ন য় বস matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.