Patrikajournal
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

মালিকানাধীন বাড়িতে ডিজে পার্টি ও মাদক সেবন, যে সাফাই দিলেন অতিরিক্ত ডিআইজি

Published October 20, 2026 · Updated October 20, 2026 · By Barbara Hernandez - patrikajournal.com

Foto : Barbara Hernandez - patrikajournal.com

বসুন্ধরার ভাড়া দেওয়া বাড়িতে অভিযানের পর ব্যাখ্যায় অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহির

Patrikajournal.com – ম ল ক ন ধ ন ব - রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি আড়াইতলা বাড়িতে মাদক ও ডিজে পার্টির অভিযোগে ৮৪ জন আটকের ঘটনার পর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহির। তাঁর ভাষ্য, বাড়িটি তিনি ভাড়ার জন্য দিয়েছেন; সেখানে কোনো বেআইনি আয়োজন পরিচালনার অনুমতি বা উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না।

পুলিশ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল জহিরের মালিকানাধীন ওই ভবনে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ অভিযান চালায়। সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া অভিযান মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত চলে। ভবনটি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার পিওএইচএস-১ হাউজিংয়ে একটি পুলিশ ফাঁড়ির কাছেই অবস্থিত। অভিযানে মাদকসহ ৮৪ জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৮ জন তরুণ এবং ২৬ জন তরুণী।

ঘটনার পর আবদুল্লাহ আল জহিরকে ঢাকায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের হেডকোয়ার্টার্স শাখায় সংযুক্ত করা হয়েছে। বাড়িটি স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার ব্যবস্থায় পরিচালিত হতো এবং অনলাইন মার্কেটপ্লেস এয়ারবিএনবির মাধ্যমে কক্ষ বুকিং দেওয়া হতো বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে তরুণ-তরুণীরা অনলাইনে কক্ষ সংরক্ষণ করে সেখানে পার্টিতে অংশ নিতেন বলেও জানানো হয়েছে।

ভাড়া ও আয় বণ্টন নিয়ে তাঁর বক্তব্য

আবদুল্লাহ আল জহির বলেন, ভাড়া দেওয়ার আগে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা এবং স্থান ব্যবহারের শর্তগুলো জানিয়ে দেওয়া হতো। কোন কাজ গ্রহণযোগ্য এবং কোনটি নয়, সে বিষয়ে ভাড়াটিয়াদের অবহিত করার কথা উল্লেখ করেন তিনি। তবে কোনো ব্যক্তি ভাড়া নেওয়ার পর নিয়ম অমান্য করে পার্টির আয়োজন করলে বা মদ্যপানের পর বিভিন্ন সামগ্রী ফেলে গেলে, মালিকের পক্ষে সবকিছু তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সব সময় সম্ভব নয় বলে তাঁর দাবি।

বাড়িটির ভাড়া পরিচালনার কাজে কো-হোস্ট বা ব্যবস্থাপনা-দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছিলেন বলেও জানান তিনি। তাঁর ব্যাখ্যায়, এই দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা খরচ বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থের ৩০ শতাংশ পেতেন। বাকি ৭০ শতাংশ তাঁর প্রাপ্য ছিল ভাড়ার মালিকানা-আয় হিসেবে।

“আমি জায়গা ভাড়া দিই। ব্যবস্থাপনার খরচ বাদে যে অর্থ থাকে, তার ৭০ শতাংশ আমি পাই।”

তাঁর বক্তব্য হলো, ভাড়ার আয় থেকে অংশ পাওয়ার অর্থ কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে লাভ নেওয়া নয়। নিজের বাসা এবং সামনের স্থান ভাড়া দেওয়ার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এটি সাধারণ রেন্ট বা জায়গা ব্যবহারের বিনিময়ে পাওয়া অর্থের ব্যবস্থা।

ডিজে পার্টি ও মাদক সেবনের অভিযোগ

ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, বাড়িটি আবদুল্লাহ আল জহির ভাড়া দিয়েছিলেন এবং সেখানে দীর্ঘদিন মাদক গ্রহণ ও অবৈধ ডিজে পার্টির আয়োজন চলছিল—এমন অভিযোগের ভিত্তিতেই অভিযান হয়। উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার ইলিয়াস কবির জানান, পার্টি থেকে আসা আয়ের ৭০ শতাংশ আবদুল্লাহ আল জহির এবং ৩০ শতাংশ তাঁর কর্মীরা পেতেন।

তবে এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাড়ির মালিকের দায় নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন আবদুল্লাহ আল জহির। তিনি বলেন, ভাড়াটিয়ার প্রতিটি কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সব সময় বাড়িওয়ালার জানা সম্ভব নয়। কোনো ভাড়াটিয়া অপরাধে জড়ালে সেটির দায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পত্তির মালিকের ওপর বর্তায় না বলেও তিনি মনে করেন।

“আমি কাউকে খারাপ কাজের জন্য জায়গা ভাড়া দিইনি।”

তাঁর মতে, ভাড়াটিয়া গোপনে অবৈধ কিছু করলে মালিক তা শুরুতেই জানতে নাও পারেন। কিন্তু বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জায়গা ছাড়তে বলা, ভবিষ্যতে তাকে আর ভাড়া না দেওয়া কিংবা ব্যবস্থাপনায় কড়াকড়ি আরোপের সুযোগ থাকে। বড় বাড়ি বা ফ্ল্যাটের মালিকেরা সচরাচর বেআইনি কাজে ব্যবহারের জন্য সম্পত্তি ভাড়া দেন না বলেও দাবি করেন তিনি।

স্বল্পমেয়াদি ভাড়ায় তদারকির প্রশ্ন

এই ঘটনা স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার ক্ষেত্রে সম্পত্তির ব্যবহার, তদারকি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশ্ন সামনে এনেছে। অনলাইন বুকিংয়ের মাধ্যমে অতিথি বা ব্যবহারকারী নির্বাচন করা হলেও, জায়গাটি ব্যবহারের সময় কী ধরনের কার্যক্রম চলছে তা নজরদারির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে আবাসিক এলাকায় উচ্চ শব্দ, জমায়েত, মাদক বা অন্য কোনো অপরাধের অভিযোগ উঠলে প্রতিবেশী, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়।

আবদুল্লাহ আল জহিরের বক্তব্যে ব্যবস্থাপনা দায়িত্বে থাকা কো-হোস্টের ভূমিকাও উঠে এসেছে। তাঁর দাবি, কো-হোস্ট নিরাপত্তা ও ভাড়াসংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা দেখতেন। ফলে কার দায়িত্ব কতটুকু, ভাড়াটিয়াদের পরিচয় ও কার্যক্রম যাচাইয়ের প্রক্রিয়া কী ছিল এবং ব্যবহারের শর্ত ভঙ্গ হলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হতো—এসব বিষয়ও ঘটনার আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রেও সতর্কতা কামনা করেছেন এই অতিরিক্ত ডিআইজি। তাঁর বক্তব্য, বিকৃত বা অসম্পূর্ণ তথ্য মানুষের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে পুরো ঘটনার বাস্তব চিত্র প্রকাশ করা প্রয়োজন।

“বিকৃত খবর মানুষের জীবন ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে; সত্যতা যাচাই জরুরি।”

অভিযানে আটকদের বিরুদ্ধে কী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং বাড়িটি পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে পরবর্তী তদন্তে কী পাওয়া যায়, তা এই ঘটনার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একই সঙ্গে মালিকের বক্তব্য, ভাড়া ব্যবস্থাপনার কাঠামো এবং অভিযানে পাওয়া তথ্য মিলিয়ে ঘটনার পূর্ণ চিত্র নির্ধারণে তদন্তের অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ম ল ক ন ধ ন ব?

ম ল ক ন ধ ন ব is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ম ল ক ন ধ ন ব matter?

ম ল ক ন ধ ন ব matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.