Patrikajournal
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

মেয়াদ শেষের দুই মাস পরও শুরু হয়নি চার প্রকল্পের কাজ

Published September 3, 2026 · Updated September 3, 2026 · By Michael Martin - patrikajournal.com

Foto : Michael Martin - patrikajournal.com

মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় জামালপুরের চারটি গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্প এখনো মাটি ছোঁয়নি

Patrikajournal.com – ম য় দ শ ষ র দ - জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলায় সরকারি তহবিল থেকে অনুমোদিত চারটি গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পরেও মাঠে কোনো ধরনের নির্মাণকাজ শুরু হয়নি। গত ৩০ জুন এই প্রকল্পগুলোর মেয়াদ প্রত্যাখ্যাত হয়। অর্থাৎ, বরাদ্দের প্রথম কিস্তির অর্থ উত্তোলন সম্পন্ন হওয়ার ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও স্থানীয় জনগণ এখনো কোনো প্রকল্পের সুফল থেকে বঞ্চিত। এই অবস্থার পেছনে প্রশাসনিক অবহেলা, তদারকি কর্মকর্তার বদলি এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের অভ্যন্তরীণ জটিলতা—এই তিনটি কারণ মিলিয়ে একটি দীর্ঘস্থায়ী অবরোধ তৈরি করেছে।

প্রকল্পগুলোর পরিচিতি ও বরাদ্দের ধরন

২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুইটি ভিন্ন কর্মসূচির আওতায় এই চারটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়। একটি হলো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের 'কাবিটা' (কাজের বিনিময়ে টাকা) কর্মসূচি, আরেকটি হলো গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের 'টিআর' (টেস্ট রিলিফ) কর্মসূচি। উভয় কর্মসূচিরই মূল উদ্দেশ্য হলো গ্রামীণ এলাকায় স্থায়ী অবকাঠামো তৈরি করে স্থানীয় জনগণকে কর্মসংস্থান ও সেবা দুই-ই পৌঁছে দেওয়া। তবে অনুমোদনের পর গত ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয়াপ্তাহেই কাজ শুরু করার কথা ছিল। সেই সময় প্রকল্পের সভাপতিদের হাতে প্রথম কিস্তির অর্থ হস্তান্তরও সম্পন্ন করা হয়।

মাঠপর্যায়ের তদারকি দায়িত্ব তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হুসাইনের ওপর ছিল। পরবর্তীতে তিনি পদ বদলির মাধ্যমে অন্যত্র চলে যান। এই বদলির ফলে তদারকির শৃঙ্খলে একটি বড় ফাঁক তৈরি হয়, যা প্রকল্পগুলোর অগ্রগতিতে প্রভাব ফেলে।

মাঠপর্যায়ের বর্তমান অবস্থা

সরেজমিনে যাচাই করে দেখা যায়, পলবান্ধা ইউনিয়নের দক্ষিণ সিরাজাবাদ ডিহিদার কবরস্থানের দক্ষিণ পাশে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের জন্য কাবিটা কর্মসূচির দ্বিতীয়াপ্তাহ থেকে ৩ লাখ ৭ হাজার ১৮৭ টাকা বরাদ্দ করা হয়। একই কবরস্থানের পশ্চিম পাশে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণে টিআর কর্মসূচির দ্বিতীয়াপ্তাহ থেকে আরও ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪০১ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই দুটি প্রকল্পের কোনোটিতেই এখনো ইট-সিমেন্টের ছোঁয়া পড়েনি।

গাইবান্ধা ইউনিয়নের নাপিতেরচর ঈদগাহ সড়ক সিমেন্টকরণের জন্য কাবিটা কর্মসূচির প্রথম পর্যায় থেকে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়। এটিও এখনো অচল। চিনাডুলী ইউনিয়নের পশ্চিম বামনা এলাকায় আব্দুর রশিদ মেম্বারের বাসাবাড়ি থেকে মুনুর বাসাবাড়ির পাশে সড়কে ইউড্রেন নির্মাণে টিআর কর্মসূচির দ্বিতীয়াপ্তাহ থেকে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৩৫৭ টাকা বরাদ্দ করা হয়। এই প্রকল্পও এখনো মাটি ছোঁয়নি।

স্থানীয় নেতাদের বক্তব্য

পলবান্ধা ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান কমল বলেন—

অন্য কাজে ব্যস্ত থাকায় প্রকল্পের কাজ শুরু করতে পারিনি। তবে প্রকল্পস্থানে ইট নেওয়া হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই কাজ শুরু করা হবে।

গাইবান্ধা ইউপির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও প্রকল্পের সভাপতি ইদ্রিস আলী জানান—

প্রকল্পের প্রথম কিস্তির এক লাখ টাকা উত্তোলন করেছি। কাজও শুরু করেছিলাম। কিন্তু কাজের হিসাব নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় কাজ বন্ধ করতে হয়েছে। এখন কাজ শুরু করা হবে।

চিনাডুলী ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুস ছালাম বলছেন—

দুই-এক দিনের মধ্যেই কাজ শুরু করব।

প্রশাসনিক দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, তাঁদের এলাকায় কোথায় এবং কবে প্রকল্প দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে তাঁরা কোনো ধারণা রাখেন না। কাজ কবে শেষ হবে তাও কেউ বলতে পারছেন না। দীর্ঘদিন ধরে কাজ না শুরু হওয়ায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কোনো পদক্ষেপ নেননি বলে অভিযোগ। এমনকি কয়েকটি প্রকল্পের কাজ শুরু না হওয়ার বিষয়েও তিনি অবগত নন বলে জানা গেছে।

বর্তমানে ইসলামপুরে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা বকশীগঞ্জের পিআইও মো. হাবীবুর রহমান সুমন জানান, নাপিতেরচর ঈদগাহ সড়ক সিমেন্টকরণের কাজ দীর্ঘদিনেও শুরু না হওয়ায় প্রকল্পের টাকা ফেরত চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য প্রকল্পের কাজ শুরু না করার বিষয়টি তাঁর জানা নেই, তবে এ বিষয়ে খোঁজখবর নেবেন।

বর্তমান ইউএনও শাহ্ মো. জুবায়ের বলছেন—

এ উপজেলায় আমার যোগদানের আগেই প্রকল্পগুলোর বরাদ্দ ছাড়া দেওয়া হয়েছে। যাঁরা তদারকিতে ছিলেন, বিষয়টি তাঁদেরই খতিয়ে দেখার দায়িত্ব।

এ বিষয়ে তৎকালীন ইউএনও নাজমুল হুসাইনের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

পাঠকের জন্য প্রাসঙ্গিক প্রেক্ষাপট

কাবিটা এবং টিআর কর্মসূচি দুটোই বাংলাদেশ সরকারের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের মূল স্তম্ভ। এগুলোর মাধ্যমে স্থানীয় জনগণকে সরাসরি কাজে নিয়োজিত করে আয় উপার্জন এবং একই সঙ্গে সড়ক, সেতু, ওয়াল, ইউড্রেনের মতো স্থায়ী অবকাঠামো তৈরির লক্ষ্য রাখা হয়। মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও কাজ না হলে তহবিল ফেরত যাবে, স্থানীয় জনগণ কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত হবে, এবং পরবর্তী অর্থবছরে আবার নতুন করে অনুমোদনের অপেক্ষায় বসে থাকতে হবে। এই চক্রবৃহৎ বিলম্ব প্রতিবারই গ্রামীণ উন্নয়নের গতিতে একটি বড় বাধা হিসেবে কাজ করে।

ইসলামপুরের এই চারটি প্রকল্পের মোট বরাদ্দ প্রায় ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা। এই অর্থ এখনো মাঠে পৌঁছায়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য এটি কেবল একটি সংখ্যা নয়—এটি কবরস্থানের নিরাপত্তা, ঈদগাহ সড়কের যাতায়াতের সুবিধা, এবং বর্ষা মৌসুমে পানি জমার সমস্যার সমাধানের অপেক্ষা। মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও প্রশাসনিক জটিলতা দূর না হলে এই অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হবে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ম য় দ শ ষ র দ?

ম য় দ শ ষ র দ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ম য় দ শ ষ র দ matter?

ম য় দ শ ষ র দ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.