Patrikajournal
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

ময়মনসিংহ অঞ্চল: স্বস্তির ট্রেনযাত্রায় এখন ভোগান্তি-মৃত্যুঝুঁকি

Published August 31, 2026 · Updated August 31, 2026 · By Karen Jones - patrikajournal.com

Foto : Karen Jones - patrikajournal.com

ময়মনসিংহ রেলপথে নিয়মিত দুর্ঘটনার ছায়া: যাত্রীর স্বস্তি এখন ভয়

Patrikajournal.com – ময়মনস হ অঞ চল - ঢাকা-ময়মনসিংহ করিডোরের যাত্রীরা এখন টিকিট কাটার আগেই একটা প্রশ্নের মুখোমুখি হন—আজকের ট্রেন কি নিরাপদে পৌঁছাবে? গত কয়েক মাসে এই প্রশ্নের উত্তর যেন আরও ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। লাইনচ্যুতি, ইঞ্জিন বিকল, বগিতে আগুন, সংযোগ বিচ্ছিন্ন—এসব ঘটনা এখন আর বিরল নয়, বরং নিয়মিত অংশ হয়ে গেছে এই রুটের দৈনন্দিন চলাচলের। যাত্রীদের কাছে ট্রেন, যে একসময় স্বস্তি ও নিরাপদ যাত্রার প্রতীক ছিল, এখন গলার কাঁটা হয়ে গেছে।

গত তিন মাসের ভয়ংকর হিসাব

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহ অঞ্চলের রেলপথে গত তিন মাসে পাঁচটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে। একই সময়ে ইঞ্জিন বিকল, আগুন, সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও লাইনচ্যুতিসহ অন্তত ২২টি ভিন্ন ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি রেকর্ড করা হয়েছে। মাসভিত্তিক ইঞ্জিন বিকলের হিসাব দেখলে চিত্র আরও স্পষ্ট হয়—এপ্রিলে ছয়টি, মেতে আটটি এবং জুনে তিনটি ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি মাসে গড়ে ছয়-আটটি ইঞ্জিন ত্রুটি, যা কোনো স্বাভাবিক রেলপথের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।

সর্বশেষ ঘটনা: তিস্তা এক্সপ্রেস আটকে

২৮ আগস্ট সন্ধ্যায় জামালপুর থেকে ঢাকাগামী তিস্তা এক্সপ্রেস ময়মনসিংহ নগরের নতুন বাজার এলাকায় ইঞ্জিন ত্রুটির কারণে থেমে যায়। ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ট্রেনের ইঞ্জিন এতটাইো দুর্বল হয়ে পড়েছে যে সামান্য ত্রুটিতেই পুরো ট্রেন থেমে যায়। পরে বিকল্প ইঞ্জিন যুক্ত করে তিস্তা এক্সপ্রেসকে ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনে আনা হয় এবং রুটে চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ট্রেন লাইনচ্যুত, ইঞ্জিন বিকল, ইঞ্জিনে আগুন—এখন এগুলো নিয়মিত ঘটনা।

এই মন্তব্যই ওসি আক্তার হোসেনের মুখে শোনা যায়, যা রুটের বর্তমান অবস্থার সঠিক প্রতিফলন।

আগস্টের অন্যান্য ঘটনা

২২ আগস্ট সকাল আটটার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা দেওঘাণগঞ্জ কমিউটার গফরগাঁও স্টেশনে পৌঁছালে ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। চালক, পরিচালক ও রেলওয়ের কর্মীরা স্থানেই ত্রুটি মেরামত করেন। ১৫ আগস্ট দুপুরে গফরগাঁও উপজেলায় অগ্নিবীণা এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন বিকল হয়। তবে এক নম্বর লাইন দিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে চলাচল চালু থাকে।

৭ আগস্ট গফরগাঁও স্টেশনের অদূরে জামালপুর কমিউটারের পাঁচটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এই ঘটনায় ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে সাত ঘণ্টা ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। এর আগে ১৬ জুলাই একই রুটে তিন ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি পৃথক লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটে। ১০ জুন ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজ রেলক্রসিং এলাকায় ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেসের পাশের কার লাইনচ্যুত হলে উদ্ধারকারী ট্রেনও লাইনচ্যুত হয়—একটি দুর্ঘটনায় আরেকটি দুর্ঘটনার জন্ম দেওয়ার ভয়ংকর উদাহরণ।

জুনের ভয়ংকর সপ্তাহ

১৫ জুন গফরগাঁওয়ে জামালপুর এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন ও বগির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। একই দিন আঠারোবাড়িতে বিজয় এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনে আগুন লাগে এবং পরে বিকল্প ইঞ্জিনও বিকল হয়। ১৩ জুন ময়মনসিংহ স্টেশনে তিস্তা এক্সপ্রেসের এসি কোচে আগুন লাগে। এক সপ্তাহে তিনটি ভিন্ন ধরনের তীব্র ঘটনা—এটি কোনো স্বাভাবিক রেলপথের জন্য অসম্ভব।

৭০ বছরের পুরোনো অবকাঠামো

দেশের অন্যতম ব্যস্ত ময়মনসিংহ-ঢাকা, জামালপুর, মোহনগঞ্জ, ঝরিয়া, কিশোরগঞ্জ ও চট্টগ্রাম রেলপথের অনেক লাইনই ৭০ বছর বা তারও বেশি পুরোনো। চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল ও জরাজীর্ণ ইঞ্জিনের কারণে লাখো যাত্রীর কাছে রেলযাত্রা এখন স্বস্তির বদলে ভয়ের নাম। রেলপথ বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথের বিভিন্ন স্থানে রেললাইনকে স্লিপারের সঙ্গে সংযুক্ত রাখা ফাস্টেনিং ক্লিপ ভাঙা বা অনুপস্থিত। কোথাও ক্ষয়প্রাপ্ত স্লিপার, দুর্বল বেস প্লেট ও সংযোগস্থল চোখে পড়ে। এসব ত্রুটি দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকলে ট্র্যাকের স্থিতিশীলতা নষ্ট হয় এবং লাইনচ্যুতির ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি পুরোনো ট্র্যাক, দুর্বল ব্যালাস্ট, বসে যাওয়া লাইন এবং সেতুর দুই পাশের মাটি ধসে পড়ার ঘটনাও উদ্বেগজনক।

ইঞ্জিন সংকট ও অপারেশনাল প্রভাব

এই রুটে বর্তমানে ১৮ জোড়া ট্রেন চলাচল করলেও ইঞ্জিন ও কোচ সংকটে কয়েকটি মেইল ও লোকাল ট্রেন বন্ধ রয়েছে। অসংখ্য অবৈধ ও অরক্ষিত রেলক্রসিং, গেটম্যান সংকট এবং দুর্বল সিগন্যালিং ব্যবস্থাও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ময়মনসিংহ লোকোশেডের পরিদর্শক শফিউল হাসান জানান, অনেক পুরোনো ইঞ্জিন পূর্ণাঙ্গ মেরামতের আগেই চলাচলে নামাতে হচ্ছে, ফলে বিকলের ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে।

এই রুটের অধিকাংশ ইঞ্জিন মেয়াদোত্তীর্ণ। নতুন ইঞ্জিন সংযোজনের পাশাপাশি শ্রীপুর থেকে ময়মনসিংহ হয়ে বিদ্যাগঞ্জ, গৌরীপুর, আঠারোবাড়ি, মোহনগঞ্জ ও জরিয়া পর্যন্ত রেলপথ দ্রুত সংস্কার জরুরি। পাথরের ঘাটতির কারণে ট্র্যাক দুর্বল হয়ে পড়েছে।

রেলওয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হাসানের এই মন্তব্য রুটের বর্তমান অবস্থার সঠিক চিত্র তুলে ধরে।

যাত্রীর দাবি ও সামনে কী

বারবার দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও কার্যকর পরিবর্তন না হওয়ার প্রশ্ন উঠেছে। সুপারিশ বাস্তবায়ন নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে। যাত্রীদের দাবি স্পষ্ট—আশ্বাস নয়, ঝুঁকিপূর্ণ ট্র্যাক সংস্কার, ভাঙা ফাস্টেনিং ক্লিপ ও স্লিপার প্রতিস্থাপন, নতুন ইঞ্জিন সংযোজন, আধুনিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা চালু এবং নিয়মিত তদারকের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ রেলপথকে নিরাপদ করা হোক। অন্যথায় আরও বড় দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন হবে। ময়মনসিংহ অঞ্চলের লাখো যাত্রীর নিরাপ

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ময়মনস হ অঞ চল?

ময়মনস হ অঞ চল is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ময়মনস হ অঞ চল matter?

ময়মনস হ অঞ চল matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.