পবা-র শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের মাথায় ঘনঘন মেঘ
Patrikajournal.com – শ শ অপহরণ র চ ষ ট – রাজশাহীর পবা উপজেলায় শিশুদের নিয়ে অপহরণের চেষ্টা ঘটিয়েছে একের পর এক। গত কয়েক সপ্তাহে এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে ছোটবেলার শিশু ও কিশোরদের লক্ষ্য করে এমন ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় মানুষেরা এখন সন্তানদের বাইরে পাঠাতেও সংশয়ে পড়ে। স্কুলের সামনে, বাড়ির আশেপাশের পুকুরের ধারে কিংবা রাস্তার মোড়ে — যেসব জায়গায় আগে নিশ্চিন্তে ঘুরতে পারত শিশুরা, সেসব স্থান এখন অভিভাবকদের চোখের আঙুলে।
রোববারের দুই ঘটনা: পুকুরের ধার ও স্কুলের সামনে
গত রোববার দুপুরের দিকে পবা-র কাটাখালী নওদাপাড়া এলাকার এক শিশু তামিম বাড়ির পাশের পুকুরে গোসল করতে বের হচ্ছিল। হঠাৎ এক সাদা রঙের মাইক্রোবাস থামে। বাস থেকে নেমে আসে কয়েকজন। হাতে ছুরি দেখিয়ে তারা তামিমকে জোর করে তুলে নিতে চায়। ভয়ে শিশুটি দৌড়ে যায় স্থানীয় এক ব্যক্তি ফেনুর কাছে আশ্রয় নিতে। ঘটনার পর অভিভাবক থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
একই দিনে, একই উপজেলার পারিলা উচ্চবিদ্যালয়ের আশেপাশে আরেক ঘটনা ঘটে। ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র মাহির শাহরিয়ার (১১) সকালে বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়ার পথে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তির লক্ষ্যে পরিণত হয়। তারা তাকে তুলে নিয়ে যেতে চায়। মাহিরের বাবা সবুজ ইসলাম এ বিষয়ে অভিযোগ করেন। তিনি জানান, রোববার স্কুলে একটি অনুষ্ঠান ছিল, তাই ছেলেটি সকালেই বের হয়েছিল।
এর আগেও ছিল চেষ্টার ছায়া
তামিমের বাবার বক্তব্য অনুযায়ী, তিন বছর আগে নওদাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংলগ্ন এলাকা থেকেও একবার তাকে তুলে নিতে চাওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ একই শিশুর ওপর দীর্ঘ সময় ধরে লক্ষ্য রাখার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
শুধু রোববারের ঘটনা নয়। সম্প্রতি পারিলা ইউনিয়নের তরথপাড়া গ্রামে আসাদুল্লাহ গালিব নামে এক কিশোরকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে। গালিবের বাবার নাম শফিউর রহমান। আবার পারিলা থেকে মো. আরাফাত নামে এক শিশুকেও তুলে নিতে চাওয়া হয়েছে। আরাফাতের বাবা নীলবর আলী, যার বাসস্থান পার্শ্ববর্তী হরিণান ইউনিয়নের রণহাট এলাকায়। আরাফাত পারিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
প্রশাসনের সাড়া: তদন্ত চলছে, তবে রহস্য অটুট
পবা থানার ওসি আব্দুল মতিন জানিয়েছেন, শিশু অপহরণের চেষ্টার মতো কোনো ঘটনার খবর তাঁর কাছে পৌঁছায়নি। তবে কাটাখালী থানার ওসি মো. নুরুজ্জামান রোববার একটি অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন,
অভিযোগ পেয়েছি। আমরা তদন্ত করছি। বিষয়টি রহস্যজনক।
পারিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদ আলী মুর্শেদ জানান, এসব ঘটনার কথা তিনিও শুনেছেন। সবশেষ সবুজের ছেলে তামিমকে অপহরণের চেষ্টার খবর পেয়ে তিনি গ্রাম পুলিশ সদস্য ও ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্যকে ওই পরিবারের বাড়ি যেতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি নিজেও সেখানে যাবেন বলে জানান।
অভিভাবকদের ভয় ও প্রশ্ন
এলাকার মানুষেরা এখন একটা সাধারণ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন — কারা এই চেষ্টাগুলো করছে? প্রশাসন সূত্র অনুযায়ী এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সঙ্গে ঘটনার সম্পর্ক নিশ্চিত করা যায়নি। মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, ছুরি — এই সরঞ্জামগুলো দেখায় ঘটনাগুলো পরিকল্পিত হতে পারে, তবে কেউ তা নিশ্চিত করেনি।
শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে এলাকায় যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা কেবল একদিনের নয়। স্কুলে যাওয়া-আসার পথ, পুকুরের ধার, খেলার মাঠ — এই জায়গাগুলো এখন অভিভাবকদের জন্য উদ্বেগের কেন্দ্র। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সন্তানদের একা বাইরে পাঠানো এখন আর আগের মতো সহজ নয়। প্রতিবেশীদের মধ্যে সতর্কতার সতর্কতা ছড়িয়ে পড়েছে; কেউ স্কুলের সামনে অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন, কেউ পুকুরের ধারে শিশুদের চোখ রাখছেন।
তদন্তের ফলাফল আসার আগ পর্যন্ত পবা-র শিশুরা ও তাদের পরিবারেরা অপেক্ষায় থাকবেন। প্রশ্নগুলো — কে, কেন, কীভাবে — এখনো উত্তরহীন।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is শ শ অপহরণ র চ ষ ট?
শ শ অপহরণ র চ ষ ট is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does শ শ অপহরণ র চ ষ ট matter?
শ শ অপহরণ র চ ষ ট matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

