Patrikajournal
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

সাতক্ষীরা-ভেটখালী: বিদ্যুতের খুঁটিতে শ্লথ মহাসড়কের কাজ

Published September 17, 2026 · Updated September 17, 2026 · By Michael Martin - patrikajournal.com

Foto : Michael Martin - patrikajournal.com

সাতক্ষীরা-ভেটখালী সড়ক সম্প্রসারণে খুঁটি সরানোই বড় বাধা

Patrikajournal.com – স তক ষ র ভ টখ ল - সাতক্ষীরা সদর থেকে শ্যামনগরের সুন্দরবনসংলগ্ন ভেটখালী পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণের কাজ এগোচ্ছে ধীর গতিতে। ৬২ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের দুই পাশে থাকা বিপুলসংখ্যক বিদ্যুতের খুঁটি এখনও স্থানান্তর না হওয়ায় অনেক অংশে মূল নির্মাণকাজ আটকে আছে। ফলে একসঙ্গে দুই ধরনের সংকটে পড়েছেন পথচারী, যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা—দীর্ঘদিনের সড়ক দুর্ভোগের পাশাপাশি খুঁটি স্থানান্তরের সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার ভোগান্তিও বাড়ছে।

প্রকল্পটির আওতায় আগে ২৪ ফুট চওড়া থাকা মহাসড়কটি ৩৪ ফুটে উন্নীত করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ১০ ফুট জায়গার মধ্যেই পড়েছে প্রায় ১ হাজার ২০০টি বিদ্যুতের খুঁটি। এসব খুঁটি সরিয়ে সড়কের সম্প্রসারিত প্রান্তে পুনঃস্থাপনের কাজ সম্পন্ন না হলে প্রশস্তকরণের অনেক ধাপ এগোনো সম্ভব হচ্ছে না।

অর্ধেকের কিছু বেশি খুঁটি সরেছে

চলতি বছরের জুনের মধ্যে সব খুঁটি স্থানান্তর শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত কাজ হয়েছে মাত্র ৫৫ শতাংশ। অর্থাৎ, অর্ধেকের কিছু বেশি কাজ শেষ হলেও বড় একটি অংশ এখনও বাকি রয়েছে। খুঁটি অপসারণ ও পুনঃস্থাপনের জন্য ১১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গত বছরের জুলাইয়ে ছয়জন ঠিকাদারকে এই দায়িত্ব দেয়। নির্ধারিত সময় ছিল চলতি বছরের জুন পর্যন্ত। কিন্তু কাজ শেষ না হওয়ায় সড়ক সম্প্রসারণের সামগ্রিক অগ্রগতিও ব্যাহত হচ্ছে। সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপথ বিভাগ মনে করছে, পল্লী বিদ্যুতের নিয়োজিত ঠিকাদারদের ধীরগতিই এ জটিলতার প্রধান কারণ।

সাতক্ষীরা সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার পারভেজ বলেন, ২০২৪ সালের এপ্রিলে প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া হয়। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কাছ থেকে চূড়ান্ত ইউটিলিটি বিল পাওয়ার জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করা হলেও চূড়ান্ত প্রাক্কলন পেতে এক বছরেরও বেশি সময় লেগেছে। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করে অনুমোদন নিতে আরও সময় যায়। পরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে ১১ কোটি টাকা দেওয়া হয়।

“পল্লী বিদ্যুতের নিয়োগ করা ঠিকাদার কাজ করতে গড়িমসি করছেন। বারবার যোগাযোগ করেও তাঁদের কাছ থেকে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। খুঁটি না সরালে রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ করা যাচ্ছে না।”

নির্মাণস্থলে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল

দেবহাটার গাজীরহাট এলাকায় সড়ক নির্মাণের বাস্তব চিত্রে ভোগান্তির বিষয়টি স্পষ্ট। সেখানে কালভার্ট নির্মাণের প্রয়োজনে রাস্তার অংশ খোঁড়া হয়েছে। যান চলাচল সচল রাখতে তৈরি করা হয়েছে বিকল্প পথ। তবে নির্মাণাধীন মহাসড়কের প্রায় মাঝামাঝি জায়গায় বিদ্যুতের খুঁটি থাকায় বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনকে ঝুঁকি নিয়ে এক পাশ দিয়ে চলতে হচ্ছে। অপর পাশে জমছে দীর্ঘ যানজট।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে সড়ক ব্যবহারকারীদের যাত্রাসময় বাড়ছে এবং বড় যানবাহন চলাচলের সময় চাপ তৈরি হচ্ছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিদ্যুতের খুঁটি দ্রুত সরলে ঠিকাদারেরা পুরো প্রস্থজুড়ে কাজ করতে পারবেন এবং সাময়িক বিকল্প পথের ওপর নির্ভরতা কমবে।

গাজীরহাটের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন,

“সড়কের লোকজনের কাছে জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি না সরানোর কারণে তাঁরা কাজ করতে পারছেন না। আমরা চাই দ্রুত কাজ শেষ হোক।”

বিদ্যুৎ বন্ধ থাকায় বাড়ছে কষ্ট

খুঁটি সরানোর কাজেও রয়েছে বাস্তব সীমাবদ্ধতা। বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রেখে কাজ করা সম্ভব না হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় লাইন বন্ধ রাখতে হয়। এতে দিনের বড় সময় বিদ্যুৎ না থাকলে বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। ব্যবসা, ঘরের কাজ এবং বিদ্যুৎনির্ভর দৈনন্দিন কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়ে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

কালীগঞ্জের মৌতলার বাসিন্দা মো. রহমতুল্লাহ বলেন,

“খুঁটি সরানোর অজুহাতে সারা দিন বিদ্যুতের শাটডাউন থাকে। দুর্ভোগের শেষ নেই।”

খুঁটি সরানোর দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার শাহবাজ খান বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ না করলে নিরাপদে কাজ করা যায় না। তবে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বন্ধ থাকলে মানুষের কষ্ট বাড়ে—এ বিষয়টিও তাঁরা বিবেচনায় রাখছেন। তাঁর ভাষ্য, কিছু এলাকায় কাজ শেষ হয়েছে এবং সেপ্টেম্বরের মধ্যেই পুরো কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।

“বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রাখা ছাড়া কাজ করা যায় না। কিন্তু সারা দিন বিদ্যুৎ বন্ধ রাখলে মানুষের ভোগান্তি বাড়ে। তবু আমরা কাজ করছি। কিছু এলাকায় কাজ শেষ হয়েছে। আশা করছি, সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারব।”

প্রকল্পের সময়সীমা বেড়েছে ২০২৭ সাল পর্যন্ত

৮২২ কোটি টাকা ব্যয়ের এই সড়ক উন্নয়নকাজ পাঁচটি প্যাকেজে ভাগ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্যাকেজগুলোর কার্যাদেশ দেওয়া হয়। প্রকল্পটি চলতি বছরের জুনে শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় সময় বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা সদর থেকে ভেটখালী পর্যন্ত এই পথটি শ্যামনগর উপজেলার দিকে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সংযোগ। সড়কটির প্রস্থ বাড়লে যানবাহন চলাচলের জায়গা বাড়বে, তবে তার আগে বিদ্যুতের অবকাঠামো স্থানান্তরের কাজ শেষ হওয়া জরুরি। নির্মাণকাজ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ—দুই ব্যবস্থার সমন্বয় না হলে স্থানীয়দের বর্তমান দুর্ভোগ আরও দীর্ঘ হতে পারে।

সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম আজিজুর রহমান জানিয়েছেন, খুঁটি সরানোর কাজে সবারই তাগিদ রয়েছে এবং ৫৫ শতাংশের বেশি অগ্রগতি হয়েছে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করা না গেলেও অক্টোবরের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা করছেন।

“প্রত্যেকের তাড়া রয়েছে বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর। আমাদের ৫৫ ভাগের বেশি কাজ হয়ে গেছে। আশা করছি, সেপ্টেম্বরে কাজ শেষ না করতে পারলেও অক্টোবরের মধ্যে শেষ করা যাবে।”

এখন স্থানীয় মানুষের নজর খুঁটি স্থানান্তরের বাকি কাজের দিকে। কারণ, বিদ্যুৎ অবকাঠামো সরানোর গতি বাড়লেই মহাসড়কের আটকে থাকা অংশগুলোতে নির্মাণকাজ পূর্ণমাত্রায় এগোনোর সুযোগ তৈরি হবে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is স তক ষ র ভ টখ ল?

স তক ষ র ভ টখ ল is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does স তক ষ র ভ টখ ল matter?

স তক ষ র ভ টখ ল matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.