Patrikajournal
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

সেই ১০ শ্রমিকের স্বজনদের কান্না এখনো থামেনি

Published September 14, 2026 · Updated September 14, 2026 · By Betty Rodriguez - patrikajournal.com

Foto : Betty Rodriguez - patrikajournal.com

সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙা কারখানায় প্রাণহানির এক মাস, শোক ও অনিশ্চয়তায় পরিবারগুলো

Patrikajournal.com – স ই ১০ শ রম ক র - চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী উপকূলে জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে ১০ শ্রমিকের মৃত্যুর এক মাস পেরিয়েছে। সময় গড়ালেও নিহতদের স্বজনদের জীবনে স্বাভাবিকতা ফেরেনি। সন্তান, স্বামী ও পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য হারানোর বেদনার সঙ্গে এখন তাদের লড়তে হচ্ছে ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে।

দুর্ঘটনাস্থল ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ড এখনো বন্ধ রয়েছে। পরিবেশের ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা নবায়ন না হওয়ায় কারখানাটির কার্যক্রম চালু করা হয়নি। এতে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর শোকের পাশাপাশি কর্মহীন হয়ে পড়া তিন শতাধিক শ্রমিকের পরিবারেও দেখা দিয়েছে নতুন সংকট।

ছেলের স্বপ্ন থেমে গেল মায়ের চোখের জলে

নিহত সানি জলদাসের বয়স ছিল ২০ বছর। তিনি সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোডসংলগ্ন মির্জানগর জেলেপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর মা আশোকী জলদাস এখনো ছেলের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। নিজের কোনো বসতভিটা নেই তাঁদের। স্বামী মারা যাওয়ার ১১ বছর পর থেকে দুই ছেলে চন্দন ও সানিকে নিয়ে কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সংসার চালিয়েছেন তিনি।

আশোকী জলদাস গার্মেন্টসে কাজ করে পরিবারকে টিকিয়ে রেখেছিলেন। বড় ছেলে চন্দনও গার্মেন্টসকর্মী। সংসারের আর্থিক চাপ কমাতে সানি জাহাজভাঙা কারখানায় শ্রমিকের কাজ নেন। পরিবারের জন্য কিছু করার ইচ্ছা ছিল তাঁর প্রবল।

ছেলে বলত, অল্প সময়ের মধ্যে জমি কিনে নিজেদের একটি বাড়ি করবে। সেই আশা পূরণ হওয়ার আগেই তাকে হারাতে হলো।

একটি ছোট্ট ঘর ও নিজের জমির স্বপ্ন ছিল যে তরুণের, তাঁর মৃত্যুতে সেই স্বপ্নের জায়গা নিয়েছে শূন্যতা। আশোকী জলদাসের কাছে ক্ষতি শুধু একজন সন্তানের মৃত্যু নয়; এটি দীর্ঘদিনের সংগ্রামে গড়া পরিবারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ভেঙে পড়ার ঘটনা।

অনাগত সন্তানকে নিয়ে ভৌমিকার অপেক্ষা

একই জেলেপাড়ার আরেক নিহত শ্রমিক পলাশ জলদাসের পরিবারের গল্প আরও করুণ। তাঁর স্ত্রী ভৌমিকা জলদাস এখন নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আগামী মাসে তাঁদের সন্তানের জন্ম হওয়ার কথা। অথচ সন্তান পৃথিবীতে আসার আগেই হারিয়েছে বাবাকে।

পলাশ ও ভৌমিকার বিয়ে হয়েছিল ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর। ভূমিহীন পলাশ মামাদের ঘরেই স্ত্রীকে নিয়ে সংসার শুরু করেছিলেন। মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। কিন্তু কয়েক বছর ধরে প্রত্যাশিত মাছ না পাওয়ায় আয় কমে যায়। সংসার চালানোর প্রয়োজনেই চলতি বছর তিনি জাহাজভাঙা কারখানার কাজে যুক্ত হন।

দুর্ঘটনার দিন সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার আগে স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর শেষ কথা ছিল খুব সাধারণ, কিন্তু আজ তা ভৌমিকার কাছে অসহনীয় স্মৃতি হয়ে আছে।

আমি কাজে যাচ্ছি, সাবধানে থেকো।

সেদিনের পর আর ঘরে ফেরেননি পলাশ। সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে, কী নাম রাখা হবে, কীভাবে তাকে মানুষ করা হবে—এসব নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর প্রতিদিন কথা হতো। এখন সেই সব আলোচনার জায়গায় জমেছে দুশ্চিন্তা। স্বামী ছাড়া সন্তানকে বড় করা এবং দৈনন্দিন ব্যয় মেটানো—দুই প্রশ্নই তাঁকে প্রতিনিয়ত ভাবিয়ে তুলছে।

পরিবারটি যে ক্ষতিপূরণের অর্থ পেয়েছে, তার বড় একটি অংশ পলাশের শেষকৃত্য সম্পন্ন করতেই ব্যয় হয়ে গেছে। ফলে অনাগত শিশুকে নিয়ে সামনে কীভাবে চলবেন, তার কোনো স্পষ্ট উত্তর এখন ভৌমিকার কাছে নেই।

অর্থ সহায়তা আছে, কিন্তু শূন্যতার বিকল্প নেই

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, কোনো আর্থিক সহায়তাই মানুষের জীবনের সমমূল্য হতে পারে না। তবে পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য হারানোর পর স্বজনরা যাতে সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে না পড়েন, সে জন্য দ্রুত অর্থ সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আহত শ্রমিকদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্যও কারখানা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ক্ষতিপূরণ তাৎক্ষণিক ব্যয়ের চাপ কিছুটা কমাতে পারে, কিন্তু পরিবারের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না। সানির মায়ের ক্ষেত্রে যেমন নিজের ঘর করার স্বপ্ন ভেঙেছে, তেমনি পলাশের স্ত্রীর সামনে রয়েছে নবজাতককে নিয়ে নতুন জীবনের কঠিন হিসাব। শ্রমিকের মৃত্যু একটি পরিবার থেকে শুধু একজন মানুষকে কেড়ে নেয় না; সঙ্গে হারিয়ে যায় আয়, পরিকল্পনা, ভরসা ও বহু বছরের স্বপ্ন।

বন্ধ কারখানা, বিপাকে শতাধিক শ্রমিক

দুর্ঘটনার পর থেকে ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের কাজ বন্ধ রয়েছে। পরিবেশের ছাড়পত্রের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর নবায়ন না হওয়ায় কারখানাটি চালু করা যায়নি। এক মাস অতিক্রম করলেও সেখানে উৎপাদন বা শ্রমিকদের কাজ ফেরেনি।

কারখানা বন্ধ থাকায় তিন শতাধিক শ্রমিক কর্মহীন অবস্থায় রয়েছেন। দৈনিক বা নিয়মিত কাজের আয়ের ওপর নির্ভরশীল শ্রমিকদের জন্য দীর্ঘ বিরতি দ্রুত পারিবারিক চাপে রূপ নেয়। বাজার খরচ, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও সন্তানদের প্রয়োজন মেটানো তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে।

ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের ম্যানেজার মো. ইউসুফ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির সব কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে কর্তৃপক্ষ।

কারখানা কবে চালু হবে, শ্রমিকেরা কবে কাজে ফিরবেন এবং নিহতদের পরিবারগুলো কীভাবে দীর্ঘমেয়াদে সহায়তা পাবে—এসব প্রশ্ন এখনো অনিশ্চিত। তবে মির্জানগর জেলেপাড়ার কয়েকটি ঘরে সময় যেন থমকে আছে। সেখানে এক মা ছেলের অসমাপ্ত স্বপ্ন আঁকড়ে আছেন, আর এক তরুণী মা অনাগত শিশুর মুখের দিকে তাকিয়ে বাবাহীন ভবিষ্যতের কথা ভাবছেন।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is স ই ১০ শ রম ক র?

স ই ১০ শ রম ক র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does স ই ১০ শ রম ক র matter?

স ই ১০ শ রম ক র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.