Bangladesh

স্বচ্ছতার জন্যই সাংবাদিকদের কোর্টরুমে অনুমতি দেওয়া উচিত : বার সভাপতি

Untitled-11_5TnVZHY

বিচারের আলোয় রাখতে চান সাংবাদিকদের উপস্থিতি: বার সভাপতির স্পষ্ট বক্তব্য

Patrikajournal.com – স বচ ছত র জন যই স – বিচার বিভাগের কার্যক্রমকে জনগণের দৃষ্টিতে রাখা কি না রাখা — এই প্রশ্নটি বাংলাদেশের আইনজীবী মহলে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার বিষয়। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন সম্প্রতি এই বিতর্কে একটি সুস্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেছেন। তার মতে, বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সাংবাদিক ও বিচারপ্রার্থীদের একটি নির্দিষ্ট নিয়মাবলীর আওতায় আদালত কক্ষে প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বিচারিক স্বচ্ছতা ও গণস্বার্থের পক্ষে একটি নীতিগত দলিল উপস্থাপন করেছেন, যা বাংলাদেশের সংবিধানের খোলা আদালত নীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত।

মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেল: প্রশ্নোত্তর ও ব্যাখ্যা

মঙ্গলবার সাংবাদিকদের একটি প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে বার সভাপতি এই মন্তব্য করেন। এর ঠিক আগে তিনি প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের সকল বিচারপতির একযোগে এজলাস ছেড়ে যাওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে ব্যাখ্যা প্রদান করেন। সেই ব্যাখ্যার পরই সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আদালত কক্ষে গণমাধ্যমের উপস্থিতি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন।

স্বচ্ছতার জন্যই সাংবাদিক ও বিচারপ্রার্থীদের একটা রুলসের মাধ্যমে কোর্ট রুমে পারমিশন দেওয়া উচিত। এতে কোর্ট রুমে কি হচ্ছে বিচারপ্রার্থী জানতে পারবেন, জাতি জানতে পারবে।

এই বক্তব্যের মূল সারমর্ম হলো — বিচারিক কার্যক্রমের প্রতিটি মুহূর্ত নাগরিকের জ্ঞানের অধিকারের আওতায় থাকা উচিত, তবে সেই প্রবেশ একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংঘটিত হতে হবে। অর্থাৎ তিনি সম্পূর্ণ উন্মুক্ততা নয়, বরং নিয়ন্ত্রিত ও নিয়মাবদ্ধ প্রবেশের পক্ষে।

খোলা আদালত নীতি: সংবিধানিক ভিত্তি ও বাস্তব প্রয়োগ

বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪২ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কোনো বিচারক যেন বিচারের ফলাফল বা বিচারকদের মতামত সম্পর্কে কোনো ব্যক্তির কাছে তথ্য প্রকাশ করেন না — তবে এই ধারা খোলা আদালত নীতিকেও প্রতিফলিত করে। বিচারিক স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা এই দুই নীতি পরস্পর সম্পূরক, বিরোধী নয়। ব্যারিস্টার খোকন এই দৃষ্টিভঙ্গিই তুলে ধরেছেন।

আমাদের প্রত্যেকটা কোর্টে ওপেন ট্রায়াল। ওপেন ট্রায়ালে যে কোনো লোক পারমিশন নিয়ে ঢুকতে পারে। আমি মনে করি, এখানে গোপনীয়তার কিছু নেই।

তিনি আরও স্পষ্টভাবে বলেছেন, সাংবাদিকদের আদালত প্রবেশে বাধা দেওয়ার পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি নয়। নিজের ব্যক্তিগত বিশ্বাসও তিনি এই দিকেই রেখেছেন। তার যুক্তি হলো — যদি খোলা বিচারের নীতিই প্রযোজ্য হয়, তবে গণমাধ্যমকে বাদ দেওয়ার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই।

সাংবাদিকেরা কেন কোর্ট ঢুকবে না, নিউজ নেবে না — এটার পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট বার না। আমি নিজেও এটা বিশ্বাস করি না। কারণ, স্বচ্ছতার জন্যই রুলসের মাধ্যমে কোর্ট রুমে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া উচিত।

প্রেক্ষাপট: কেন এই বিতর্ক এখন প্রাসঙ্গিক

বাংলাদেশে বিচারিক কার্যক্রমের প্রতিসাময়িক প্রবেশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অস্পষ্টতা বিরাজ করেছে। কিছু আদালতে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়, আবার কিছু ক্ষেত্রে তারা স্বাভাবিকভাবে উপস্থিত থাকেন। এই অনিয়মিত পরিস্থিতিতে একটি সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলীর অভাবই বারবার প্রশ্ন তুলে। বার সভাপতির এই বক্তব্য সেই নিয়মগত কাঠামো তৈরির দাবিকে পুনরায় সামনে আনে।

বিচারিক স্বচ্ছতার প্রয়োজনীয়তা কেবল সাংবাদিকদের জন্য নয়। বিচারপ্রার্থী — অর্থাৎ মামলার পক্ষ —ও জানতে চান তাদের মামলার অগ্রগতি, আদালতের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট, এবং বিচারিক কার্যক্রমের স্বাভাবিক প্রবাহ। জনগণের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিচার বিভাগের কার্যক্রম নাগরিকের অধিকার রক্ষার সর্বশেষ আশ্রয়। সেই আশ্রয়ের কার্যকারিতা যাচাই করার একমাত্র উপায় হলো সেই কার্যক্রমকে দৃশ্যমান রাখা।

প্রভাব ও সামনে-দৃষ্টি

বার সভাপতির এই অবস্থান যদি আইনজীবী মহলের বৃহত্তর সম্মতি পায়, তবে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি একটি নির্দিষ্ট প্রবেশ-নিয়ম প্রণয়নের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে। সেই নিয়মে থাকতে পারে: প্রবেশের জন্য পূর্ব-অনুমোদন, পরিচয়পত্র যাচাই, কক্ষের ভেতরে আচরণবিধি, এবং গোপন মামলার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। এতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বিচারিক গোপনীয়তা ও পক্ষপক্ষীদের ব্যক্তিগত অধিকারও সংরক্ষিত থাকবে।

বিচারিক স্বচ্ছতা কেবল একটি নৈতিক আদর্শ নয় — এটি একটি কার্যকরী প্রয়োজন। যখন বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ জনগণের দৃষ্টিতে থাকে, তখন বিচারকের সিদ্ধান্তে জনবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়, বিচারপ্রার্থীর অধিকার রক্ষা পায়, এবং গণমাধ্যম তার তদারকি ভূমিকা পালন করতে পারে। বার সভাপতির এই বক্তব্য সেই দিকের একটি সুস্পষ্ট নীতিগত দলিল, যা বাংলাদেশের বিচারিক স্বচ্ছতা আন্দোলনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করতে পারে।

Frequently Asked Questions

What is স বচ ছত র জন যই স?

স বচ ছত র জন যই স is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does স বচ ছত র জন যই স matter?

স বচ ছত র জন যই স matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *