Patrikajournal
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাট: ভাঙতে ভাঙতে মেঘনা এগোচ্ছে মূল বাজারে

Published October 9, 2026 · Updated October 9, 2026 · By Michael Martin - patrikajournal.com

Foto : Michael Martin - patrikajournal.com

মেঘনার ভাঙনে ঝুঁকিতে হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটের মাছের বাজার

Patrikajournal.com – হ ত য় র চ য় রম - নোয়াখালীর হাতিয়ার হরনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ঘাটে মেঘনা নদীর ভাঙন এখন মূল বাজারের দিকে চলে এসেছে। দক্ষিণাঞ্চলের বড় মাছের আড়ত হিসেবে পরিচিত এই ঘাটের একটি অংশ ইতিমধ্যে নদীতে ধসে গেছে। তীব্র ঢেউয়ে বাজারসংলগ্ন জায়গাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, ফলে দোকানপাট, ঘরবাড়ি ও জীবিকার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন জেলে, শ্রমিক এবং ব্যবসায়ীরা।

হরনী ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত চেয়ারম্যান ঘাট প্রায় দুই দশক ধরে মাছের বেচাকেনার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সাগর মোহনার কাছাকাছি অবস্থান এবং সড়ক যোগাযোগের সুবিধার কারণে এখানে নিয়মিত বিপুল পরিমাণ মাছ আসে। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিদিন ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৫ হাজার মাছধরা ট্রলার এই ঘাটে আসা-যাওয়া করে।

মৌসুমে কোটি টাকার মাছের বেচাকেনা

মাছের ভরা মৌসুমে গভীর সমুদ্র থেকে শতাধিক বড় ট্রলার মাছ নিয়ে চেয়ারম্যান ঘাটে ভেড়ে। এ সময় দৈনিক প্রায় ৫০ কোটি টাকার মাছ কেনাবেচা হয় বলে ব্যবসায়ীরা জানান। বর্ষাকালে ভোলা, বরিশাল ও চাঁদপুরের জেলেরাও এখানে মাছ নিয়ে আসেন। তাদের উপস্থিতিতে ঘাটের কর্মচাঞ্চল্য আরও বেড়ে যায়।

ঢাকা, চট্টগ্রাম ও চাঁদপুরের বড় পাইকারেরা এই বাজার থেকে মাছ সংগ্রহ করেন। মাছ নামানো, বাছাই, বরফ দেওয়া, পরিবহন ও পাইকারি বিক্রিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বিস্তৃত কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র। ঘাটকে কেন্দ্র করে সহস্রাধিক পাকা ও আধাপাকা দোকান গড়ে উঠেছে। সেখানে মাছের আড়ত ছাড়াও খাবারের দোকান, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের দোকান এবং নানা ধরনের সেবামূলক কার্যক্রম রয়েছে।

এ এলাকায় পুলিশ ফাঁড়ি ও আইস কারখানার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও রয়েছে। পাশাপাশি ফেরিঘাট এবং সি-ট্রাক ঘাট থাকায় এটি শুধু মাছের বাজার নয়, যাতায়াত ও স্থানীয় বাণিজ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ফেরিঘাট ঘিরে যাত্রীছাউনিসহ বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরি হয়েছে, যেগুলো এখন নদীভাঙনের হুমকিতে পড়েছে।

গত বছরের ক্ষতির পর আরও কাছে নদী

গত বছর প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে চেয়ারম্যান ঘাটের একটি অংশ মেঘনায় বিলীন হয়। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে মূল ঘাটের ১০ থেকে ১৫টি দোকান সরিয়ে নিতে হয়েছে। এখন ভাঙন বাজারের দক্ষিণ প্রান্তে পৌঁছেছে। মাছ বিক্রির জন্য বাজারের পাশে নৌকা নোঙর করলে ঢেউয়ের চাপে সেগুলো তীব্রভাবে দুলতে থাকে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

সাদিয়া ফিশ এজেন্সির পরিচালক মো. বাবু বলেন, নদী ধীরে ধীরে বাজারের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। গত বছর বাজারের প্রধান শেডের একাংশ ভেঙে পড়ার পর কয়েকটি মাছের গদি অন্যত্র স্থানান্তর করতে হয়। নতুন করে ভাঙন অব্যাহত থাকলে আরও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সরাতে হতে পারে।

“ভাঙতে ভাঙতে এখন বাজারের একেবারে দক্ষিণ পাশে চলে এসেছে নদী। নৌকাগুলো মাছ বিক্রির জন্য বাজারের কাছে নোঙর করলে ঢেউয়ের তোড়ে প্রচণ্ড দুলতে থাকে।” — মো. বাবু

ঘাটের প্রবীণ মাছ ব্যবসায়ী আকবর হোসেনের আশঙ্কা, ভাঙন বাড়লে শুধু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নয়, ঘাটের ওপর নির্ভরশীল বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবনও অনিশ্চয়তায় পড়বে। মাছ ধরার ট্রলার, শ্রমিক, আড়তদার, পরিবহনকর্মী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয়ের সঙ্গে এই কেন্দ্রের সম্পর্ক রয়েছে।

“প্রতিদিন অসংখ্য ট্রলার এই ঘাটে আসে ও যায়। দোকানপাট, পুলিশ ফাঁড়ি, আইস কারখানাসহ অনেক স্থাপনা আছে এখানে। নদীভাঙন নিয়ে জেলে, শ্রমিক ও ব্যবসায়ী—সবার মধ্যেই আতঙ্ক কাজ করছে।” — আকবর হোসেন

বসতভিটা ও কর্মসংস্থান হারানোর শঙ্কা

মাছঘাটের চায়ের দোকানদার নুর উদ্দিনের পরিবারও এই ভাঙনের আশঙ্কার মধ্যে রয়েছে। বয়সের কারণে তিনি চায়ের দোকান চালান, আর তাঁর তিন ছেলে ঘাটে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। ঘাটের পূর্ব পাশে বেড়ির ঢালে তাঁদের বসবাস। ঘাট ও আশপাশের এলাকা নদীতে চলে গেলে দোকান, বাড়ি এবং পরিবারের কর্মসংস্থানের পথ—সবকিছুই হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে।

চেয়ারম্যান ঘাট মাছ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সাহেদ উদ্দিন জানান, ভাঙন ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। তাঁর মতে, চলতি বছর কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা না হলে ভবিষ্যতে ওই স্থানে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। ঘাটটি থেকে সরকার প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব পায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

“এ বছর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে এখানে ব্যবসা করা সম্ভব হবে না। মাছঘাট, ফেরিঘাট ও সি-ট্রাক ঘাটের বিভিন্ন স্থাপনাই এখন ঝুঁকিতে।” — সাহেদ উদ্দিন

স্থায়ী বাঁধের প্রকল্পের কথা জানাল পানি উন্নয়ন বোর্ড

নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জামিল আহমেদ পাটোয়ারী জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে জরুরি ব্যবস্থার অংশ হিসেবে জিও ব্যাগ ফেলে কিছু এলাকায় ভাঙন কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এতে সাময়িকভাবে কিছুটা সুরক্ষা মিললেও স্থায়ী সমাধানের প্রয়োজন রয়ে গেছে।

ঘাট রক্ষায় ব্লক বাঁধ নির্মাণের একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে দীর্ঘদিনের এই মাছের বাজার, যাতায়াতকেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে নদীভাঙনের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চেয়ারম্যান ঘাটের বর্তমান পরিস্থিতি তাই শুধু কয়েকটি দোকান বা স্থাপনার ক্ষতির প্রশ্ন নয়। এটি একটি বড় মৎস্যবাণিজ্য কেন্দ্র, বহু মানুষের প্রতিদিনের কাজ এবং দ্বীপাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত। বর্ষা ও ঢেউয়ের মৌসুমে ভাঙন আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয়দের প্রত্যাশা, স্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজ দ্রুত শুরু হবে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is হ ত য় র চ য় রম?

হ ত য় র চ য় রম is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does হ ত য় র চ য় রম matter?

হ ত য় র চ য় রম matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.