Patrikajournal
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

৪২ লাখ টাকার দোকান নিয়ে মামলা: কারাগারে হাজীগঞ্জ বড় মসজিদের মোতাওয়াল্লি ও তাঁর বাবা

Published October 19, 2026 · Updated October 19, 2026 · By Betty Rodriguez - patrikajournal.com

Foto : Betty Rodriguez - patrikajournal.com

হাজীগঞ্জে দোকান বিক্রির অর্থ নিয়ে বিরোধে তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

Patrikajournal.com – ৪২ ল খ ট ক র দ - চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বড় মসজিদকে কেন্দ্র করে মকিমাবাদ শপিং সেন্টারের একটি দোকান নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ এখন আদালতে গড়িয়েছে। ৪২ লাখ টাকা দিয়ে দোকান কেনার পরও সেটি না পাওয়ার অভিযোগে করা মামলায় বড় মসজিদের বর্তমান মোতাওয়াল্লি প্রিন্স শাকিল আহম্মদ ও তাঁর বাবা, সাবেক মোতাওয়াল্লি ড. আলমগীর কবির পাটোয়ারীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই ঘটনাকে ঘিরে তাঁদের করা পাল্টা মামলায় ব্যবসায়ী কবির হোসেন লিটনের ক্ষেত্রেও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার বিকেলে চাঁদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৃথক দুই মামলার শুনানি শেষে বিচারক মোহাম্মদ মুজাহিদুর রহমান এ আদেশ দেন। দুই পক্ষের অভিযোগ ভিন্ন হলেও ঘটনাগুলোর সূত্র একই শপিং সেন্টার ও সেখানে দোকান কেনাবেচা বা নির্মাণকাজসংক্রান্ত লেনদেন।

দোকান বুঝিয়ে না দেওয়ার অভিযোগ

ব্যবসায়ী মো. কবির হোসেন লিটনের অভিযোগ, হাজীগঞ্জের মকিমাবাদ শপিং সেন্টারে একটি দোকান কেনার জন্য তিনি ৪২ লাখ টাকা দেন। তাঁর দাবি, অর্থ নেওয়ার পরও তাঁকে দোকানের দখল বা মালিকানা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে তাঁর দেওয়া টাকা ফেরতও দেওয়া হয়নি বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই অভিযোগে গত ৭ জুলাই তিনি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলাটিতে দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারা যুক্ত করা হয়। ৪০৬ ধারা সাধারণত অর্পিত সম্পদ বা অর্থের বিশ্বাসভঙ্গসংক্রান্ত অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত, আর ৪২০ ধারা প্রতারণার অভিযোগে ব্যবহৃত হয়। তবে মামলায় এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতের চূড়ান্ত রায়ে নির্ধারিত হবে।

মামলার তদন্ত শেষ হওয়ার পর প্রিন্স শাকিল আহম্মদ ও ড. আলমগীর কবির পাটোয়ারীর নামে সমন জারি করা হয়। নির্ধারিত দিনে তাঁরা স্বেচ্ছায় আদালতে উপস্থিত হলে বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

প্রিন্স শাকিল আহম্মদের বয়স ৪২ বছর এবং তাঁর বাবা ড. আলমগীর কবির পাটোয়ারীর বয়স ৭০ বছর। প্রিন্স শাকিল বর্তমানে হাজীগঞ্জ বড় মসজিদের মোতাওয়াল্লির দায়িত্বে আছেন, আর তাঁর বাবা আগে একই দায়িত্ব পালন করেছেন।

অর্থ গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার

দোকান বিক্রির জন্য ৪২ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ মানছেন না অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি। তাঁদের পক্ষ থেকে এ অর্থ গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে। ফলে আদালতে এখন মূল প্রশ্নগুলোর মধ্যে রয়েছে—কোনো অর্থ লেনদেন হয়েছিল কি না, দোকান হস্তান্তরের কোনো প্রতিশ্রুতি ছিল কি না এবং অভিযোগকারীর দাবি ও প্রতিপক্ষের অস্বীকৃতির পক্ষে কী ধরনের প্রমাণ উপস্থাপিত হয়।

প্রথম মামলায় আসামিপক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আহসান হাবিব। বাদীপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাইফুল মোল্লা। অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাইফুল মোল্লা আদালতের কারাগারে পাঠানোর আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ কোনো মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নয়। মামলার তদন্ত, অভিযোগের প্রমাণ, সাক্ষ্য ও আইনগত যুক্তি পর্যালোচনার পরই অভিযোগ প্রমাণিত কি না, সে বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে।

ঠিকাদারি কাজ নিয়ে পাল্টা অভিযোগ

একই বিরোধে কবির হোসেন লিটনের বিরুদ্ধেও মামলা করেছেন প্রিন্স শাকিল আহম্মদ। গত ২২ জুলাই দায়ের হওয়া ওই পাল্টা মামলাতেও দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় কবির হোসেন লিটনের পাশাপাশি সিরাজুল ইসলাম, মো. শাহ আলম এবং মুহাম্মদ রাহমাতুল্লাহকে আসামি করা হয়।

পাল্টা মামলার বক্তব্যে কবির হোসেন লিটনকে একজন ঠিকাদার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, মকিমাবাদ শপিং সেন্টারে বিভিন্ন নির্মাণকাজের দায়িত্ব পালনের সময় তিনি অন্য আসামিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে প্রতারণা করেছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করার অভিযোগও তোলা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা পড়ার পর কবির হোসেন লিটনের নামে সমন জারি করা হয়। পরে বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

দুই মামলায় একই ধরনের আইনি ধারা থাকলেও অভিযোগের ভিত্তি আলাদা। একদিকে দোকান ক্রয়ের জন্য অর্থ পরিশোধ ও দোকান না পাওয়ার দাবি রয়েছে; অন্যদিকে নির্মাণকাজের দায়িত্ব, কাজ সম্পন্ন না হওয়া এবং প্রতারণার অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাই প্রতিটি মামলার উপাদান, সাক্ষ্য ও নথি পৃথকভাবে বিবেচনা করা হবে।

বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো বাকি

মকিমাবাদ শপিং সেন্টারকে ঘিরে ওঠা এই বিরোধে আদালতের বর্তমান আদেশে তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত বিচারিক ফল এখনো জানা যায়নি। কোনো পক্ষের অভিযোগ বা পাল্টা অভিযোগ এখন পর্যন্ত আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানের পক্ষে আইনগত লড়াই চালাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে তদন্ত নথি, আর্থিক লেনদেনের কাগজপত্র, দোকানসংক্রান্ত দলিল, নির্মাণকাজের চুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট সাক্ষ্য মামলার গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

হাজীগঞ্জ বড় মসজিদের বর্তমান ও সাবেক মোতাওয়াল্লির সঙ্গে ব্যবসায়ীর এ আইনি বিরোধ স্থানীয়ভাবে আলোচনার সৃষ্টি করলেও আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সবাই অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনগতভাবে নিজেদের প্রতিরক্ষার সুযোগ পাবেন।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ৪২ ল খ ট ক র দ?

৪২ ল খ ট ক র দ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ৪২ ল খ ট ক র দ matter?

৪২ ল খ ট ক র দ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.